সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পাটের অভাবে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি মিলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম

খুলনা অফিস : পাটের অভাবে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি মিলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাটকল বাঁচাতে জাতীয় বাজেটে পাট খাতে অর্থ বরাদ্দ, পাট মওসুমে মিলে অর্থছাড়, বিএমআরই, পাট দিয়ে বিকল্প পণ্য তৈরি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি জবাবদিহিতাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণের দাবি শ্রমিক কর্মচারীদের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এক সময় বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের আওতায় ৭২টি পাটকল ছিল। নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর পৃষ্ঠপোষকতাহীনতার কারণে ধুকে ধুকে অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে। ধুকে ধুকে টিকে আছে ২২টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। তাছাড়া বিশ্বায়নের ও মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ খাত। পাটের প্রতি অনীহা ও পরিকল্পনার অভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাটখাত।
এদেশের পাটের প্রতি বিশ্বের অনেক দেশের ষড়যন্ত্র আগেও ছিল বর্তমানেও আছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট শিল্পকে বাঁচাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা প্যাকেজিং অ্যাক্ট করে দেশের বিভিন্ন শিল্পে পাট পণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের আইন করেছে। তারপরও কেন পাট খাতে সমস্যা? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা মনে করেন। ধাপে ধাপে পাটের বিষয়ে কতগুলো উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। বর্তমান বিজেএমসির আওতায় ২২টি পাটকল টিকে আছে। এ পাটকলগুলোর মেশিনারিজ অতি পুরাতন। সেগুলো আগের মতো উৎপাদন দিতে সক্ষম নয়। সেগুলো বিএমআরই করতে, মওসুমে পাট ক্রয় করতে এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অর্থ প্রয়োজন। তাই জাতীয় বাজেটে অর্থবরাদ্দ রাখতে হবে দেশীয় কাঁচামালের তৈরি এ শিল্প খাতে। কথায় আছে সময়ের এক ফোড় আর অসময়ের দশ ফোড়। বেশির ভাগ সময়ে যথাযথ মওসুমে পাট ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে কৃষকের ঘরের পাট তখন বেপারিদের হাতে চলে যায়। তখন অধিক মূল্যে পাট ক্রয় করতে হয় প্রতিটি মিলে। কিনে লাভ না হলে বেচে লাভ করা সম্ভব না।
বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে পাট ক্রয় তিন দফায় ৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার প্রায়। শুধু খুলনা অঞ্চলে ৯ পাটকলে বাজেট উৎপাদনের জন্য ১৯ হাজার মণ পাট দরকার। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ নয় পাটকলে পাট ক্রয় খাতে বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ৩৮ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত চাহিদার ১৮ ভাগ পাট ক্রয় করেছে মিলগুলো। গতকাল পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ দিনের উৎপাদন চলবে এমন পাট আছে। অর্থাভাবে পাট ক্রয় করতে পারছেনা। পাট ক্রয় করতে না পারলে উৎপাদন বন্ধ হবার সম্ভাবনা।
পাট পণ্যের চাহিদা দেশের বাজারে সৃষ্টি করার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে না পারলে ৮০ ভাগ উৎপাদিত পণ্য মজুদ থেকে যাবার সম্ভাবনা।
পাট খাতের বিষয়ে খুলনা আঞ্চলিক পাট শ্রমিক লীগের নেতা মো. মুরাদ হোসেন বাজেটে পাট খাতে বরাদ্দ দেয়াসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট খাতকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতে সাফল্য অর্জনকারী রাজনীতিবিদ গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দন্তগীর গাজী বীরপ্রতীক এমপিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি পাট খাতকে বাঁচাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন জানান, মিলের বিষয়ে বিগত পাটমন্ত্রী কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মিলের পাট, যন্ত্রাংশ, উৎপাদিত পণ্য পরিবহণ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। এসব বন্ধ করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বেল পাট ক্রয় বন্ধ করে লুজ পাট ক্রয় করলে মিলের অর্থ সাশ্রয় ও উৎপাদন ভাল পাওয়া সম্ভব। সকল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সরকারের বর্তমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী পাট খাতকে বাঁচাতে ও জাগাতে কার্যকরী এসব পদক্ষেপ নিয়ে পাটের সোনালী অতীত ফেরাবেন এমনটাই প্রত্যাশা এ খাতের সাথে জড়িত মানুষের।
বিজেএমসির বিপণন বিভাগের প্রধান মামুনুর রশিদ জানান, আমাদের দেশের পাটজাত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদানসহ কয়েকটি দেশে প্রচুর রফতানি হতো। এসব দেশে চাহিদাও ছিল অনেক। দেশগুলোতে আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক অবরোধ থাকায় রফতানি বন্ধ রয়েছে। ভারতে এন্টি ডাম্পিংয়ের কারণে রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে খুলনা অঞ্চলের ৯ পাটকলে ৩০০ কোটি টাকার উৎপাদিত পণ্য অবিক্রিতসহ ২২টি পাটকলে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকার পণ্য মজুদ রয়েছে। তবে ঘানাসহ কয়েকটি দেশ পাটপণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হয়েছে বলে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এছাড়া দেশের বাজারেও বেশ কিছু পণ্য বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য আশির দশকে আমেরিকা আফ্রিকাসহ ৫টি দেশে সেলস্ অফিস ছিল। ৯০ দশকে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। অফিসগুলো থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে বেশি কার্যকরী হত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ