বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় প্রধান খালের সেই বাঁধ দু’টি কেটে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা, ৮ জানুয়ারি : অবশেষে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রধান খালের সেই বাঁধ দু’টি কেটে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। বরিশাল কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী সওজের ওই বাঁধ পরিদর্শনে এসে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই বাঁধ দু’টি  অপসারণের নির্দেশ দিলে গত সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের খালের মুখের বাঁধ দু’টি কেটে দেয় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
জানাগেছে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় উপজেলা সদর থেকে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের গাইড ওয়াল নির্মানের জন্য সড়ক উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে উপজেলার প্রধান খালে রাজিহার ও গৈলা খালের মুখে দু’টি বাঁধ দেয়ায় আগৈলঝাড়া উপজেলার ৩৫ টি ইরি ব্লকে পাঁচ সহস্রাধিক কৃষক পানির অভাবে ধান রোপন করতে না পারায় চরম হতাশা দেখা দেয় ভূক্তভোগী কৃষকদের মাঝে।
এ সংক্রান্ত স্ব-চিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে টনক নড়ে কৃষি বিভাগের। খালে দেয়া বাঁধ পরিদর্শনে আসেন বরিশাল কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী।
কৃষকদের দূর্দশা সরেজমিনে দেখে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। সেই সংবাদ জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সোমবার দুপুরে বাঁধ দুটি কেটে দেন। চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ ব্যাহত করে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য উপজেলার প্রধান খালের মুখে বাঁধ দেয়ার কারনে বাকাল ইউনিয়ন, রাজিহার ইউনিয়ন ও গৈলা ইউনিয়নের কয়েক হাজার চাষিরা পানির অভাবে তাদের বোরো ধানের ক্ষেত চাষ করতে পারছিল না।
যারা জমিতে বোরো চারা রোপন করেছেন, তাদের রোপিত চারাও পানির অভাবে অনেক মরে গেছে। চাষিরা ওই বাঁধ অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাবী করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বিষয়টি আমলে নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও সওজ নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারকে বারবার বাঁধ কাটার তাগিদ দেয়ার পরেও তারা ওই বাঁধ অপসারণ না করায় সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, সওজ’র এসও আবু হানিফসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ চাষিরা একত্রিত হয়ে খালের ওই বাঁধ দু’টি কেটে দেন। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, সরকারের সকল উন্নয়ন, সকল জনগণের জন্য। সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তাই চাষিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পানি সরবরাহের পরে সওজের উন্নয়ন কাজের জন্য আবারও বাঁধ দেয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে সে বাঁধ দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ