বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

টির দিনে বাণিজ্য মেলা যেন জনসমুদ্র

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রবেশ পথে ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবিটি গতকাল শুক্রবার তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ছুটির দিনে গতকাল শুক্রবার ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণ যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের স্রোতে মেলায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ক্রেতা আর দর্শনার্থী সমানে সমান। তবে অনেকেই কেনাকাটার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল সেলফি তোলা নিয়ে।
গতকাল শুক্রবার ছিল ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দশম দিন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের রাস্তা থেকে বাণিজ্য মেলার মূল ফটকের দূরত্ব হাঁটার রাস্তা মাত্র পাঁচ মিনিটের। তবে সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে মেলায় প্রবেশ করতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট।
জনসমুদ্রের মাঝেই মেলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নূরে জান্নাত। চার বছরের সন্তান, ভাই, মা ও ভাবিকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা জান্নাত। ভিড়ের কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দূর থেকে এভাবেই মেলায় প্রবেশ করছেন তিনি।
নূরে জান্নান বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। শ্বশুর বাড়ি রাজধানীর উত্তরায়। কর্ম দিবসগুলোয় পরিবারের সবাইকে সময় দেয়া সম্ভব হয় না। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে মেলায় এসেছি।
বামহাতে নাতির হাত চেপে ধরে ডানহাতে বেলুন নিয়ে মেলার মূল ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন রাজধানীর কাজীপাড়ার বাসিন্দা মো. হাসান আলী। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। আমার নাতি মো. কাইফও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ওর-ও ছুটি হয় না, আমারও হয় না। শুক্রবারে ছুটি পেয়েছি দু’জনে, তাই ঘুরতে এসেছি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় আসা দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণ যেমন ঘুরে ঘুরে দেখছেন তেমন আবার কেনাকাটাও করছেন বেশ। সবধরনের প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্টেই রয়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
মিস্টার নুডলস প্যাভিলিয়নের কর্মচারী মনিষা বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড়। অন্যান্য দিনের তুলনায় আমাদের বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
মেলায় ক্রেতা আর দর্শনাথীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে শের ই বাংলা নগর কেন্দ্রীয় সব কয়টি রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। বিকেলের দিকে দেখা গেছে হাজার যাত্রা যাত্রাবাড়ি থেকে পায়ে হেটে মেলা প্রঙ্গণে যেতে। অনেকে আবার নিজের ব্যবহারিত প্রাইভেট কার ছেড়ে দিয়ে পায়ে হেটে মেলায় যেতে দেখা গেছে। অনেকেই যানজটের ঝামেলা এড়াতে প্রাইভেট কার ব্যবহার না করে পাঠাও এর বাইন সাভিস নিয়েছে। কিন্তু যাদেও পরিবার সাথে ছিল তাদের দূরভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
একইভাবে মেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে একই চিত্র। এখানে প্রথমে টিকেট কাটতে ভিড় আবার মেলায় প্রবেশ করতে ভিড়। এ দুই ভিড় পাড়ি নিয়ে মেলায় প্রবেশ করতে প্রায় দু ঘন্টা লেগে গেছে। যারা মেলায় সকালে প্রবেশ করেছেন তাদের কেউ কেউ বাসা থেকে দুপুরের খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন। অনেকে আবার মেলার হোটেলে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেছেন। বরাবরের মত এবারও ভোক্তাদের অভিযোগ মেলায় সবচেয়ে বেশি দাম খাবারের।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবারের বাণিজ্য মেলা ৮ দিন পিছিয়ে গত ৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। মেলা শুরুর পর ১১ জানুয়ারি (শুক্রবার) দিনও ছিল এমন উপচে পড়া ভিড়। মাসব্যাপী এ মেলা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।
মেলার গেট ও বিভিন্ন স্টল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। এবার প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রবেশে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়াও অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে এবারের মেলার টিকিট।
মেলায় এবার প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল রয়েছে ৪১২টি।
বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের মোট ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হলো- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ