শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১॥ আহত অর্ধশতাধিক

গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো বিভিন্ন দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। মিরপুর কালসি রোডের ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত হয়েছে একজন ও আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। দাবি আদায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চতুর্থ দিনে গড়ায়। দাবি আদায়ে সাভারের হেমায়েতপুরে, মিরপুর, কালসি, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর এলাকা, উত্তরা, দক্ষিণখান, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, শ্যামপুরে বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলী বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষে সুমন নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। তবে পোশাক মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা, তাদের ভাষায় আন্দোলনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে এ আন্দোলন চলছে।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সাভারের কয়েকটি স্পটে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উড়াইল এলাকার আনলিমা গার্মেন্টসের সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলীতে আহত হন সুমন মিয়া (২২)। তিনি ওই গার্মেন্টসেরই একজন কর্মী। গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর সহকর্মীরা তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সকালে পৃথক ঘটনায় দুজন গুলীবিদ্ধ হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানান তারা। 
সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, সুমন মিয়াকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। তার বুকে গুলী লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে সাভার থানার পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য নিহত সুমন মিয়ার লাশ রাজধানীর সোহওরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে বলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা-১ আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক সানা সামিনুর রহমান বলেন, বিকালের ঘটনায় একজন গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে শুনেছি।
এদিকে এনাম মেডিক্যালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) এর ইনচার্জ ড. নাসির উদ্দিন জানান, আঁখি বেগম ও রুবিনা বেগম নামে দু’জন গুলীবিদ্ধ নারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আঁখি বেগম জানান, তিনি গার্মেন্টস কর্মী নন। হেমায়েতপুরে নিজের দুই তলা বাসায় থেকে সংঘর্ষের ঘটনা দেখছিলেন। সে সময় ঘরের মধ্যে থাকা অবস্থাতেই বাইরে থেকে একটি গুলী তার পেটে গিয়ে লাগে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রুবিনা বেগম বলেন, আমি স্টান্ডার্ড গ্রুপের যমুনা গার্মেন্টসে কাজ করি। বিক্ষোভের পর গুলীবিদ্ধ হই।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা রেললাইনের ওপর অবস্থান নেয়। পোশাক শ্রমিকরা ওই এলাকায় দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।
জানা গেছে, আজমপুরে শাহজালাল এভিনিউয়ে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন। পুলিশও দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। এ সময় ওই এলাকায় প্রাণ গ্রুপের একটি গাড়ি ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।
এদিকে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায়, সকালে নিপা গার্মেন্টের সামনে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ শ্রমিক ও পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
অন্যদিকে মিরপুরের কালশীর ২২তলা গার্মেন্ট এলাকায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল ৮টার পর থেকে পোশাক শ্রমিকরা কালশী সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর উত্তরার বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন পোশাককর্মীরা।
 সোমবার দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে বাসে আগুন ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আর বাস শ্রমিকদের হামলায় এক পোশাক শ্রমিক আহত হন।
এদিন বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে রোববার উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের বিভিন্ন গার্মেন্ট শ্রমিকরা একই দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে উত্তরখান এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
 শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার একপর্যায়ে কে বা কারা গাড়িতে আগুন দেয়।
সাভারের হেমায়েতপুরে বেতন বৈষম্যের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করে কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলীবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশসহ আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক। আহত ওই শ্রমিক ও পুলিশদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় এই শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলী বিনিময়ের ঘটনা চলে প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাপী। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারস লিমিটেডের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে পার্শবর্তী দিপ্ত এ্যাপারেলস কারখানাসহ বেশকয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
 পরে তারা হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার জা¦লিয়ে, আগুন দিয়ে  অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলীবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এসময় পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক শ্রমিক। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাপী চলে শ্রমিক পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এখনও বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন শাখা সড়ক ও গলিতে অবস্থান নিয়ে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও সাজোয়া যান নিয়ে শ্রমিকদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে পুরো এলাকায়। সাভার ট্যানারী ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক গোলাম নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবেন শ্রমিকরা। টানা তিন দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে গতকাল মঙ্গলবার শ্রম ভবনে আয়োজিত পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে কমিটিও গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচ জন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন। এই কমিটি চলতি মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোর কোনও গ্রেডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।
এ বৈঠকে শ্রমিকদের আন্দোলন ছেড়ে নিজ নিজ কারখানার কাজে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে এরপরেও কেউ যদি রাস্তায় আন্দোলন করেন তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এ বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা অসচেতনতার কারণে রাস্তা অবরোধ করেছেন বলে মনে করছে তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠনের (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির নেতাদের মতে,  শ্রমিকদের এই আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষের ইন্ধন রয়েছে।
শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কাসের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতা নিয়ে অসচেতনতার কারণেই শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। বাড়তি বেতন-ভাতা সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। আর একটি পক্ষ আছে সব সময় তাদের উসকে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, বর্তমান সময়েই পোশাক শ্রমিকদের বেতন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গতকাল যেখানে আন্দোলন হয়েছে, সেই আন্দোলন হয়েছে বেতন পরিশোধ না করার কারণে। বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্তি দূর করতে আমরা কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেও শ্রমিকদের একটি পক্ষ উসকে দিতে চেয়েছিল। এখন চেষ্টা করছে।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে এ আন্দোলন হচ্ছে। শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের তৈরি পোশাক খাতকে ধবংস করে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। যারা শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, ইন্ধন দিচ্ছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
দক্ষিণখানের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাহিদুর রহমান বলেন, সকাল থেকে শ্রমিকদের অবরোধে রাস্তায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মালিক-শ্রমিক উভয়পক্ষের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি। শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানায় ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় তৃতীয়পক্ষের ইন্ধন রয়েছে। তারা শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে।
এর আগে, সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে সকাল থেকেই মিরপুর ও উত্তরায় পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ