বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় ৩৬০০ কোটি টাকা মূল্যের বোরো আবাদের লক্ষ্য

 

খুলনা অফিস : আমন মওসুমে অনাবৃষ্টিতে সেচযন্ত্র চালিয়ে উৎপাদনে বাড়তি খরচ হওয়ায় লোকসান কাটিয়ে উঠতে বোরো আবাদে ব্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ লাখ কৃষক। এবারের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান। মওসুম শেষে এর মূল্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। এ অঞ্চলের জেলাগুলো হচ্ছে-খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও বাগেরহাট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ২০১৮ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মওসুমে ৭৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। যা ২০১৭ সালের তুলনায় অর্ধেক। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাতের চেয়ে ৪৩ শতাংশ কম হয়। আমন বাঁচাতে এ অঞ্চলের কৃষককে ১৩ হাজার সেচযন্ত্র চালাতে হয়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কৃষি বিভাগের সূত্র জানান, চলতি মওসুমের হাইব্রিড জাতের বীজ গতবারের তুলনায় কেজি প্রতি ১শ’ টাকা বেশি দরে কিনতে হয়। এছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কুয়াশার কারণে ১০ শতাংশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ মে.টন। মওসুম শেষে উৎপাদিত ধানের মূল্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ শতাংশ জমির রোপণ শেষ হয়েছে।

সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, মওসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দেখা দেয়নি। কাক্সিক্ষত বোরো উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদী। উৎপাদিত ধানের দাম বাড়বে ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

এই সূত্র জানান, গত মওসুমে এ অঞ্চলে ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। সব এলাকার উৎপাদন ভাল হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, এবারে এখানে রোগ বালাই দেখা দেয়নি। সারের সঙ্কট নেই। ফলে কাক্সিক্ষত উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী। খুলনার ফুলতলা কৃষি কর্মকর্তা রীনা খাতুন ও দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রোপণ শেষ হবে। আপাতত সেচ সঙ্কট নেই। স্বল্প পরিমাণ জমির বীজতলায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক অনাদি ম-ল ও মনোজ কুমার বাছাড় জানান, গেল মওসুমে বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। এবারে বীজের মূল্য বেশি এবং কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। নড়াইলের খারুরিয়া গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, গত মওসুমের তুলনায় এবারে হাইব্রিড জাতের বীজ কেজি প্রতি ১শ’ টাকা বেশি মূল্যে কিনতে হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর এ অঞ্চলে ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে ৬৬ একক জমির বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ