শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জোট করার অর্থ এই নয় যে মন্ত্রী করতেই হবে -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেছেন, ‘আমরা জোট করেছি। জোট করার অর্থ এই নয় যে, আমরা শর্ত দিয়েছি যে, মন্ত্রী করতেই হবে। ১৪ দল আমাদের দুঃসময়ের শরিক। তারা অতীতে ছিলেন, ভবিষ্যতে থাকবেন না সে কথা তো আমরা বলতে পারছি না’।
গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।  এর আগে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন । এরপর দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক লোকদেরই মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের মহাজোটের কোন শরিকদলের সঙ্গে টানাপোড়েন নেই।
টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারে এসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তাতে গতবারের মন্ত্রীদের অনেকেরই স্থান হয়নি। ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ৩১ জনই নতুন মুখ। বাদ পড়ছেন আগের মন্ত্রিসভার ৩৪ জন। এছাড়া পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন।
পুরনোদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের টিকে গেলেও আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মত বড় নেতারা এবার বাদ পড়ে গেছেন। জোটের শরিক নেতা রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুও এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এই প্রথম শরিক দলের কাউকে শেখ হাসিনা তার সরকারে রাখেননি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী সোমবার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের শপথ নেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন,‘পছন্দের ব্যাপারটা প্রাইম মিনিস্টার শেখ হসিনার, আমাদের নেত্রীর; তিনি সঠিক লোকদের চয়েস করেছেন। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা কাজ করব, পারফর্মেন্স করব; সেটাই আমাদের অঙ্গীকার’।
পুরনোদের অনেকের নতুন সরকারে না থাকাকে ‘বাদ পড়া’ বলতে চান না ওবায়দুল কাদের। তার ভাষায়, পুরনো নেতাদের অনেকের দায়িত্বের ‘পরিবর্তন ঘটেছে, রূপান্তর ঘটেছে’।
‘দল এবং মন্ত্রিত্বের আলাদা আলাদা সত্তা আছে। আমি মনে করি না যে ‘বাদের’ কোনো ব্যাপার আছে এখানে।...কাজের রূপান্তর হয়েছে মাত্র’।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রী সভা গঠন নিয়ে জোটের মধ্যে কোন টানাপোড়েন নেই। মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন রিসাবল হবে, রদবদল হবে। জোট করার অর্থ এই নয় যে আমরা শর্ত দিয়েছি যে তাদের মন্ত্রী করতেই হবে। ১৪ দল আমাদের দুঃসময়ের শরীক। তারা অতীতে ছিলেন ভবিষ্যতে থাকবেন না সে কথা তো আমরা বলতে পারছি না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক মানুষকে ঠিক জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং কাজ করব।
তিনি বলেন, মন্ত্রী সভায় দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটেছে, রূপান্তর ঘটেছে। বাদ পয়েছে এ কথা ঠিক না। দল এবং মন্ত্রীত্বের আলাদা আলাদা সত্তা আছে। আমি মনে করি না বাদের কোন ব্যাপার আছে। এখানে বাদের কোন ব্যাপার নেই কাজের রূপান্তর হয়েছে মাত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ