বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : ॥ ছয় ॥
দীনেশ চন্দ্র সেন তার ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ পুস্তকে বাংলায় মুসলমানদের আগমণের পরে এখানকার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, “মুসলমানগণ ইরান, তুরান প্রভৃতি যে স্থান হইতেই আসুন না কেন, এ দেশে আসিয়া সম্পূর্ণরূপে বাঙালী হইয়া পড়িলেন। তাহারা হিন্দু প্রজামন্ডলী পরিবৃত হইয়া বাস করিতে লাগিলেন। মসজিদের পার্শ্বে দেব মন্দিরের ঘন্টা বাজিতে লাগিল, মহরম, ঈদ, শবেবরাত প্রভৃতির পার্শ্বে দুর্গোৎসব, রাস, দোলোৎসব প্রভৃতি চলিত লাগিল। রামায়ন ও মহাভারতের অপূর্ব প্রভাব মুসলমান সম্রাটগণ লক্ষ্য করিলেন। এদিকে দীর্ঘকাল এ দেশে বাস করার ফলে বাঙ্গালা তাহাদের একরূপ মাতৃভাষা হইয়া পড়িল। হিন্দুদিগের ধর্ম, আচার, ব্যবহার প্রভৃতি জানিবার জন্য তাহাদের পরম কৌতুহল।... গৌড়ের সম্রাটগণের প্রবর্তনায় হিন্দু শাস্ত্র গ্রন্থের অনুবাদ আরছ হইল। গৌড়েশ্বর নসরত শাহ মহাভারতের একখানি অনুবাদ সঙ্কলন করাইয়াছিলেন। সেই মহাভারত খানি এখনও প্রাপ্ত হওয়া যায় নাই, কিন্তু পরাগল খাঁর আদেশে অনুদিত পরবর্তী মহাভারতে তাহার উল্লেখ দৃষ্ট হয়।”
বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে গৌড় বা লাখনৌতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের বিকাশ শুরু হয়। ১৩৪২ খৃষ্টাব্দে ইলিয়াস শাহী বংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে মুসলিম শাসন স্থাপিত হয়। সুতরাং বখতিয়ারের বিজয় থেকে শামসুদ্দিন ইলিয়াশ শাহের উত্থানকালকে মুসলিম সমাজ গঠনের প্রস্তুতিপূর্ব বলা চলে। মুসলমান সমাজের সঙ্গে উপাসনাগৃহ মসজিদের সম্পর্ক ছিল আঙ্গাআঙ্গিভাবে জড়িত্ যেখানেই মুসলমান বসতি গড়ে উঠতো, সেখানেই ধর্মীয় প্রয়োজনে গড়ে তোলা হতো মসজিদ, মাদরাসা ও দরগাহ। সমাজের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কল্যাণে মুসলমান সুলতান এবং তাদের কর্মকর্তাদের তত্বাবধানে কূপ, জলাধার, পুকুর খনন অথবা সেতু নির্মাণ ইত্যাদি জনহিতকর কাজ করা হতো। মুসলিম দেশের জনগণ হিসেবে হিন্দুরাও এ জনহিতকর কাজের সুবিধা পেয়েছিল। প্রেক্ষিতে মুসলিম সুলতানদের সঙ্গে হিন্দু জনসাধারণের একটি ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কথা বিবেচনা করা যায়। এ কথাও উপলব্ধির বিষয়যে, বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা ছড়ি হাতে শাসনকার্য শুরু করে দিতে পারেনি এবং তা তারা চায়ওনি। বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ হিসেবে সুলতানদের প্রথমত হিন্দুদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে হয়েছিল। নিজেদের শাসনকার্যে দক্ষতা প্রদর্শন, সকল কার্যে সমভাবে সকলের সন্তুষ্টি অর্জন সর্বোপরি অধিকার, সম্মানহারা অবহেলিত হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সম্মান প্রদানের মাধ্যমে মুসলমান শাসকগণ নিজ ধর্মে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে এ কথা বলা যায়, বাংলায় তলোয়ারের মাধ্যমে নয়, আদর্শের মাধ্যমেই মুসলমানরা সংখ্যায় ধীরে ধীরে গরিষ্ঠতা অর্জন করতে থাকে।
বাংলায় মুসলমান সমাজ সম্প্রসারণের প্রধান কারণ ছিল বহুসংখ্যক হিন্দুর ইসলাম গ্রহণ। এর ফলে মুসলমান সমাজ গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকাহ প্রভৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সমাজের হিন্দুদের সঙ্গে বাংলায় আগত মুসলমান জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির গ্রহণ ও বর্জন সাধিত হয়েছে এ কথা বলা বাহুল্য। মুসলমান সুলতানগণ বালার শাসনকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে হিন্দুদের পূর্বের কিছু কিছু নিয়ম, রীতি-নীতি পরিবর্তন করতে চাননি। এই সমস্ত বিষয়ের উপর উদার নীতি অবলম্বন করেছিলেন। যেমন, বখতিয়ার খলজির প্রাপ্ত মুদ্রায় একজন অশ্বারোহীর চিত্র খোদিত আছে। বালার আরো ক’জন মুসলিম শাসনকর্তার মুদ্রায় অনুরূপ অশ্বারোহীর চিত্র সংযোজিত দেখা যায়। “এ.কে. এম শাহ নাওয়াজ, মুদ্রায় ও শিলালিপিতে মধ্যযুগের বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি,পৃ. ১৫৯”।
 জালাল উদ্দীন ফতেহ শাহের একটি রৌপ্য মুদ্রায় সাতরশ্মি সংযুক্ত সূর্যের প্রতীক উৎকীর্ণ রয়েছে। এ কথা উল্লেখ্য যে, ইসলাম ধর্ম প্রাণীচিত্র অঙ্কন বা মূর্তি খোদাই করা সমর্থন করে না। অন্যদিকে এ দেশের জীবন ধারায় হিন্দু ধর্ম ও সমাজে মূর্তি পূজা ও মূর্তি তৈরি বা অঙ্কন এবং সংরক্ষণ একটি আবশ্যকীয় ধর্মীয় কাজ। আবার সূর্যের প্রতীকের সঙ্গে সূর্য পূজার সম্পর্কও জড়িত রয়েছে। মুসলিম মুদ্রায় তাই লক্ষীদেবীর মূর্তি, নাগরী লিপি বিন্যাস, অশ্বারোহীর মূর্তি অঙ্কন এবং সূর্যের প্রতিকৃতি খোদাই বিশেষ তাৎপর্যের দাবি রাখে।
বাংলার সুলতানদের মধ্যে ধর্মীয় রক্ষণশীরতর চেয়ে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রাধান্য ছিলবেশি। ফলে ধমর্য়ি বিধি নিষেধকে উপেক্ষা করে সহজেই তারা তাদের মুদ্রায় অশ্বারোহী অথবা সূর্যের প্রতিকৃতি খোদাই করতে পেরেছেন। এ থেকে মুসলিম সুলতানদের দৃষ্টিভঙ্গি ধর্র্মীয় রক্ষণশীলতার চেয়ে উভয় ধর্মের সাদৃশ্যকরণের দিকে যে, ঝুঁকেছিল তারই প্রমাণ পাওয়া যায়। “প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩০-১৩১”।
হিন্দুরাও মুসলমানদের কাছ থেকে তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা, আচরণ অনেকাংশে গ্রহণ করেছিল। এ কথা সত্য যে, প্রতিদ্বন্দ্বি মুসলমানদের কাছ থেকে সাধারণ হিন্দুরা ততটা বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি পায়নি, নিজ ধর্মের নেতৃত্বের কাছ থেকে যতটা পেয়েছিল। এ প্রসঙ্গে একটি শিলালিপির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা যায়। বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহের সময় গৌড়ের সাদুল্লাপুরে নির্মিত মসজিদের গায়ে সংস্থাপিত ছিল শিলালিপিটি। মসজিদের নির্মাতার নাম উল্লেখ রয়েছে বিবি মালতি। শিলালিপি পাঠ থেকে বোঝা যায়, বিবি মালতি নারী এই মহিলা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। “এম আবিদ আলী খান মালদহী, গৌড় ও মালদহী, গৌড় ও পান্ডুয়ার স্মৃতিকথা, ইফাবা,ঢাকা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০৯, পৃ. ১১০; Shamsuddin Ahmd, Inscriptiption of Bengal, Vol. IV, Varendra Research Museum, Rajshahi, 1960, pp. 238-239; Abdul Karim, Corpus of the Arabic and Persian Inscriptions of Bangla, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, 1992, pp. 365-366; এ কে শাহ নাওয়াজ, সাম্প্রতিক প্রত্ন গবেষণায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনের সম্ভাবনা, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ২০০৮, পৃ. ৪৫”। কিন্তু নামের ‘বিবি’ শব্দটি মুসলিম মহিলাদের নামের সঙ্গেই সাধারণত যুক্ত হয়। কিন্তু মালতি শব্দটি একবারেই বঙ্গজ, বিশেষ করে হিন্দু রমণীর নাম হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হয়। কানিংহামের ধারণা বিবি মালতি সুলতান মাহমুদ শাহের পরিবারেরই একজন ধারণা সঠিক হলে বলা যায় বিবি মালতি হিন্দু পরিবার থেকেই ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম পরিবারে এসেছিল। সাধারণত মুসলমানরা ধর্মান্তরিত নও মুসলমানদের একটি অর্থপূর্ণ আরবি নাম দিয়ে থাকে। কিন্তু এখানে বিবি শব্দটি সংযুক্ত হয়ে প্রকৃত আগের হিন্দু নামটি রেখে দেওয়া এবং মসজিদের শিলালিপিতে উৎকীর্ণ হওয়াটা তৎকালীন সমাজ ও নেতৃত্বের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির উদারতা ও সহনশীলতাই প্রমাণ করে। “এ কে এম শাহ নাওয়াজ, মুদ্রায় ও শিলালিপিতে মধ্যযুগের বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি,পৃ. ১৩২”।
মুসলিম শাসকবৃন্দ বাংলা বিজয়ের পর হিন্দুদের নির্যাতন, হিন্দু উপাসনাগৃহ মন্দির ধ্বংস, কোথাও কোথাও মন্দিরের স্থানে মসজিদ নির্মাণ এবং কোথাও বা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাথর দিয়ে মসজিদ স্থাপনা দেয়াল সাজিয়েছে- এমন অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা পা-ুয়ার আদিনা মসজিদ, মাধাইপুরের গুণবস্তু মসজিদসহ আরো অনেক ধ্বংসাবশেষ ব্যবহার করা হয়েছে এবং মসজিদের পূর্ব পাশের দেয়ালে বৃষ্টির পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যে ছিদ্র রয়েছে তার মুখে প্রস্তর নির্মিত একটি কুমির শায়িত অবস্থায় আছে। কুমিরটির মুখের ভেতর দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রাঙ্গন থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। গুণবন্ত মসজিদ সম্পর্কে অভিযোগ হচ্ছে গুণবন্ত নামে এক ব্রাহ্মণের গড়া মন্দিরের উপর এটি নির্মিত হয়েছিল। এ ধরনের অনেক মসজিদ রয়েছে যে গুলোতে হিন্দু স্থাপনার অনেক নিদর্শন- ইট, পাথর ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছিল যা থেকে তারা ধারণা করেন যে, মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবই এ কাজে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাদের আরো অভিযোগ বখতিয়ার খলজি বাংলায় এসেই মন্দির ভেঙে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ত্রিবেনীতে জাফর খাঁ গাজী এক বা একাধিক কারুকার্য খচিত হিন্দু মন্দির ভেঙে তার উপকরণ দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। “ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশের ইতিহাস, মধ্য যুগ, পৃ. ৪৪৫”। পরবর্তীতেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। তারা বলেন, এ কারণেই বড় বড় হিন্দু মন্দির পরবর্তীতে বাংলায় গড়ে উঠতে পারেনি। “প্রাগুক্ত”
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো মুসলিম হিন্দুদের কোনো মন্দির ধ্বংস করেন নি; এর কোন প্রমাণও আমরা পাই না। বরং ইসলাম ধর্ম এইরূপ ধ্বংসাত্মক কার্য মর্থন করে না। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানগণ এদেশে এসে প্রথমত এদেশবাসীকে আপন করে নেবার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। এদেশের অধিবাসীদের সঙ্গে মধুর ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্ম গ্রহণের আহবান জানিয়েছে। এ সময় থেকেই অনেক হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে। অতঃপর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি যখন বাংলায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেন তখন নিম্নবর্ণসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ইবাদতগৃহ মসজিদ নির্মিত হতে থাকলে প্রতিবেশী হিন্দু এবং নও-মুসলিমগণ মসজিদ নির্মাণে আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিলেন। এ কথা অবাস্তব নয় যে, তাঁদের পূর্বের ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির থেকে পাথর খন্ড সমসাময়িক নির্মাণাধীন মসজিদে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্তস্বরূপ তারাই দান করেছিলেন। মুসলমানগণ তাদেরকে খুশি রাখা এবং তাদের এই দানের স্বীকৃতি দানের উদ্দেশ্যে তাদের দেয়া পাথরখন্ডগুলো উদারভাবে মসজিদে সংস্থাপন করেছেন। উলেলখ করা যায়, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সৌহার্দ্যরে প্রতীক হিসেবেই মুসলমানগণ হিন্দুদের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ তাদের মসজিদে ব্যবহার করেছেন। ধর্মীয় আগ্রাসন বা জবর দখল করে মন্দির কেন মুসলমানগণ চাইলে সে সময়ে হিন্দুদের সে সব স্থান থেকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখতেন। সুতরাং মন্দিরের পাথরের ভাঙা টুকরা গ্রহণের জন্য মুসলমান কর্তৃক হিন্দুদের মন্দির আক্রমণের প্রয়োজন হবে এ কথা কোনোক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া, এ ধরনের মন্দির আক্রমণের কোনো ঘটনা সময়সাময়িক কোনো সাহিত্য বা কোনো সূত্রেও উল্লেখ পাওয়া যায় না। সুতরাং এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই অসত্য ও অযৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হয়।
সুলতানি বাংলার সমাজ ধর্ম ও সংস্কৃতির দিক থেকে বৈচিত্র্যময়। বহু ধর্ম, মত ও সম্প্রদায়ের বসবাস এ অঞ্চলটিতে। সেন আমলে সাংস্কৃতিক ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মুসলমান বিজয়ের ফলে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি গতি প্রবাহ লাভ করে। সম্পদে পরিপূর্ণ এই অঞ্চলটি শুধুমাত্র সঠিক দিক-নির্দেশনা ও পরিচালনার অভাবে সর্বোপরি আদর্শের দেওলিয়াত্বে এক সময় ভেসে যেতে বসেছিল।
অনৈতিকতা, যৌনতা, অশ্লীলতা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, বাংলার সমাজকে কলুষিত ও কর্দমাক্ত করে রেখেছিল। উচ্চশ্রেণীর লালসা ও স্বেচ্ছাচারিতায় নিম্নশ্রেণীছিল অসহায় সমাজে তাদের কোনো স্থান ছিল না। একচেটিয়া অধিকার শুধুমাত্র উচ্চশ্রেণীরই ছিল বলে ধরে নেয়া হতো। সমাজের সাধারণ মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছিল। একটু সম্মানের জন্য তারা ছিল বড়ই উন্মুখ।
এরই প্রেক্ষাপটে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা বিজয় করে এদেশের সাধারণ মানুষের আশা আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। ইসলাম সমাজের মানুষকে মুক্তির পথ এনে দিয়েছিল। ফলে এ দেশের মানুষ খুঁজে পেয়েছিল সাহস, দেখা পেয়েছিল সম্মানের। সুরতানি আমলে বাংলা ভূখন্ড এবং বাংলা বাষা দু’টোই সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হযেছে। এতদঞ্চলের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে ভালবাসা ও স্নেহ-প্রীতির ডোরে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করেছে। বাংলার ইতিহাসে সুলতানি আমল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতা, সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। [সমাপ্ত]
-লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ