শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

‘নাগরিকত্ব আইন বাতিল না হলে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হব’

৮ জানুয়ারি, লিউ এইট্রিন : অরুণাচলের ছাত্র সংগঠন আপসুর সভাপতি বলেছেন, ভারতের ‘সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬’ বাতিল করা না হলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আইন বাতিল না হলে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও পথ থাকবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউ এইট্টিন জানিয়েছে, আইনটি বাতিলের দাবিতে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিন্দা জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবারডাক দেয়া হয়েছিল হরতাল।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি ছাত্র সংগঠন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ৩০টি সংগঠন এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে।

গত শুক্রবার আসামের শিলচরে আয়োজিত এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, অতীতের অনেক অন্যায় ও ভুল সংশোধনের জন্য ‘সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬’ খুব শীঘ্রই সংসদে উত্থাপন করা হবে আইন হিসেবে পাস করানোর জন্য। আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছিল যাতে দেশটির ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান করা যায়। আইনটি পাস হয়ে গেলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস করাবার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি ছাত্র সংগঠন নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো) হরতাল ডেকেছে। হরতাল শুরু হবে ভোর পাঁচটা থেকে। আর তাতে সমর্থন দিয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি ছাত্র সংগঠন। সমর্থন দেওয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মিজ জিরলাই পাওয়াল’ (এমজেপি), ‘অল অরুণাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (আপসু), নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ), ‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (এএএসইউ)।

নেসোর সমন্বয়ক প্রীতম বাঈ সোনাম বলেছেন, ‘ উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্র সংগঠনগুলো দিল্লিতে বারবার অবস্থান ধর্মঘট করার পরও কেন্দ্র বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনটি পাসের জেদ ধরে আছে। তারা এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের অনুভূতির কথা বিবেচনায় নিচ্ছে না।’

এমজেডপির সাধারণ সম্পাদক লালনুনমাউই পাউটু মনে করেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকরা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করে না। এই আইন পাস হয়ে গেলে মিজোরামে ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বৌদ্ধ ধর্ম পালনকারী চাকমারা’ ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।’

অবিলম্বে এই আইনের বাতিল চেয়ে আপসুর সভাপতি হাওয়া বাগাং বলেছেন, ‘বিলটি যদি সত্যি আইনে পরিণত হয় তাহলে নিজেদের রক্ষার জন্য আমাদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া ছাড়া কোনও পথ থাকবে না।’

অন্যদিকে এনএসএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আইনটি পাস হলে যে বিরূপ প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে তারা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন। নেসো ও আসুর প্রধান পরামর্শক সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্য গোয়াহাটিতে এক সাংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই হরতালের পেছেনে সমর্থন রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ৩০টি সংগঠনের।

নাগরিকত্ব আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আসামে সৃষ্ট অসন্তুষ্টির কারণ ব্যাখ্যায় আরেকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, এই আইনটি ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ডে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে থেকে যারা আসামে বাস করছে, তারাই শুধু নাগরিকত্ব পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ