শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সংসদ সদস্যদের নেয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিগ্যাল নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার: সংবিধান অনুসারে দশম জাতীয় সংসদ না ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তাওহীদের পক্ষে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আগামী ১৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে নোটিসের জবাব চেয়েছেন খোকন।
তা না হলে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে খোকন সাংবাদিকদের বলেছেন,  এর ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা চার দিন পর ৯ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন। বিএনপিবিহীন ওই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দশম সংসদের মেয়াদ।
 মেয়াদ অবসানের ৯০ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচনে বিজয়ীরা গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানও হয়েছে ৭ জানুয়ারি। তার একদিন পরই গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উকিল নোটিসটি পাঠান মাহবুবউদ্দিন খোকন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একাদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
খোকন বলেন, সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রতি সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে পূর্বের সংসদ সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত এরা দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৩ জানুয়ারি নেওয়া শপথে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। সংবিধানের ১৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথের জন্য নির্বাচিতদের উচিত ছিল ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা। ফলে এই শপথ বাতিল করার জন্য আমরা বলেছি। শপথ বাতিল পাশাপাশি নতুন করে গেজেট করতে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(৩)
এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথ গ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
অনুচ্ছেদ ১২৩(৩)
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।
 নোটিসে খোকন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া কেবল বেআইনিই হয়নি, বেআইনিভাবে তারা তাদের পদের মেয়াদও বাড়িয়ে নিয়েছেন। সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২৯ জানুয়ারি। তাই শপথ নেওয়া নির্বাচিতরা শুধু আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাননি, তারা তাদের সংসদ সদস্য পদটিকেও অকার্যকর করে ফেলেছেন।
গত ৭ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্য। নিয়মানুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।
এর আগে ৩ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে সবাই শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ