বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নতুন বছরে ওজনিয়াকি- ফেদেরারের চ্যালেঞ্জ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই টেনিস এখন বেশ জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছে। অন্যান্য খেলার ন্যায় এখানেও চলে শীর্ষত্বের লড়াই। যারা এই খেলায় জড়িত তারাও এখন আরও একটি বছরের সমাপ্তি ঘটালো। ভালো শুরুর অপেক্ষায় নতুন মওসুম। নতুন বছরের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টের আগে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট। তবে টেনিসপ্রেমীদের চোখ এখন থেকেই প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। কে পরবে মওসুমের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টের মুকুট? টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরার কিংবা ক্যারোলিন ওজনিয়াকি কী পারবেন শিরোপা ধরে রাখতে? ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে তা নিয়েও চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেই ২০১৮ সাল শুরু করেছিলেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের জন্য অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। এজন্য লড়াই করতে হয়েছে প্রায় এক যুগ। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৭টি ডবিব্লটিএ শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পাচ্ছিলেন না ওজনিয়াকি। তবে ব্যর্থতার কারণে কখনই নুইয়ে পড়েননি ওজনিয়াকি। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই নতুন প্রত্যয় নিয়ে কোর্টে নামেন ড্যানিশ টেনিস তারকা। ২০১৮ সালেও মেজর কোন শিরোপার স্বাদ না পাওয়া ড্যানিশ টেনিস তারকা বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে বছরের পুরোটা সময়েই ছিলেন আলোচনার তুঙ্গে। তবে নতুন মৌসুমেই নতুন উদ্যমে কোর্টে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।
২০০৫ সালে কয়েকটি জুনিয়র টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সে বছরেই টেনিস কোর্টে আলো ছড়িয়ে প্রাদপ্রদীপের আলোয় ওঠে আসেন ওজনিয়াকি। তবে সিনিয়র পর্যায়ে বিশ্ব টেনিসপ্রেমীদের নজরে আসেন ২০০৯ সালে। নবম বাছাই হিসেবে ইউএস ওপেনে খেলতে নেমে সেবারই ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। ডেনমার্কের প্রথম প্রমীলা খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ডসøামের ফাইনাল খেলার বিস্ময়কর কীর্তি গড়েন ওজনিয়াকি। কিন্তু ফাইনালে বেলজিয়ামের কিম ক্লাইস্টার্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। তবে পরের বছরই নতুন কীর্তি গড়েন। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি দখল করে নেন তিনি। টেনিস ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ডস্লাম না জয়ের পরও র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার বিরল কীর্তি গড়েন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ২০১২ জানুয়ারির মধ্যে ৬৭ সপ্তাহ ছিলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। সেই ড্যানিশ টেনিস তারকা যেন ক্রমেই হারিয়ে যেতে থাকেন। তবে দমে যাননি ২৭ বছরের এই খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পেলেন তারই পুরস্কার। সিমোনা হ্যালেপকে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর শিরোপার স্বাদ পান ওজনিয়াকি।
এবার কী পারবেন শিরোপা ধরে রাখতে? অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পথে তার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অনেকেই। যাদের মধ্যে সেরেনা উইলিয়ামস অন্যতম। কেননা, গত বছর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে ফিরে দুটি গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও কোনটার শিরোপাই উঁচিয়ে ধরতে পারেননি তিনি। এছাড়া, সিমোনা হ্যালেপ, এলিনা সিতলিনা, এ্যাঞ্জেলিক কারবার, মারিয়া শারাপোভা, পেত্রা কেভিতোভা কিংবা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার মতো খেলোয়াড়রাও নতুন বছর শুরু করবেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে।
তবে নতুন বছর নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন জোহানা কন্টা। বিশ্ব টেনিসে গত কয়েক মৌসুম ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, এখন পর্যন্ত মেজর কোন শিরোপা জয়ের স্বাদ পাননি গ্রেট ব্রিটেনের এই টেনিস তারকা। নতুন বছরে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন জোহানা কন্টা। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বলে উঠতে চান তিনি। বিশেষ করে প্রাক-মৌসুমে ভাল করার সৌজন্যই ২০১৯ সালে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক চার নম্বর এই তারকা। এ বিষয়ে জোহানা কন্টা বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই অনুধাবন করতে পারছি যে, প্রাক মৌসুম পর্বটা দুর্দান্ত কেটেছে আমার। যে কারণেই ২০১৯ সালে সর্বোপরি ভাল করার ব্যাপারে আমার আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেশি।
২০১৫ সালের জুনে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৪৬ নম্বরে ছিলেন জোহানা কন্টা। কিন্তু ২০১৭ সালের জুলাইয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বোচ্চ ৪ নম্বরে ওঠে এসেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। এর পরের বছর উইম্বলডনের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিলেন গ্রেট ব্রিটেনের এই টেনিস তারকা। কিন্তু দুবারই সেমিফাইনালের বাধা পেরুতে ব্যর্থ হন কন্টা। একটা সময় টেনিসপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছিল ব্রিটিশ এই টেনিস তারকার পারফর্মেন্স। টেনিসবোদ্ধাদের ধারণা ছিল, টেনিস বিশ্বে আলো ছড়াবেন তিনি।
কিন্তু নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে নতুন বছরে নতুন করে জ্বলে ওঠার স্বপ্নে বিভোর এই ব্রিটিশ তারকা। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে এই মুহূর্তে কন্টার অবস্থান ৩৭। নতুন মৌসুম শুরু করবেন ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্ট দিয়ে। বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ সারির অনেক খেলোয়াড়ই অংশ নিচ্ছেন এই টুর্নামেন্টে। ব্রিসবেনের পর সিডনি ইন্টার ন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্টের মিশন শুরু করবেন তিনি। নতুন মৌসুমের শুরুতেই এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি টেনিস টুর্নামেন্টে কন্টা ভাল করবেন, এমনটা বিশ্বাস করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরাও। কেননা, এরপরই যে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন! ব্রিসবেন-সিডনিতে ভাল করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মেখে কোর্টে নামতে পারবেন কন্টা। এদিকে, পুরুষ এককে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরার। তার সামনেও শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ। গত আগস্টেই ছত্রিশতম জন্মদিনের কেক কেটেছেন রজার ফেদেরার। তবে বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে টেনিস কোর্টে রাজত্ব করছেন সুইজারল্যান্ডের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। এবার কী পারবেন ফেড এক্সপ্রেস? টেনিসপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ