শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

খুলনার নতুন দুই সরকারি স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা

খুলনা অফিস (১১ জানুয়ারি) : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রায় ৮ বছর পরও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি খুলনার নতুন দুই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রকল্প তৈরির ৬ বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়গুলোর ভবন নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আপাতত চতুর্থতলা পর্যন্ত কাজ শেষ করে, চলতি বছর থেকে বিদ্যালয় দু’টিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিলো। কিন্তু ভবন প্রস্তুত না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় দু’টি পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এদিকে নতুন দুই সরকারি স্কুলে নামকরণ ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য দুই জন প্রধানশিক্ষক পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রূপসা সেতুর কাছে লবণচরায় অবস্থিত ‘সালাউদ্দিন ইউসুফ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এর প্রধানশিক্ষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে ঠাকুর দাস তরফদারকে। ইতোপূর্বে তিনি খুলনার করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে বটিয়াঘাটায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের নাম করা হয়েছে ‘দেলদার আহমেদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। এখানে প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রতন কৃষ্ণ হাওলাদার। এর আগে তিনি বাগেরহাটে ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১১ সালের ৫ মার্চ নগরীর খালিশপুর প্রভাতি স্কুল মাঠের জনসভায় খুলনায় নতুন তিনটি স্কুল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের বছরই তিনটি স্কুল নির্মাণের প্রকল্প তৈরি করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু স্থান নির্বাচন নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা।
এনিয়ে অনেক সময়ক্ষেপণের পর নগরীর খানজাহান আলী থানার বালুর মাঠ এলাকায় একটি, লবণচরা এলাকায় একটি এবং সোনাডাঙ্গা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স এলাকায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে সোনাডাঙ্গা এলাকার বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েল পাশে বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব জমি বুঝে পেতেই সময় চলে যায় প্রায় তিন বছর। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর ২০১৫ সালে সবার প্রথমে খানজাহান আলী বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়। এরপর ২০১৬ সালের শুরুতে কৃষ্ণনগর এলাকার এবং জুনে লবণচরা এলাকায় নতুন সরকারি বিদ্যালয় নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিন ঘুরে ও শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরেই খানজাহান আলী বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হয়। ২০১৭ সালের শুরু থেকেই সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এ বছরও স্কুলটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু লবণচরা এলাকার বিদ্যালয়ের মূল অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষের পথে। বিদ্যালয়টির চতুর্থতলা পর্যন্ত হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক অনেক কাজ এখনো বাকি। বটিয়াঘাটা স্কুলের অবকাঠামো কাজ এখনো শেষ হয়ন। আনুষঙ্গিক প্রায় সব কাজই বাকি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাজিম রেজা বলেন, লবণচরা এলাকার ভবনটি চতুর্থ তলা পর্যন্ত পুরোপুরি সম্পন্ন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য ছেড়ে দিয়েছি। অন্যদিকে মাটির সমস্যার কারণে বটিয়াঘাটার ভবনের কাজ দেরি করে শুরু হয়েছে। এই ভবনটিও চতুর্থ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) গোলাম মাঈন উদ্দিন হাসান জানান, বিদ্যালয়ের ভবন দুটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় সেখানে এবছর ছাত্র ভর্তি করা যায়নি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে দ্রুত চালু করা যায় এজন্য দুই জন প্রধানশিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের মতো করে চেষ্টা করছেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ৬ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া দুঃখজনক। দ্রুত ভবনের কাজ শেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য আমরা স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছি। এ বছর থেকেই বিদ্যালয় দুটিতে যাতে ছাত্র ভর্তি করা যায়-সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ