বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১৯ জানুয়ারি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতীক। ১৯৩৬ সালের এমনি এক শীতার্ত দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মাতা-পিতা তখন আদর করে নাম রাখেন কমল। দেশ, মাটি ও মানুষের জন্যে আমৃত্যু নিবেদিতপ্রাণ এই ব্যক্তিত্বের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ দল নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। তার কর্মময় জীবনের ওপর সংবাদমাধ্যম বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এমন একটি দিনে তার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে যখন শহীদ জিয়া, তার সহধর্মিনী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আবদ্ধ। কথিত দুর্নীতির মামলায় গত প্রায় এক বছর সাবেক এ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে দিনাতিপাত করছেন। মূল মামলায় বারবার জামিন হলেও অন্য মামলায় তাকে আটক দেখানো হচ্ছে। কারাগারে থাকলেও তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা অপপ্রচার অব্যঅহত রয়েছে। তাকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের চেষ্টা করার পাশাপশি বিএনপিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারের রোষানলে পড়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই মামলায় জর্জরিত। এছাড়া এমন এক সময়ে বিএনপি তার দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন পালন করছে যখন দলটির বিুরদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে নির্যাতনের স্টীমরোলার। তবে এতো নির্যাতন সত্ত্বেও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা।
সূত্র মতে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। খাল কাটার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। তার সময়ই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠে। জিয়াউর রহমানই দেশে গার্মেন্ট শিল্পের প্রসার ঘটান। মধ্যপ্রাচ্যসহ বহিঃরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেন জিয়াউর রহমানই। তার আমলেই জনশক্তি রফতানির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটে। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের কাছে প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ,’ ৯১ সালের ৫ম সংসদ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের ৪র্থ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে।
এ ছাড়া সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন মহাজোটের অধীনে অনুষ্ঠিত একতরফার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ দল। এই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্ধীই ছিল না। বাকি ১৪৭ আসনের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৮ দলীয় জোটসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই নির্বাচন বর্জন করে। একতরফার এই নির্বাচনে সমর্থন জানায়নি দেশী-বিদেশী কোনো সংস্থাই। ভোটারবিহীন সেই নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী জোট দ্রুত সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেন বিএনপি। এই নির্বাচনে আগের দিন রাতেই নৌকার পক্ষে ক্ষমতাসীণরা ব্যালটে সীল মারে। এটি এখন দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত। বিএনপিসহ বিরোধী জোট এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুন:নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে।
মহাসচিবের বাণী: গতকাল এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূণ:প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণের প্রবক্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারী হয়ে শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন এবং যুদ্ধে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। স্বাধীনতাত্তোর দূ:সহ স্বৈরাচারী দূঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত হয় ঠিক সেই সংকটের এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দ্বারা জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি-স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিলো দূর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে, বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আন্তর্জাতিক খেতাবপ্রাপ্ত হতে হয়, জাতির এরকম এক চরম দু:সময়ে ৭ নবেম্বর সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া ক্ষমতার হাল ধরেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। উৎপাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পূণর্খনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষর দান করেন। এ ছাড়া গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ঠউচ) গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, ফলে তাঁর আমলে ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত হয় এবং তাতে গ্রামীন জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি হয়। শহীদ জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। তাই সকল ধরনের বৈদেশিক চাপ ও অশুভ প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ শহীদ জিয়ার এক অবিস্মরণীয় অবদান। যার কারনে দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হয় এবং স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনক্শা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তাঁর এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি ফুটে ওঠে-যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের আত্মপরিচয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও অবিণাশী দর্শন। শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তাঁর প্রদর্শিত পথেই আমরা আধিপত্যবাদের থাবা থেকে মুক্ত হবো ও গণতন্ত্র ফিরে পাবো। আর এর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারের কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে।
আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার পূণ:রুদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি
কর্মসূচি : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে আজ শনিবার ভোর ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে দলটির সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এ দিকে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার মাজার প্রাঙ্গণে আজ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করবে ড্যাব। এ ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া রাজধানীতে র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটিতে গরিব দুঃস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়া জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সেমিনার, র‌্যালি, সেম্পোজিয়ামসহ নানা কর্মসূচির পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ