শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

কাউখালীতে পানের বাজার আকাশচুম্বী সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

মোঃ তারিকুল ইসলাম, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : এবারের শীতের প্রভাবে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাউখালী উপজেলার পান চাষীরা। এই শীতের মৌসুমে প্রচ- ঠান্ডার কারণে বরজের পান ও লতা পেকে হলুদ হয়ে ঝড়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার কয়েক হাজার পানচাষি।
উপজেলার পানচাষি সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার পানচাষি রয়েছে। এসব কৃষক প্রায় ২৫০-৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছে। পান চাষ লাভজনক কৃষি পণ্য হিসাবে সহজেই কৃষকরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে পাণ চাষ করে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই লাখ লাখ টাকা লাভ করা যায় এই স্বপ্নে কৃষকরা এখন বেশিরভাগ জমিতে পান চাষ করছে। পান চাষের সাথে জড়িত উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই পান চাষ। পান চাষ একটু সুখী কৃষি পন্য বিধায় শীত কুয়াশা ও প্রাকৃতিক বৈরিতা সহ্য করতে পারেন বিধায় সহজেই প্রকৃতিগত যে দুর্যোগের ফলে পান চাষে বিপর্যয় ঘটে। এর শিকার হন পানচাষিরা। পানচাষিরা সারা বছর লাভের মুখ না দেখলেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয় তাদের শীত কালের জন্য। কারন শীতকালে পানের দাম বেশী থাকে। যেখানে শীতকালে মাঝারি আকারের এক বীরা দাম ১০০-১৫০টাকায় বিক্রি হবার কথা ছিল সেখানে পান না থাকায় ৩৫০-৪০০ টাকা এক বীরা পান বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পানের বরজে পান না থাকায় পানের দাম বেশী হওয়া সত্বেও পান চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছে বিধায় দেনায় জর্জড়িত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে পান ক্রেতা পান্নু জমাদ্দার জানান, আগে এক বীরা পান বাজার থেকে ১০০ টাকার নীচে ক্রয় করা যেত বর্তমানে ৩৫০-৪০০ টাকায় পান ক্রয় করতে হচ্ছে । কাউখালীর ঐতিহ্যবাহী পান ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়। এছাড়া ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে দেশের বাহিরে রপ্তানী করা হয়।
মূলত এক কাঠা (তিন শতাংশ স্থানীয় মাপে) জমিতে ১ কুড়ি পানের লতা রোপন করা হয়। এতে সর্বমোট খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। গত বছর এই মৌসুমে যেখানে এক কাঠা জমির পান বিক্রি করেছে ৩০ হাজার টাকা। সেখানে এবছর পান পেকে ঝড়ে যাওয়ায় তা বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি কাঠায় লোকসান হচ্ছে ২০০০০ টাকা। উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের পান চাষী ফোরকান জানান, পান চাষীরা সাধারনত বছরের এই শীতের মৌসুমে লাভের আশায় থাকেন কিন্তু ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ড শীত এবং শৈত্য প্রবাহের বিগত সব বছরের চেয়ে এ বছর সবচেয়ে বেশী পান ও পানের লতা ঝড়ে গেছে। ডুমুজড়ী গ্রামের পান চাষী সুমল হালদার, আবু হাওলাদার, চিরাপাড়া গ্রামের চিত্ত রঞ্জন পাল জানান গত বছর পান চাষে ভাল লাভ হওয়ায় এবার অনেক কৃষক ধানের জমি কেটে আরো বেশী করে পান চাষ শুরু করে কিন্তু এই শীতে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। পান চাষে বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম কাউখালী উপজেলা থেকে সপ্তাহে দুইদিন সোম ও শুক্রবার লক্ষ লক্ষ টাকার পান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়। পিরোজপুর জেলা পান চাষী সমিতির আহ্বায়ক কমরেড নিমাই মন্ডল জানান, এ বছরে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সরকার পান চাষীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে আর্থিকভাবে আবারও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ