মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুমন হত্যার বিচার দাবি গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের

স্টাফ রিপোর্টার: গার্মেন্ট শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সুমন মিয়া নামে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক হাসনাত কবীর, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান, বাংলাদেশ শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা গার্মেন্ট শ্রমিক হত্যার বিচার এবং অসঙ্গতিপূর্ণ মজুরি কাঠামো ঘোষণার জন্য দায়ীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া মালিকপক্ষের পছন্দের কমিটি নয় বরং সমস্যা সমাধানে গার্মেন্ট শিল্পের ত্রিপক্ষীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে ঘোষিত মজুরি কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগ করে দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। গুলী, টিয়ার সেল, লাঠিচার্জ করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। কথা শোনার চেষ্টা না করে বরাবরের মতো ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা হচ্ছে। আলোচনার নামে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অথচ সম্প্রতি গার্মেন্ট শিল্পের যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে সে মজুরি কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল মজুরির পরিমাণ কমে যাওয়া, এক গ্রেডের সঙ্গে অন্য গ্রেডের মজুরি বৃদ্ধির হারের তারতম্য এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ, দীর্ঘদিনের কর্মরত শ্রমিক যে গ্রেডে কর্মরত আছেন, সে সব গ্রেডের মজুরি বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে পুলিশের গুলীতে পোশাক শ্রমিক সুমন নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য পরিষদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মজুরি বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে গতকাল সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকদের সাথে  পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঢাকার সাভারে পুলিশের গুলীতে পোশাক শ্রমিক সুমন নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকও বলছেন, নিহতের বুকে গুলীর ক্ষতচিহ্ন আছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে উলাইলে এই ঘটনা ঘটে।
বেলা দুইটার দিকে সাভারের উলাইলে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সেখানে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাশের আনলিমা টেক্সটাইলের শ্রমিক সুমন মিয়া গুলীবিদ্ধ হন। প্রথমে তাঁকে কারখানাটির ভেতরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হলে পুলিশ কারখানার ভেতর ঢুকে সুমনকে নিয়ে যায়। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী মাহাতাব উদ্দিন সহিদ, সদস্য এম. দেলোয়ার হোসেন, সালাউদ্দিন স্বপন, মো. তৌহিদুর রহমান, আমিরুল হক আমিন, বাহারানে সুলতান বাহার, কাজী মোহাম্মদ আলী, বজলুর রহমান বাবলু, কামরুল হাসান, আরাফাত জাকারিয়া সঞ্চয় এক যুক্ত বিবৃতিতে পোশাক শ্রমিক সুমন হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং পুলিশের এহেন ন্যাক্কারজনক বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
একই সাথে নেতৃবৃন্দ আগামী ১ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সমস্যাগুলী চিহ্নিত করে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আশাবাদ ব্যক্ত করে আন্দোলনরত সকল শ্রমিকদেরকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ