মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

আফজালদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরখাস্তকৃত মেডিকেল এডুকেশন শাখার একাউন্টস অফিসার আফজাল হোসেন জাদু জানতেন বলেই হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বানাতে পেরেছেন। দেশে-বিদেশে তাঁর কত টাকার সম্পদ জমেছে তার হিসেবে মেলাতে দুদকের কর্মকর্তারা প্রায় গলদঘর্ম। উত্তরার এক সড়কেই তাঁর পাঁচটি বাড়ি। গুলশান, বনানী, বারিধারায় আরও ২০টি। উল্লেখ্য, সারাদেশে প্লট-বাড়ি কেনায় সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। শুধু দেশেই নয়; তাঁর সম্পদের পাহাড় রয়েছে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং আমেরিকাতেও। প্রকাশ, দেশ-বিদেশে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তাঁর মোট সম্পদ টাকায় হিসেব কষতে হিমশিম খাচ্ছেন দুদকের ঝানু কর্মকর্তারাও। তবে মাত্র ২৪ বছরের চাকরিজীবনে ১৫ হাজার কোটি টাকার মতো সম্পদ অর্জন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। জাদু ছাড়া এমনটা কারুর পক্ষে আসলেই কি সম্ভব?
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার একাউন্টস্ অফিসার আফজালই কেবল নন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে আরও অনেক আফজাল রয়েছেন যারা নিজের সম্পদের হিসেব জানেন না। শুধু নিজের নামেই না; বউ, বেটি, পুত্র, প্রপুত্রসহ বেনামেও অফুরন্ত অগণিত সম্পদ যেমন দেশে জমিয়েছেন, তেমনই বিদেশেও পাচার করেছেন অঢেল অর্থসম্পদ। এই আফজালদের টাকা সুইজ ব্যাংকে যেমন ফুলে-ফেঁপে উঠছে প্রতিদিন, তেমনই এদের টাকায় বিলাসবহুল আলিশান বাসভবনসহ আকাশ্চুম্বি কমার্শিয়াল টাওয়ার পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে।
দুদকের দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজ টাকার জাদুকর আফজাল হোসেনদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে চেষ্টা করছেন। এজন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। সাফল্য কামনা করি। সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করলে শতবাধা সত্ত্বেও সাফল্য আসবে বলে আমরা মনে করি। দেশ এবং দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে চাইলে অবৈধ সম্পদের জাদুকর আফজালদের পাকড়াও করে আইনের হাতে সোপর্দ করতেই হবে। সৃষ্টি করতে হবে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ