মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

যশোরে বন্দুকযুদ্ধে ‘অপহরণকারী’ নিহত ॥ শিশুর লাশ উদ্ধার

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিল্লাল (১৯) নামে এক ‘অপহরণকারী’ নিহত হয়েছে।
অপহৃত শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি। একই রাতে পুলিশ অপহৃত শিশুটির লাশও উদ্ধার করেছে বলে বলা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধের সময় অপহরণকারী চক্রের গুলীতেই নিহত হয় বিল্লাল।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেছেন, গত ৬ জানুয়ারি মণিরামপুর উপজেলার খেদাইপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তারিফ নিখোঁজ হয়। এরপর তারিফের বাবার কাছে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করলে তিনি ৭ জানুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে বিল্লালকে শনাক্ত করে। এরপর তার প্র গত রাতে (মঙ্গলবার) তারিফকে উদ্ধারে সাতনল এলাকায় যায় পুলিশের একটি টিম। এ সময় অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী করতে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলী ছোড়ে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের গুলীতেই নিহত হয় বিল্লাল। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শুটারগান ও এক রাউন্ড গুলী উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, পরে ভোররাত চারটার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে খেদাইপুর কালভার্টের নিচ থেকে অপহৃত শিশু তারিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
খুনের শিকার শিশু তারিফ উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লাল একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা ওরুফে কাঠু মোস্তফার ছেলে।
তারিফ উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিহত বিল্লাল গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়তো।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে লিমা খাতুন (২০) ও আমিন সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
অপহরণের শিকার শিশু তারিফের মামা আক্তার হোসেন বলেন, “গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বল হাতে নিয়ে তারিফ তার জমজ ভাই তাসিফের সাথে মাঠে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় তাসিফ বাড়ি ফিরলেও ফেরেনি তারিফ। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারিফকে না পাওয়ায় পরের দিন সোমবার মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে তারিফদের বাড়ির পাশে একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল ‘তারিফকে আমরা অপহরণ করেছি। পাঁচ লাখ টাকা দিলে তাকে মুক্তি দেব। চিঠিতে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে পাশের কেশবপুর বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। সেই বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি এজেন্ট মালিককে খুলে বলা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সেই দোকানে টাকা নিতে আসে বিল্লাল। ওইসময় এজেন্ট মালিক কৌশলে বিল্লালকে আটকে রেখে আমাদের খবর দেয়। আমরা মণিরামপুর থানায় যোগাযোগ করলে কেশবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিল্লালকে আটক করে থানা পুলিশ।’
শিশু তারিফের আরেক মামা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আটকের পর বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছিলুমপুর গ্রামের একটি কালভার্টের নিচ থেকে ভাগ্নে তারিফের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’
তিনি বলেন, ‘তারিফের বাম চোয়ালে কোপের চিহ্ন রয়েছে এবং তার ঘাড় মচকানো ছিল। উদ্ধারের সময় লাশের দেহ থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় বিল্লাল ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন জড়িত আছে।’
মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম এনামুল হক বলেন, ‘আটক বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত পৌনে তিনটার দিকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি টিম এলাকায় যাওয়ার সময় সাতনল (খানপুর) জোড়া ব্রিজ এলাকায় ওত পেতে থাকা বিল্লালের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়। তখন সন্ত্রাসীদের গুলীতে বিল্লাল রক্তাক্ত জখম হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভোরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিল্লালকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয় একটি কালভার্টের নিচ থেকে অপহৃত শিশুটির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ