শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

শাস্তি হলো কোটিপতি ব্যবসায়ীর জেল খাটলো সিএনজি চালক

ইবরাহীম খলিল : এনআই এ্যাক্টের মামলায় (মামলা নম্বর-৮৩৯/২০২৭) ঢাকার ৭ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত কর্তৃক ২ মাসের সাজা হয়েছিল রাজধানীর উত্তরার-৭ নম্বর সেক্টরের ১০৫ নম্বর প্লটের মালিক মৃত হাজী আবদুস শুক্কুরের ছেলে ‘মেসার্স কিংস ফুডে’র স্বত্বাধিকারী কোটিপতি ব্যবসায়ী  মো. ফরিদ হোসাইনের। কিন্তু তার পরিবর্তে ২ মাস জেল খেটেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার সিএনজি চালক ফরিদ। কোটিপতি ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসাইনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের একই এলাকায়। পুলিশ বলছে, জেল খাটা সিএনজি চালকের বাবার নাম আর ব্যবসায়ী ফরিদের বাবার নাম একই। তাই তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
তবে ফরিদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় এক বছরের জেল হওয়ায় সিএনজিচালক ফরিদকে আদালতে আনা হলে মামলার বাদী মোহাম্মদ শাহীন আলম এবং আইনজীবীরা তাকে নিজেদের বিবাদী নয় বলে দাবি করেন। পরে বিচারক বিচক্ষণতার সাথে বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নেন এবং বাঁশখালী  থানার ওসি কামাল হোসেন গ্রেফতারকারী এএসআই আবদুল মুনাফকে আদালতে তলব করেন। তবে আসল অভিযুক্ত মো. ফরিদ হোসাইন বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ০৪/১১/২০১৮ তারিখে কোটিপতি ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসাইনের পরিবর্তে সিএনজিচালক ফরিদকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা পুলিশ। ওইদিন তাকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে আদালতে চালান দেওয়া হয়। 
গতকাল রোববার ঢাকার বিজ্ঞ বিশেষ যুগ্ম-দায়রা জজ ও বিচারক পরিবেশ আদালত ঢাকার হাকিম মো. শওকত হোসাইনের আদালতে ৮৫২৮/১৫ এর সি-আর মামলার এন-আই এ্যাক্ট ১৩৩/২০১৫ এর শুনানীতে মামলার বাদী মোহাম্মদ শাহীন আলম, সাজা খাটা সিএনজিচালক ফরিদ, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন, একই থানার সিএনজিচালক ফরিদকে গ্রেফতারকারী এএসআই মুনাফ উপস্থিত হন। তবে মামলার আসল আসামী ফরিদ আদালতে উপস্থিত হননি।
এতে বিচারক বাঁশখালী থানার ওসিকে আসল আসামী কোটিপতি মো. ফরিদ হোসাইনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। সেইসাথে আসল আসামী ফরিদ হোসাইনের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার নথি এবং তথ্য উপাত্ত দেওয়াসহ সন্দেহভাজন স্থানীয় মেম্বার মনিরুলকে আসামী ২৩/০১/২০১৯ তারিখে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। অন্যথায় ওসির লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়ে দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহীন আলমের দায়ের করা এন-আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলায় ঢাকার সপ্তম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত রাজধানীর উত্তরার-৭ নম্বর সেক্টরের ১০৫ নম্বর প্লটের মালিক মৃত হাজী আবদুস শুক্কুরের ছেলে ‘মেসার্স কিংস ফুডে’র স্বত্বাধিকারী  মো. ফরিদ হোসাইনকে দুই মাসের জেল দেন। সাজাপ্রাপ্ত মো. ফরিদ হোসাইনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার নাটমুড়া গ্রামে। এই সাজা ওয়ারেন্ট বাঁশখালী থানায় পৌছালে থানা পুলিশ নাম এবং বাবার নাম মিল থাকায় সিএনজি চালক ফরিদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ইতিমধ্যে ২ মাস সাজা খাটা হয়ে গেছে। গতকাল সিএনজি চালক ফরিদকে জেল থেকে অব্যাহতি দেন বিচারক। আজ সোমবার তার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের বারান্দায় সিএনজি চালক ফরিদ এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, গ্রেফতার করার পর তাকে আত্মপক্ষ সমর্পনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি নিজে সিএনজি চালান। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তার ৫জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। গাড়ি চালাই ভাত খাই। বার বার চেষ্টা করেও ওসির সঙ্গে কথা বলতে পারেনি ফরিদ।
কিন্তু বাঁশখালী থানার ওসি কামাল হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নাম এবং বাবার নাম ঠিক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের পর আসামী শনাক্ত করার বিষয়ে পুলিশের উদাসিনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখা হয়নি বলে স্বীকার করেন ওসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ