শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে চেয়ারে বসলেন নতুন মন্ত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ গড়ার রঙ্গিন স্বপ্ন আর উন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে সচিবালয়ে প্রথম দিন কাটালেন নুতন মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা। মন্ত্রীরা নিজ নিজ কার্যালয়ে বসার পর একের পর এক ফুলে ফুলে সিক্ত হন। সবার একটাই কথা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সচিবালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নতুন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনেক ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম কিছু উল্টা-পাল্টা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। অনেকের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে তারা। আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে এগুলো মোকাবিলা করবো।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে। তাছাড়া টেলিভিশন এবং অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে শেখ হাসিনার সময়েই। তিনি বলেন, গতকাল শপথ নেয়ার পর অনেক সাংবাদিক বন্ধুরা প্রশ্ন করেছিলেন, অনেকগুলো ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম তৈরি হয়েছে। তারা অনেক সময় ভুল সংবাদ পরিবেশন করে। এতে অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটে। এসব ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নতুন তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক বন্ধুদের অনেক অভাব অভিযোগ আছে, আমি আগে থেকেই জানি। সেগুলো সমাধান করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে কাজটি আমি করব।
প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিশেষভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিশেষভাবে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করবো। একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, আসলে বিষয়টিকে মন্ত্রীত্ব হিসেবে নয়, নতুন দায়িত্ব হিসেবে দেখছি।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানুষের সুবিচার কী হওয়া উচিত তা সংবিধানেই উল্লেখ আছে। সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করেই মানুষের সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
সচিবালয়ে নিজ দফতরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, এ মেয়াদে অগ্রাধিকার হবে জনগণের জন্য সুবিচার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা আছে সেগুলো নির্ধারণ করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা গত সরকারের সময় অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সেগুলো আরো জোরদার ও সুদৃঢ় করা হবে। আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়; তবে কঠিন। এটা নিয়ে আমরা কাজ করেছি।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হওয়ার কারণ আছে। আর সেটা হলো- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে খুনের পর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছিল। দেশেও অনেককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনের নেপথ্যে যারা দায়ী তাদের শনাক্তে আমরা কমিশন গঠনের চেষ্টা করব।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। কোনো অবস্থায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেনা শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত সভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। আগামী দিনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের প্রতিফলন ঘটবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ে কোনো অবস্থায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনে আগামী পাঁচ বছর দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়নে চমক থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারিদ্র্যমুক্ত একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হওয়ার লক্ষে কাজ করছি। প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
তাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত কাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা দেশে আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নে চমক দেখাতে চাই। সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কাজ করব।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সব নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করা হবে। যথাসময়ে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সহজীকরণ করা হবে। এছাড়া সব কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন করা হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেয়া। এ সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আরও বাড়াতে হবে। তা হলে গ্রামের মানুষ উন্নত জীবনযাত্রার সুবিধা পাবে, নগরমুখী জনগ্রোত রোধ করা যাবে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে সরকারের বর্তমান মেয়াদেই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একজন সৎ, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান এবং জনগণের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি রয়েছে। সেই গুণাবলিকে ধারণ করে সেবার মনোভাব নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রণালয়ের সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ