বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা ৬টি সংসদীয় আসনের ২৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

খুলনা অফিস : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ধানের শীষের চার প্রার্থীসহ ২৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাকি দু’টিতে ধানের শীষ প্রার্থীদের জামানত অল্পের জন্যে হারিয়েছে। খুলনার আসনগুলোতে নৌকা ও ধানের শীষ ব্যতীত হাতপাখা (ইসলামী আন্দোলন), লাঙ্গল (জাতীয় পার্টি), কাস্তে (সিপিবি), গোলাপ ফুল (জাকের পার্টি), টেলিভিশন (বিএনএফ), মই (বাসদ) ও মাছ (গণফ্রন্ট) প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। এসব প্রার্থীদের কেউই ৮ হাজারের বেশি ভোট পাননি। ফলে ৬টি আসনের মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থীসহ মাত্র ৮জনের জামানত বেঁচে গেছে। বাকী সবার জামানত বজেয়াপ্ত হবে বলে জানা গেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে কখনই খুলনার ৬টি আসনে বিএনপির কোন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের ঘটনা ঘটেনি। এবারেই প্রথম। এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনার কোন আসনে বিএনপি প্রার্থীর জামানত বজেয়াপ্ত হওয়া অবিশ্বাস্য। এছাড় বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। এটা হচ্ছে ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত রূপ। খুলনার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল শীট পর্যালোচনা করে জানা গেছে, খুলনা-১ আসনে মোট দুই লাখ ৫৯ হাজার ৪২০ ভোটের মধ্যে ৮২ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৭ ভোট কাস্ট হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খান ২৮ হাজার ৩২২ ভোট  পেয়ে জামানত  বেঁচে গেছে। জামানত টেকাতে তার প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৯৯৯ ভোট।
খুলনা-২ আসনে মোট দুই লাখ ৯৪ হাজার ১১৬ ভোটের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে ১ লাখ ৪৫হাজার ৩২০ ভোট প্রদত্ত হয়। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২৭ হাজার ৩৭৯ ভোট পাওয়ায় তার জামানত  বেঁছে গেছে। জামানত টেকাতে এ আসনে প্রয়োজন ছিল ১৮ হাজার ১৬৫ ভোট।
খুলনা-৩ আসনে মোট দুই লাখ ২৬ হাজার ২৮১ ভোটের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে ১ লাখ ৬৭হাজার ৩৪৯ ভোট প্রদত্ত হয়। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ২৩ হাজার ৬০৬ ভোট পাওয়ায় তারও জামানত টিকে গেছে। জামানত টেকাতে এ আসনে প্রয়োজন ছিল ২০ হাজার ৯১৮ ভোট।
খুলনা-৪ আসনে মোট তিন লাখ ১০ হাজার ৪৭৬ ভোটের মধ্যে ৭৯ দশমিক ৭০ শতাংশ হারে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৬৪ ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল ১৪ হাজার ১৮৭ ভোট  পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত টেকাতে তার প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৯৩৩ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে মোট তিন লাখ ৪৪ হাজার ৪৭০ ভোটের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ হারে দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৩ ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ৩২ হাজার ৯৫৯ ভোট  পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত টেকাতে তার প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৪ ভোট।
খুলনা-৬ আসনে মোট তিন লাখ ৬৬ হাজার ২৩৯ ভোটের মধ্যে ৮৫ দশমিক ০৪ শতাংশ হারে তিন লাখ ১১ হাজার ৪৬০ ভোট কাস্ট  দেখানো হয়। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৯ হাজার ২৫৭ ভোট  পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত টেকাতে তার প্রয়োজন ছিল ৩৮ হাজার ৯৩২ ভোট।
এদিকে গতকাল সোমবার খুলনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের লিখিত রেজাল্ট শীটে দেখা গেছে, খুলনা-১ আসনের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস এক লাখ ৭২ হাজার ১৫২ ভোট, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান ২৮ হাজার ৩২২ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু সাঈদ ৫ হাজার ৯৬৫ ভোট, জাতীয় পার্র্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সুনীল শুভ রায় ৪ হাজার ৯২১ ভোট ও সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রাথী অশোক কুমার সরকার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২১২১৮৮। বাতিল হয়েছে ১৩৯৯টি ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২১৩৫৮৭। এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে খুলনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন মাইকে ঘোষণা দেন। তখন তিনি বলেছিলেন, খুলনা-(দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ২৫৩৬৬৯ ভোট এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ২৮১৭০ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫৯৪২০ জন। এখানে মোট ভোটের চেয়ে নৌকা ও ধানের শীষ দুই প্রার্থী মিলে মোট ভোটারের চেয়ে ২২ হাজার ৪১৯টি ভোট বেশি পড়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যালটে  নৌকা প্রতীকে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করেছিল বলে ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান  রোববার দুপুরে প্রেসব্রিফিং করে অভিযোগ করেছিলেন এবং নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। উল্লেখ্য, এ আসনের ১০৭টি  ভোট  কেন্দ্রের ৫৩৩টি  ভোট কক্ষে  ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ