বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

সিলেট পর্ব শেষে ঢাকায় আজ আবার বিপিএল শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার : সিলেট পর্ব শেষে আজ আবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে বিপিএল। দুপুর দেড়টায় প্রথম ম্যাচটি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রাজশাহী কিংসের মধ্যে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামাইটস আর চিটাগাং ভাইকিংস।ফলে পাঁচ দিন নীরব থাকার পর আবার সরব হচ্ছে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। গতকাল সকাল সকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলনে এসে হাজির হন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস এবং শহিদ আফ্রিদির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ আর সৌম্য সরকারের রাজশাহীও চুটিয়ে অনুশীলন করলো। আর বিকেলে নামার আগে নিবিড় এক প্র্যাকটিস করেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা। এই তিন দলের অনুশীলন করার দুটি কারণ। এক নম্বর কারণ, গতকাল সিলেট পর্বের শেষ দিন এই চার দলের কারোরই খেলা ছিল না। তাই তারা আগে ভাগেই রাজধানীতে ফিরে এসেছিল। আর দ্বিতীয় কারণ হলো, আজ থেকে শেরে বাংলায় যে তিন দিনের ছোট্ট তৃতীয় পর্ব শুরু হবে, সেখানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ডায়নামাইটস আর রাজশাহী কিংস- তিন দলেরই খেলা আছে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি তিন দিনে ছয় ম্যাচের পর আবার একদিন বিরতি (২৪ জানুয়ারি)। এরপর ২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্দর নগরী চট্টগ্রামে চতুর্থ পর্ব। সাত দলের ডাবল লেগের এ আসরের ২১+২১ = ৪২ ম্যাচের মধ্যে ঢাকায় সাত দিনের প্রথম পর্বে হয়েছে ১৪টি ম্যাচ। আর সিলেটে হয়েছে আটটি । অর্থাৎ মোট ২২টি ম্যাচ ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। আরও ২০ টি খেলা বাকি। ঢাকায় তিন দিনে হবে আরও ছয় ম্যাচ। তারপর চট্টগ্রামে হবে ১০ ম্যাচ। এরপরও রাউন্ড রবিন লিগের চার খেলা বাকি থাকবে। সেই ম্যাচ গুলো হবে ঢাকায়; ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি। এরপর বিপিএল গড়াবে নক আউট পর্বে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই পর্বে থাকবে পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে থাকা চার দল। এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে সর্বাধিক ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট (+১.৯৪২ নেট রানরেট) নিয়ে সবার ওপরে থাকা সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটসের অবস্থান অনেক মজবুত। শতভাগ নিশ্চিত, একথা বলা না গেলেও সেরা চার দলে থাকার লড়াইয়ে বাকিদের চেয়ে ঢাকা অনেক এগিয়ে। সাকিবের ঢাকার পর পরই পয়েন্ট টেবিলে স্থান মুশফিকুর রহীমের চিটাগং ভাইকিংস ও তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে পাওয়া ৮ পয়েন্ট (+০.৩৫৬ নেট রানরেট) নিয়ে চিটাগাংও শীর্ষ চারে থাকার দৌড়ে বেশির ভাগ দলের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে এ মুহূর্তে সেরা চারে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও। দলটির সংগ্রহ ভান্ডারে জমা পড়েছে ৮ পয়েন্ট, ৬ ম্যাচে ৪ জয়ে, নেট রানরেট ০.২২৬। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স ৭ ম্যাচে ৩ জয় ৬ পয়েন্ট (+০.২৪৬ নেট রানরেট) আছে পাঁচ নম্বরে। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে মিরাজের রাজশাহী কিংস। রাজশাহীর পয়েন্ট ৬ খেলায় ৬ (তিন জয়ে)। সিলেট সিক্সার্স আর খুলনা টাইটান্স দিনকে দিন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে। সমান সাত খেলায় সিলেট জিতেছে দুটিতে। আর খুলনার জয় সংখ্যা মোটে একটি। অতি নাটকীয় কিছু না ঘটলে সিলেট ও খুলনার সেরা চার দলে থাকার সম্ভাবনা  বেশ কম। এর মধ্যে খুলনার বিদায় ঘণ্টা প্রায় বেজে গেছে। সেরা চারে থাকতে হলে পরের পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জিততেই হবে। তারপরও তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি দলগুলোর ম্যাচের ফলের দিকে। কাজেই ধরে নেয়া যায়, ঢাকা ডায়নামাইটস, চিটাগাং ভাইকিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, রংপুর রাইডার্স আর রাজশাহীর যে কোন চার দলের সেরা চারে থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে ঢাকা ও সিলেট পর্ব শেষে ঢাকা, চিটাগাংয়ের অবস্থান বাকিদের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ। এর পরপরই আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও। চার নম্বরে থাকা নিয়ে জোর লড়াই রংপুর ও রাজশাহীর। ঢাকায় কাল থেকে  যে তিন দিনের ছোট্ট পর্ব, সেখানে সমান দুটি করে ম্যাচ খেলবে ঢাকা ডায়নামাইটস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, চিটাগাং ভাইকিংস, রাজশাহী কিংস ও খুলনা টাইটান্স। আর রংপুর ও সিলেট খেলবে মাত্র একটি করে ম্যাচ। কাজেই এ পর্বে ঢাকা ডায়নামাইটস, চিটাগাং ভাইকিংস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আরও এগিয়ে যাবার সুযোগ আছে। তবে এই তিন দিনে ঢাকার দু’দুটি বড় ম্যাচ। প্রথমে চিটাগং ভাইকিংসের সাথে (২১ জানুয়ারি) আর পরে কুমিল্লার সঙ্গে (২২ জানুয়ারি)। দেখা যাক, এই তিন দিনে পয়েন্ট টেবিলের কোন রদবদল ঘটে কি না? ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া বিপিএলের প্রথম পর্ব শেষে ৪ ম্যাচের সবকয়টি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই ছিলো স্থানীয় দল ঢাকা ডায়নামাইটস। আসরের প্রথম ১৪ ম্যাচ ঢাকায়  খেলে বিপিএল চলে গিয়েছিল সিলেটে, পরবর্তী ৮ ম্যাচের জন্য। সিলেটের সমর্থকেরা আশায় বুক  বেঁধেছিল হয়তো গতবারের ন্যায় এবারো নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত খেলবে সিলেট। কিন্তু তাদের আশা পূরণ হয়নি। বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষেও খুব একটা ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি সিলেটের। ঢাকা পর্বের মতোই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সিলেটে হওয়া ৮ ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে ৪ ম্যাচ খেলেছে সিলেটই। কিন্তু জিততে পেরেছে মাত্র ১ ম্যাচে। ঢাকা পর্বে ৩ ম্যাচে ১ জয় পাওয়া সিলেটের বর্তমান অবস্থা ৭ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে। সিলেটে সিলেটের ভাগ্য না খুললেও, অধরা জয়ের দেখা ঠিকই পেয়েছে খুলনা টাইটানস। ঢাকা পর্বে চার ম্যাচ খেলে কোনো জয় পাওয়া খুলনা, সিলেটে খেলা প্রথম ম্যাচেই হারিয়েছিল রাজশাহী কিংসকে। তবে পরের দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় সাত ম্যাচ শেষে মাত্র ১ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানীতেই রয়েছে তারা।শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রাখতে পারেনি ঢাকা। সিলেটে দুই ম্যাচ খেলে জিতেছে সিলেটের বিপক্ষে, হেরে গিয়েছে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে। ছয় ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে তারাই এককভাবে অবস্থান করছে শীর্ষে। ঢাকা পর্বে চমক ছিলো চিটাগং ভাইকিংস। চার ম্যাচ খেলে  হেরেছিল মাত্র ১টিতে। সিলেট পর্বে কুমিল্লার পাশাপাশি অপরাজিত দলও তারাই। যদিও খেলেছে মাত্র ১ ম্যাচ। তবে তাতেই গড়েছে এবারের আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। ৫ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে তারাই অবস্থান করেছে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। এছাড়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস সিলেটে ২ ম্যাচ খেলে হারেনি একটিও। ৬ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে অবস্থান করছে তিন নম্বরে। ঢাকার মতোই জয়-পরাজয়ের অনুপাত সিলেটেও ধরে রেখেছে রাজশাহী কিংস। দুই ম্যাচ খেলেছে জিতেছে একটিতে, পরাজয় অন্য ম্যাচে। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স সিলেটে খেলেছে দুই ম্যাচ। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে খেলা এই দুই ম্যাচের প্রথমটিতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে। তবে পরের ম্যাচেই ১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছিল রংপুর।

সিলেট পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের চালচিত্র

ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ ম্যাচে ৫ জয় ১০ পয়েন্ট (+১.৯৪২ নেট রানরেট)

চিটাগং ভাইকিংস ৫ ম্যাচে ৪ জয় ৮ পয়েন্ট (+০.৩৫৬  নেট রানরেট)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ৬ ম্যাচে ৪ জয় ৮ পয়েন্ট (+০.২২৬ নেট রানরেট)

রংপুর রাইডার্স ৭ ম্যাচে ৩ জয় ৬ পয়েন্ট (+০.২৪৬  নেট রানরেট)

রাজশাহী কিংস ৬ ম্যাচে ৩ জয় ৬ পয়েন্ট (-০.৭৫  নেট রানরেট)

সিলেট সিক্সার্স ৭ ম্যাচে ২ জয় ৪ পয়েন্ট (-০.৮০৯  নেট রানরেট)

খুলনা টাইটানস ৭ ম্যাচে ১ জয় ২ পয়েন্ট (-০.৯৪৫  নেট রানরেট)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ