বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গাইবান্ধায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরের রস। এক সময় গাইবান্ধার  গ্রামগঞ্জের বাজারে খেজুরের রসের সমাহার ছিল। ভোর হলেই গাছিরা রস নিয়ে উপজেলার বাজারগুলোতে রস বিক্রয়ের জন্য বসতেন, কিন্তু এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।
 জেলার বিভিন্ন থানার ইউনিয়নে শিশির ভেজা ভোরে তাদের হাক-ডাক এখন আর শোনা যায় না। এক সময় সকাল সকাল রস বিক্রেতার আওয়াজে মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রস বিক্রি করতো গাছিরা। সেই দৃশ্যটা এখন অতীত।
 সে সময় জেলার গ্রাম এলাকায় শীতের ঐতিহ্য ছিল মিষ্টি খেজুর রস। এখন খেজুর রসের স্বাদ ভুলতে বসছে মানুষ। খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে খেজুর রস কমতে থাকে। ক্রমান্বয়ে এখন তা বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
 জেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে শীতের সকালে এক দশক আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।
এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না।
শীত মৌসুমে সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না। নতুন নতুন বাড়িঘর, কলকারখানা স্থাপনের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ।
জেলার কিছু কিছু গ্রামে এখনও খেজুর রস পাওয়া গেলেও দাম বেশী হওয়ার কারণে অনেকের দ্বারা সুস্বাদু রস খাওয়ার সুযোগ হয়না। বর্তমানে এক কেজি রস বিক্রি হয় ৪০/৫০ টাকা দরে। তাও খাটি রস পাওয়া দুস্কর। কোন কোন জায়গায় রসের সাথে পানি মিশিয়ে বিক্রি হয় বলে জানান অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ