বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত দুই আহত ২০

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনের পরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সারা দেশে দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
 চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে পৌর যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পৌর সদরের গজারিয়া দীঘি নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৈয়দ মো. দাউদ সম্রাট (৩৬) পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। হামলাকারী যুবলীগ নেতা ডাকাত শহীদ একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, নিহত যুবলীগ নেতা বাজারে যাওয়ার পথে আরেক যুবলীগ নেতা ডাকাত শহিদসহ ৫/৭ জনের একটি গ্রুপ তাকে অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একইভাবে রাশাহীতে প্রতিপক্ষের হামলায় ইসমাইল হোসেন (৪৯) নামে আহত আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহীতে তিনজনের মৃত্যু হল। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত ইসমাইল হোসেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর-ধমরপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। তিনি পালপুর-ধমরপুর স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের গোদাগাড়ীর পালপুর-ধমরপুর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইসমাইল হোসেন গুরুতরভাবে আহত হন।
তাকে ওই দিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন সোমবার ভোরে ইসমাইল মারা যান।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, নগরীর দামকুড়া থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রাজশাহীর পুঠিয়া থানা চত্বরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আসামি ছাড়িয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় রাজশাহী-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুঠিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক বলেন, পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি বর্তমান সংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারার কাছের লোক। এবার দারা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় মেয়র দলীয় প্রার্থী ডা. মনসুর রহমানের পক্ষে কাজ করেনি।
নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জিতলেও মেয়রের নিজ এলাকা গ-গোহালী ভোটকেন্দ্রে হেরে যান। এ ঘটনায় রাতে মেয়রের বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের আগে সেতু ফকির রনিকে বাজারে আসতে নিষেধ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ