বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অনিয়ম-দুর্নীতি করবো না করতেও দেবো না --যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্পোর্টস রিপোর্টার: প্রথম কার্য দিবসেই অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবেন বলে অধীনস্থদের জানিয়ে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। গতকাল সকালে মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া পরিদপ্তর ও বিকেএসপির কর্মকর্তাদের নিয়ে সচিবালয়ের সভা শেষে নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এলেন বিকেলে চারটার দিকে। টাওয়ারের প্রধান ফটক পেরিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি ভেতরে ঢুকতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরকার সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়নের ‘জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধুু স্লোগান। গাড়ি থেকে জাহিদ আহসান রাসেল নামতেই তাকে লক্ষ্য করে পুস্পবৃষ্টি। প্রতিমন্ত্রী ইশারায় বোঝালেন ফুলের পাপড়ী গায়ে নয়, সামনে ছিটাতে। পাশ থেকেও একজন বললেন ‘স্যারের সমস্যা আছে, ফুল গায়ে মাইরেন না।’ ফুল শুকালে যেমন হয় কিছুক্ষণ পর তেমন হয়ে গেলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখ। হবে না কেন? পরিষদে প্রথম এসেই তিনি পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন-কোনো দুর্নীতি নয়। অনিয়ম দুর্নীতি তিনি করবেন না, কাউকে করতেও দেবেন না। এমন কথা সবাই বলেন। জাহিদ আহসান রাসেলের বলার মধ্যে পার্থক্য হলো এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কে তার পুরো ধারণা আছে। যাকে বলে নখদর্পণে। তিনি যে টানা ১০ বছর ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্পর্কে তার ধারণা থাকাই স্বাভাবিক।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি সেটা পরিস্কার করেছেন ‘এই পরিষদ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। যে অভিযোগ শুনেছি তা শূন্যের কোটায় আনতে চাই।’ এ কথা বলে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছেন-পারবেন তো? পারবো আওয়াজটা বেশি মোটা গলায় ছিল না প্রতিমন্ত্রীর সামনে ও আশপাশে বসা মানুষগুলোর।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩.৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ’ এর কথা উল্লেখ করে নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমি নিজে অনিয়ম-দুর্নীতি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না। ক্রীড়াঙ্গন হবে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত।’

 বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ সম্পর্কে বলেন, এই স্টেডিয়ামটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে। তার নামের সঙ্গেও আমি মনে করি সাংঘার্ষিক হচ্ছে। আমি চেষ্টা করবো এটার পরিবেশ মানসম্পন্ন করার। সবার সঙ্গে বসে এটা ঠিক করবো। বিদেশীদের কাছে ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়। এর থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে। ক্রীড়া ফেডারেশনে বহিরাগতদের রাত্রীযাপন আতঙ্কের বিষয়। এটা সত্য হয়ে থাকলে কোনভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। আমি সচিব সাহেবকে বলবো খতিয়ে দেখতে। ফেডারেশনগুলোকে এই জায়গা দেয়া হয়েছে খেলাধুলা পরিচালনার করার জন্য। এখানে যদি অন্য কোনও অন্যায় কাজ হয়, অন্য কাজে ব্যবহার করা হয় সেটা অবশ্যই গর্হিত কাজ। অবশ্যই তদন্ত করে দেখবো। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যা যা করার করবো। ফেডারেশনের সঙ্গে এনএসসি’র দূরত্ব কমাতে সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। আমার মনে হচ্ছে একেবারে অন্য খেলাধুলার উন্নয়ন ঘটেনি এটা বলা ঠিক হবে না। তবে এটাকে আরও উন্নয়ন দরকার। একেবারে যে হয়নি সেটা মানতে পারছি না। সফলতাকে বিশ্বমানের করার চেষ্টা থাকবে। ভাবমূর্তির যে বিষয়টি এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। আমি এই প্রশ্নের সমাধান করতে চাই। যাতে আর কোনো প্রশ্ন না থাকে, এ জন্য আমার পক্ষ থেকে যতরকম চেষ্টা আছে করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ