শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

খুলনায় বৃদ্ধের দুই হাতের কব্জি ও পায়ের রগ কর্তন মামলার প্রধান আসামী লিটু গ্রেফতার

খুলনা অফিস, ১০ জানুয়ারি : খুলনার বহুলালোচিত কৃষক সাদ্দাম হোসেন শেখের (৬৫) দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করা ও দুই পায়ের রগ কাটার ঘটনার প্রধান আসামি রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক রবিউল ইসলাম লিটুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি লিটুকে ঢাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাতে আহত সাদ্দাম হোসেনের ছেলে অসীম শেখ বাদি হয়ে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অপর আসামি নজরুল ইসলাম শেখ ওরফে নজু ফকিরকে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ গত ৮ জানুয়ারি তাকে আদালতের প্রেরণ করেন। এ ছাড়া থানা এ মামলার অন্য আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, ঢাকা থেকে পুলিশ রবিউল ইসলাম লিটুকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে খুলনায় আনা হয় এবং প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছেন। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলা ব্যাপারে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।  উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি সোমবার সাদ্দাম হোসেন শেখ ফজরের নামাজ শেষে স্ত্রীকে নিয়ে রূপসা সেতুর নিচে চা খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর ৭/৮ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় আহতের স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধামকি দিয়ে ধাওয়া দেয়। সাদ্দামের বাড়ি নৈহাটী ইউনিয়নের জাবুসা পশ্চিমপাড়ায়। এ ঘটনার পরের দিন ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার আহত সাদ্দামের ছেলে মো. অসীম শেখ বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাবুসা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম লিটু শেখকে প্রধান আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামীরা হলো একই গ্রামের ইশারাত ফকিরের ছেলে মো. রাসেল ফকির, মো. রাজু ফকির, মো. লিয়াকত ফকিরের ছেলে মো. শাকিল ফকির, আকমল ফকিরের ছেলে তূর্য্য ফকির, মৃত আরশাদ ফকিরের ছেলে মো. নজু ফকির, হাশেম ফকিরের ছেলে তামীম ফকির, হাফিজার মোল্লার ছেলে মো. নাদিম মোল্লা ও লোকমান ফকিরের ছেলে মো. কামাল ফকির। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৩/৪ জন জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সোমবার ফজরের নামাজ আদায় করার পর সকাল ৭টার দিকে তার বাবা সাদ্দাম হোসেন রূপসা সেতুর নিচে তোফাজ্জেলের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। দোকানে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে রূপসা সেতুর নিচে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, কুড়াল, আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরিসহ তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যানযোগে সেতুর নিচে পৌঁছে পিলারের আড়ালে অবস্থান করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামিরা পিলারের আড়াল থেকে বের হয়ে চারদিক থেকে তার বাবাকে ঘিরে ফেলতে থাকে। আসামিদের উপস্থিতিতে তার বাবার সন্দেহ হলে তিনি বাড়িতে ফোন দিতে গেলে লিটু শেখের হুকুমে অন্যান্য আসামিরা তাকে জাপটে ধরে। এ সময় কামাল ও নজু ফকির তার দুই হাত মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। রাসেল তার পিঠের ওপর উঠে গলা চেপে ধরে। এসময় তামিম চাপাতি দিয়ে তার ডান হাতের কব্জি এবং শাকিল চাপাতি দিয়ে বাঁ হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আর নাদিম ছুরি দিয়ে বাঁ পা ও কামাল ফকির চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান পায়ের গোড়ালির ওপর কুপিয়ে শিরা কেটে পা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে আমার মা ছায়রা বেগম ও ছেলে অসীম ঘটনাস্থলে যেতে গেলে নজু ফকির ও কামাল ফকির ধারাল অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে। এ সময় তাদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হতে থাকলে আসামীরা তার বাবার কেটে ফেলা হাত দু’টি নদীর পাড়ে ফেলে মোটরসাইকেল ও ভ্যানযোগে গ্রামের দিকে চলে যায়। এর আগে ২০১২ সালে একবার সাদ্দাম শেখকে কুপিয়ে জখম করেছিল সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ