বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমেই অন্ধকার থেকে আলোতে উঠে আসতে হবে

গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নয় আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন একটি কাজে দিয়েছে, তা হলো আওয়ামী লীগ চিরদিনের জন্য জনগণের মন থেকে দূরে সরে গেছে। পরাজয় আমাদের হয়নি, পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগের, নৈতিকভাবে তাদের পরাজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেই দল, যারা শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায়, ছাড়তে চায় না। সংবিধান এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে। তিনি বলেন, দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের অন্ধকার থেকে আলোতে উঠতে হবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ সভার আয়োজন করে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের যৌথ পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড.আবদুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর (বীর উত্তম), ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। যারা প্রার্থী ছিলেন নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মামলা থেকে পরিত্রাণ ও জেল থেকে মুক্ত করাতে হবে। যেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী ছিল না, সেখানে দলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে পরীক্ষিতদের সামনে আনতে হবে। এরপর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।    
দলটির স্থায়ী সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করে দিয়েছে। কীভাবে নির্বাচন করবো।এখন আমাদের দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো পুনর্বাসন আর অন্যটি পুনর্গঠন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার লাখ লাখ নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন করতে হবে। দলের ত্যাগীদের সামনে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের সামনে এনে পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা সামনে থেকে সরে যাবো। তারপরও দলকে আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পুনর্গঠন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, পরাজয় মনে করলেই পরাজয়। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের যেসব ভাইয়েরা পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।
দেশে উন্নয়নের প্রথম ভিত্তি করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, হতাশার কোনও জায়গা নেই, হতাশাগ্রস্তরা জিয়াউর রহমানের অনুসারী হতে পারে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। আমাদের ভাইদের এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে এই শপথ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমাদেরকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আলোতে উঠে আসতে হবে। এজন্য যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরই রক্ষা করতে হব। জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন সামনের দিকে এগিয়ে জেতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ