রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ম্যাচ উইনার ও বাংলাদেশ

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বিশ্ব ক্রিকেট ভুবনে পারফরম্যান্সের সোনালী আলো ছড়ানো দলের নাম লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশ। যারা ধাপে ধাপে শক্তিশালী তকমা লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তা ম্যাচের পর ম্যাচকে আকড়ে ধরে। নৈপূণ্যের উন্নতি বিন্দু পরিমাণ থেমে থাকছে না এমন পরিস্থিতিতে। যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে চলেছে। সে কথা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? মাঠের লড়াই খুবই কঠিন। তা জয় করলে হয়ে যায় মসৃন। সেটা খুশির জোয়ারে দর্শকের বেলায় বার বার ফুটে উঠে। আর হেরে গেলে! যত দোষ নন্দ ঘোষ!! এই ক্ষেত্রে প্লেয়ার-কর্মকর্তাদের সব দোষ!!! দর্শক কি বলেন? না, আসলে যা নয়। আবার ঘটে যাবার মাধ্যমে তা হয়। এ অবস্থায় ১৯৭২ সাল থেকে লাল-সবুজ পতাকা দেশের ক্রিকেট স্লো গতিতে হলেও ঘাসের ময়দানের স্পর্শ নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়েছে। কথাটি অপ্রিয় হলেও সত্য। খেলাটির বর্তমান অবস্থান বিচারে লজ্জাবোধ করার বিন্দু পরিমাণ অবকাশ নেই। অতীতের এমন স্মৃতি সত্যি কষ্টদায়ক। সেটা ভুলে গেলে চলবে না। কারণ তখন প্রতিযোগিতা হতো কয়টা? তা গত শতাব্দীর সত্তর, আশি, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর্যন্ত কথা (১৯৯৭ আইসিসি বাছাই ট্রফি জয়ের পূর্বে)। এর ইতিহাস খুবই করুন। দেশের চারদিকে ফুটবলের জোয়ার। পাশাপাশি হকি, ভলিবল, দাবার বিচরণটা খুবই চমৎকার। যার ফাঁকে ক্রিকেটের আবিষ্কার ঘটেছিলো ভাগ করে দেয়া সময়কে পুঁজি বানিয়ে। অর্থাৎ শীত এবং নাতিশীতোষ্ণ মৌসুমের বৃত্তে এই ক্রীড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন। ইতিহাস সংরক্ষণে তা কলমের লেখনীর পাতায় অবশ্যই তুলে ধরা প্রয়োজন। মাত্র চার-পাঁচ মাস সময় ব্যয় করে ক্রিকেট (গাংগুটি) আয়োজন। তিনটি টুর্নামেন্ট মানেই সোনায় সোহাগা। যা বলাবাহুল্য। সেটা সোনার হরিণ হাতে পাবার মতো! দু’টি কমন প্রতিযোগিতা সবুজ ঘাসের মাঠের স্পর্শ পেতো। নামটি খুবই পরিচিত। দামাল-সামার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তা ছিলো খুবই আকর্ষণীয়। যা অপেক্ষার পালা শেষ করতো সূচনা দিয়ে। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে ঘিরে রেখে সেটা দেশের কোটি কোটি দর্শককে খুশির জোয়ারে হৈ চৈ এর মাঝে নাচিয়ে ছেড়েছে। এরপর ঢাকা লীগের পর্দা উম্মোচন। তা ছিলো ক্রিকেটকে বিদায় জানাবার চিরস্থায়ী নিয়ম। এই খেলার মৌসুমটি এমন।
 বছরের পর  বছর মনে হয়েছে যা। সেটা ক্রিকেটের (গাংগুটি) ইতিহাস আলোচনার পাত্রে শতভাগ সত্য কথা। এ বিষয়ে অভিমত কি রাখবেন বিসিবির কর্মকর্তারা? খুবই কষ্টদায়ক স্মৃতি না? মাত্র দু’টি প্রতিযোগিতার আয়োজন। যা দিয়ে মৌসুম শেষ! সবার চোখে তা ছিলো বেশ! তখন পরিস্থিতিটা ছিলো এমন!! নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো বিষয়টি তেমন!!! চার-পাঁচ মাসের মৌসুমে। যার মাঝে ব্যাট-বলের লড়াই দেখা যেতো। বিদেশী দলের দেখা পাওয়া, এক বাক্যে বলা যায়, সেটাতো বড় স্বপ্ন। এশিয়া কাপ একমাত্র ভরসা। যা ছিলো কোটি কোটি খেলা পাগল প্রেমীর হৃদয়ের প্রত্যাশা। তা নতুন করে না বললেও হয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেবার ক্ষেত্রে আইডল ভাবা হতো এশিয়া কাপ (ওয়ানডে) ক্রিকেটকে। এক কথায় যা মহাস্বপ্ন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটা ভাবা যায় না। কি বলেন? অথচ ঘটেছে তা। এছাড়া হঠাৎ হঠাৎ প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো ইংল্যান্ডের এমসিসি এবং পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন দলের বিপক্ষে। যা ধারাবাহিক আয়োজন নয়। সেটা বছর গ্যাপ দিয়ে মাঝে মাঝে ছোঁয়া পেতো। স্বাধীনতার পর হতে (১৯৭১) গত শতাব্দীর নব্বই দশকের শেষ সময় পর্যন্ত (১৯৯৭ এর আগে) বাংলাদেশের ক্রিকেটের চেহারাটা ছিলো এমন। বলা যায়, নুন আনতে পানতা ফুরায়। নরম শরীরের চামড়ায় সওয়া না গেলেও, কথাটি সত্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাবাবুদের অভিমত কি এই বিষয়ে? তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এ ক্রীড়া আপন মনে উড়ছে। তা জানা আছে সবার। ১৯৯৭ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাই ট্রফি জয় করে লাল-সুবজ পতাকা টিম। আর তখন থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট আধুনিকতার ছোঁয়া পায়। আর পিছনে তাকায়নি। এমন ধারায় অর্জন ওয়ানডে ও টেস্ট স্ট্যাটাস। পরবর্তীতে টি-টুয়েন্টি ঘরনায় প্রবেশ। সবকিছু মিলিয়ে গায়ক আসিফের সেই গান সাবাশ বাংলাদেশ, সাবাশ বাংলাদেশ। যা স্মৃতি পাতায় স্থান নিয়ে অহরহ ভাবে বেজে চলে বিভিন্ন স্থানে। সেটা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? দর্শক কি মন্তব্য ছুঁড়বেন এ ব্যাপারে। সেই সময় এবং এই সময়ের ক্রিকেটে বিরাজ করছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যা সকলের বোধগম্য। সে কথা বলাবাহুল্য। এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট নীল আকাশে মুক্ত হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে। টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্ট ঘরনায় জয় পাবার মাধ্যমে ধাপে ধাপে দাপট ছড়াচ্ছে। সেটা বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনের প্রেক্ষাপটে। কোটি কোটি স্পোর্টস লাভার কি বলেন? ম্যাচ জয়ের নায়ক কারা? তাদের কথা কি মনে আছে? বাংলাদেশের আধুনিক ক্রিকেটে (গাংগুটি) তা অভাব নেই। যা রয়েছে অনেক। ঘরোয়া আসরের প্রতিযোগিতায় গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, হীরা, রকিবুলরা ছিলেন আস্থার মডেল। মাঠের লড়াইয়ে তাদের বীরত্বের কথা কখনো ভুলা যাবে না। এক বাক্যে অভিহিত করা যায় তারা দেশের ক্রিকেটের সেই পাতাল যুগের আইডল। যাদের লক্ষ্য রেখে এই ক্রীড়ার বর্তমান অবস্থান ফুটে উঠেছে এখন। ১৯৯৭ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাই ট্রফি জয় দেশের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগমনি বার্তা জানায়। সেটা ধাপে ধাপে ফলে যায় বিসিবির একান্ত প্রচেষ্টায়। আইসিসির বাছাই এই টুর্নামেন্টে নৈপূণ্যের আলো ছড়িয়ে মহানায়ক বনে যান আকরাম খান। এমন ক্ষেত্রে  ময়দানে ব্যাট-বলের যুদ্ধে তার পাশে নান্নু, আতাহার আলী, ফারুক, রফিক, জাহাঙ্গীর, সাইফুল, শান্ত, মনিদের অবদান কম ছিলো না। যারা ম্যাচ উইনার হিরো। এর প্রমাণ পাওয়া গেছে নৈপূণ্যের ঝলকে। ম্যাচের পর ম্যাচে তা ফুটে উঠেছে। এমন ধারায় ৯৯ বিশ্বকাপ মূল পর্বে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বিজয়ী সৈনিক হয়ে আত্মপ্রকাশ করেন নান্নু, আকরাম এবং সুজন। যা ইতিহাস হয়ে আছে। পরের ধাপে হাবিবুল বাশার সুমন, তাপস বৈশ্য, আশরাফুল, নাফিস ইকবাল, রাজ্জাক, শাহরিয়ার নাফিস, মাশরাফিদের পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেট ভুবনে আলোকিত। এক্ষেত্রে সিনিয়র ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ, মোহাম্মদ রফিককে বলা যায় পরীক্ষিত সৈনিক। তারাতো এই ভুবনে মহা রতœ। সেটা নতুন করে উল্লেখ না করলে হয়। ঠিক একই ধারায় সাফল্যের নায়ক হিসেবে মাঠে উপস্থিত হন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেন। যাদের ওপর ভরসা রাখেন দর্শকরা। কি বলেন? এরপর আছেন রুবেল, মোস্তাফিজ এবং মিরাজ। এ সকল নায়কদের ব্যাট-বলের ঝলকে নৈপূণ্য সারা বিশ্ব দেখেছে।
এমন উত্তেজনাময় অঙ্গনে তারা অন্যতম মডেল। তা জানা রয়েছে দেশের কোটি কোটি খেলা পাগল ভক্তের। এই ধারায় আবার প্রশ্ন জাগে! কারণ অনেকের ময়দান থেকে অবসর নেবার সময় ঘনিয়ে আসছে!! যা ক্রীড়া ভুবনের চিরস্থায়ী নিয়ম অনুযায়ী দেখা যায়!!! এরপর কে ম্যাচ উইনার? তাই প্রশ্ন জেগেছে! এর সোজা উত্তর, বিসিবিকে পরিকল্পনা মজবুত করতে হবে প্রতিভাবান প্লেয়ার খোঁজার মাধ্যমে। সেটা বিশ্ব ক্রিকেটে ডমিনেটের পথ দেখাবে। সাবাশ বাংলাদেশ, সাবাশ বাংলাদেশ বলে চারদিকে রব উঠবে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ম্যাচ উইনার ও বাংলাদেশ-এমন সাফল্য ঘেরা প্রত্যাশায় ক্রীড়া প্রেমীরা বার বার স্বপ্ন দেখছেন হৃদয়ের মাঝে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ