মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [তিন]
চাঁদপুরের উত্তর মতলবে লুধুয়া গ্রামের জহির পাগল ধানের শীষ-ধানের শীষ বলে স্লোগান দিলে তাকে মারধর করে আওয়ামী লীগের লোকজন। মেহেরপুরের গাংনীতে সহড়াতলা গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। পটুয়াখালীর গলাচিপায় তেঁতুলতলা বাজারে বিএনপি অফিস ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ অফিসও ভাংচুর করা হয়।
শেরপুরের নলিতাবাড়ীতে মরিচপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির পোষ্টার ছিড়ে ফেলে উপজেলা কৃষক লীগ আহ্বায়ক খন্দকার শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন। চুয়াডাঙ্গা শহরে যুবদল জেলা সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজারকে কুপিয়ে জখম করে। বিএনপি ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে।
১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের হালিশহর নয়াবাজারে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের উপস্থিতিতে বিজয় র‌্যালী চলা কালে আওয়ামী লীগের হামলায় ৫ জন আহত হয়। পুলিশ উল্টা বিএনপির ৮ জনকে আটক করে। বাগেরহাটের শহরের সরকারী পি.সি কলেজ এলাকায় বিএনপির প্রার্থী এম.এ সালামের গাড়িবহরে আওয়ামী লীগের হামলায় ৯ জন আহত হয়। খুলনা-৩ আসনে বিএনপি কর্মীরা পোষ্টার লাগাতে গেলে ২ জনকে পিটিয়ে জখম করে আওয়ামী লীগ। পুলিশ আরিফ, শেখ রিয়াজ সাহেদ ও জাহিদুল ইসলাম মল্লিককে আটক করে। নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার ও আলীরটেক এলাকায় বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের প্রচারণায় হামলা করে আওয়ামী লীগ। তাদের হামলায় গাড়ি, অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর ও ১২ জন আহত হয়। টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলায় বেশ কিছু গাড়ি ভাংচুর ও ২০ জনকে আহত করে আওয়ামী লীগ। ফরিদপুর শহরে বিএনপির বিজয় র‌্যালী থেকে ফেরার পথে একাধিক স্থানে আওয়ামী লীগের হামলায় মোস্তফা, উসমান মাতুব্বর, সাজেদ মাতুব্বর, সোহেল মুন্সী, শরিফুল, এখলাছ, সুমন, শামীম ও ইলিয়াসসহ ১৫ জন আহত হয়। ব্র¥হ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহরে মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় তার গাড়ি ভাংচুর করা হয়। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মানসিরি পালপাড়ায় সিপিবির প্রার্থীর প্রচরণা কলে আওয়ামী লীগের হামলায় প্রার্থী জলি তালুকদার, পার্থ প্রতীম, অনন্ত সরকার ও শাহীন আলমসহ ৭ জন আহত হয়। মানশ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহীমের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। চাঁদপুর শহরে রিফিউজী কোলোনীতে বিএনপির গণসংযোগে হামলা করে আওয়ামী লীগ। হামলায় এস.আই আব্দুর রশীদ ও অন্য এক পুলিশসহ আহত ২০ জন। নোয়াখালীর সেনবাগে বিএনপির বিজয় মিছিলে হামলা ও গাড়ি ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। তাদের হামলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, পৌর সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লাহ, উপজেলা সভাপতি শাহাবুদ্দিন রাসেল ও পৌর ছাত্রদল সভাপতি ইমরান হোসেন স্বজনসহ আহত ২০ জন। নরসিংদীর পলাশে পাঁচদোনা বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির ওপর আওয়ামী লীগের লোকজন মেহেরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আমীর ও যুবলীগ নেতা কামাল মিয়ার নেতৃত্বে হামলায় আল মাহমুদ সনেট ও আকরামসহ ৫০ জন আহত হয়। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও ঘিওরে বিএনপির প্রার্থী এম.এ জিন্নাহর গাড়িবহরে আওয়ামী লীগের হামলায় ৯ জন আহত হয়। এ সময় তারা ৪টি প্রাইভেট গাড়ি ও ৪টি হাইয়েজ গাড়ি ভাংচুর করে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গত ২ দিন ধরে বিএনপির ১৬টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়। বিএনপি ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে। বরগুনার পাথরঘাটায় বাইনচটকি ফেরীঘাটে জাপা নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ। হামলায় জাপার হৃদয়, শুভ, লালচাঁদ, সবুজ, রাসেল খান ও নজরুল ইসলামসহ ১০ জন আহত হয়। পটুয়াখালীর মির্জগঞ্জে তাজেম ব্রিজ এলাকায় বিএনপির গণসংযোগে হামলা করে আওয়ামী লীগ। এ সময় সুমন দেওয়ান নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হয়।
১৭ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা আওয়ামী লীগের ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে বগুড়ায় গিয়ে আশ্রায় নেয়। তিনি অভিযোগ করেন রিটানিং অফিসারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে না পেয়ে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্বদইর গ্রামের বিএনপির সংখ্যালঘু সদস্য রামকৃষ্ণ সাহা ও রতন কুমার দাসকে কুপিয়ে মারত্মক ভাবে জখম করে আওয়ামী লীগ। সংখ্যালঘু হয়েও কেন তারা বিএনপির সাথে যোগ দিয়েছে এই কথা বলে পূর্বদইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৭-৮ জন এই হামলা চালায়। ফেনী-৩ আসনে তাকিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ হামলায় বিএনপির প্রার্থী আকবর হোসেন, দাগনভূঁঞা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছুট্টু, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর, দলিলুর রহমান দুলাল, আব্দুল করীম, ছাত্রদল নেতা আব্দুল হামিদ বেগ, শ্রমিক দল নেতা শাহ আলম, সাহাব উদ্দিন, আমজাদ হোসেন, পারজেল, জহির উদ্দিন বাবর, নিজাম হাওলাদার ও দেলোয়ার হোসেনসহ ২০ জন আহত হয়। পটুয়াখালীর দুমকিতে একাধিক হামলায় বিএনপি অফিস ভাংচুর ও ৮ নেতা-কর্মীক মারধর করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
১৮ ডিসেম্বর বরিশালের উজিরপুর ডাবেরকুল বাজার এলাকায় বিএনপির প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর গাড়িবহরে হামলা করে আওয়ামী লীগ। এ সময় বিএনপি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষে ৩০ জন আহত হয়। উজিরপুর উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক এ্যাডঃ শহীদুল ইসলাম মৃধার নেতুত্বে ৫০-৬০ জন ক্যাডারের হামলায় সান্টুর বহরে থাকা ৩টি গাড়ি ও ৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। হামলায় আহত হয় বরাকোঠা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাত্রদল কর্মী হানিফ মল্লিক, বিএনপি কর্মী রনি সরকার, মুন্না হাওলাদার, নিয়াজ খান, জাকির হোসেন, আরিফ হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনসহ ২০ জন। এ সময় বরাকোঠা বাজারে বিএনপির অফিস ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। জামালপুর সদরে হাটচন্দ্রা এলাকায় বিএনপির প্রচার কেন্দ্রে হামলা ও ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। ঢাকা-৯ আসনে তিলপাপড়া এলাকায় বিএনপির আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়। ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন এলাকায় বিএনপির সালাহ উদ্দিনের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়। যশোরের বাঘারপাড়ায় রায়ুপুর ইউনিয়নে বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান মুন্সীর বাড়ীতে হামলা-ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন ও মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ১০-১২টি মটর সাইকেল নিয়ে। ওমরপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী সবুজকে কুপিয়ে জখম করে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পালাকাটা বুড়িপুকুর এলাকায় বিএনপির প্রচারণায় আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপির ১০ জন আহত হয়। পুলিশ বিএনপি নেতা আব্দুল সাবেদ ও যুবদল উপজেলা আহবায়ক ইব্রাহিম খলিল কাকনকে আটক করে।
১৯ ডিসেম্বর নাটোর নলডাঙ্গায় বিএনপির প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবির ওপর ত্রিমোহনীতে আওয়ামী লীগের হামলায় ছবি আহত হয়। নোয়াখালী শহরে বিএনপি অফিসে আওয়ামী লীগের হামলা ও ভাংচুর। পুলিশ উল্টা শহর যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম আজাদকে আটক করে। বরিশাল মহানগরীর সাউথ কিং চায়নিজ রেস্তরায় সাংবাদিকরে সাথে সৌজন্য মতবিনিময় সভায় সাংবাদিককে হুমকি দেয় বরিশাল-২ বানারীপাড়া-উজিরপুর আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহে আলম। এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা সভা বর্জন করে। যশোর শহরে হাসপাতালের সামনে বিএনপির প্রচার মাইক ভাংচুর করে আওামী লীগ। নরসিংদীর শিবপুরে বিএনপির গণসংযোগে হামলা করে আওয়াী লীগ। এ সময় বিএনপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। ঢাকার আদাবরে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করে আওয়ামী লীগ। হামলায় মনির নামে এক কর্মী আহত হয়। ফরিদপুর শহরে চকবাজার চালপট্টির সামনে বিএনপির প্রচারণায় হামলা করে আওয়ামী লীগের হেলমেট বাহিনী। ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে নাগিরাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে আব্দুর রহীম ও সানী মাহমুদ নামে ২ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ শামসুদ্দিন গ্রুপ ও হামিদ মৃধা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে।
২০ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির ৮টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ বলে বিএনপির অভিযোগ। নাটোর শহরতলীর দিঘাপাতিয়া বাজারে জেলা তাঁতী দল নেতা আবুল কালাম আজাদ ও একই বাজারে সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হাশেমকে মারধর করে আওয়ামী লীগ। এ সময় আবুল হাশেমর মটর সাইকেল ছিনতাই করা হয়। নোয়াখালী-৪ আসনে আশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে মারধর করে আওয়ামী লীগের রিয়াজ ও সুফলের নেতৃত্বে একদল লোক। পুলিশ জাহাঙ্গীরকে আটক করে। অপর দিকে নেওয়াজপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও জেলা বিএনপি নেতা আবুল কালামকে সুধারাম পুলিশ আটক করে। নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ বিএনপি নেতা ও ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানসহ ৪ জনকে আটক করে। রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগ বিএনপি সংঘর্ষ হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী দোগাছি এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বিএনপির প্রচার কর্মী নূর ইসলামকে মারধর ও তার মাইক ছিনতাই করে এবং একই দিন রাণীশংকৈলে কাশিপুর ইউনিয়ন বাজারে বিএনপির ২ কর্মীকে মারধর করে পুলিশে দেয় আওয়ামী লীগ।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রৌহা নামাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান, মিজানুর রহমান, জুয়েল, রুহুল খান, আমিন খান ও বুলবুল আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা খলিল গ্রুপ ও রফিকুল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের দোকানপাটে একাধিক বার হামলা ও ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ। এ সময় তাদের হাতে ২০ জন আহত হয়। চুয়াডাঙ্গার খাদিমপুরে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শেরেগুলের বাড়ী, গোডাউনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আওয়ামী লীগ। ২১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ভূঁঞাপুর বিরমদী এলাকায় বিএনপির অফিস ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ