বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অর্থ ও এলজিআরডি মন্ত্রী পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লাবাসী

রেজাউল করিম রাসেল, কুমিল্লা অফিস: সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন থেকে কে কে মন্ত্রী হচ্ছেন এমন আলোচনা ছিল সর্বত্র। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ছিল প্রচারণা। সংবাদ বেরিয়েছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায়। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামালই (লোটাস কামাল) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো: তাজুল ইসলাম এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার খবরে রবিবার বিকাল থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা বিতরণ করছেন মিষ্টি। কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আরও একাধিক আসনে মন্ত্রী থাকার প্রত্যাশা ছিল দলীয় নেতাকর্মী ও কুমিল্লার সর্বস্তরের জনসাধারণের। তবে না পাওয়ার এই হতাশার মাঝেও বর্তমান মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অর্থ ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লাবাসী। দুই মন্ত্রীর প্রচেষ্টায়ই কুমিল্লা উন্নয়ন-অগ্রগতি দেশের মধ্যে একটি মডেল জেলায় রুপ নেবে বলে অনেকেই দৈনিক কুমিল্লা কন্ঠ’র নিকট অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অর্থ মন্ত্রী লোটাস কামাল: লোটাস কামাল ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ (পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা-১০) নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি পাবলিক একাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য,অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাকাত বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২০০৬ সালের ১২ মে থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে  ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯-১৩ এই সময়কালে  তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে ৪ লক্ষাধিক ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। লোটাস কামাল  ২০১৪ সালের জানুয়ারি  থেকে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এলাকায় মিষ্টি বিতরণ: এদিকে কুমিল্লা -১০ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এফ সি এ (লোটাস কামাল) কে অর্থমন্ত্রী করায় রবিবার সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী বাজারে জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা  বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন কামাল ও পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসমত উল্লা হাসু’র নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি এম.এ করিম,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সোমবার দিনভর ওই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন। লোটাস কামালকে অর্থমন্ত্রী করায় দলীয় নেতাকর্মীরা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
এদিকে, সদ্য ঘোষিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম। তিনি সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ২ লাখ ৭০ হাজার ৬০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। একাদশ নির্বাচনসহ তিনি ওই আসন থেকে মোট ৪ বার বিজয়ী হন। এর আগে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়েই কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জনসেবার দ্বার উন্মোচন করেন তাজুল ইসলাম। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেও বিগত নবম, দশম ও সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরপর তিনবার জয়ের মাধ্যমে হ্যাট্রিক জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। এলাকার সন্তানকে এলজিআরডি মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে আনন্দ-উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ করেছে নির্বাচনী এলাকা লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের সর্বস্তরের লোকজন।
তাজুল ইসলাম এমপি এলজিআরডি মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ অব্যাহত রেখেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৪ বার এমপি নির্বাচিত হলেও তাজুল ইসলাম ছিলেন ছিলেন কর্মীবান্ধব, তাই  দলীয় নেতাকর্মীরাও তার প্রতি ছিল বেশ অনুগত। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একজন সৎ, যোগ্য, ভাল মানুষ এবং উন্নয়নের রূপকার হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মাষ্টার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কুমিল্লা কন্ঠকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ উন্নয়নের প্রত্যাশায় নিরঙ্কুশ ভোট দিয়ে তাজুল ইসলামকে বারবার বিজয়ী করেছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে তিনিও জনসাধারণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশার পূরণ করে এমপি তাজুল ইসলামকে এবার মন্ত্রী করায় দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। মন্ত্রী হিসেতে তাজুল ইসলামকে মনোনীত করায় এলাকার লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ