বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ভোট কেড়ে নিয়েছে -সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মহাজোট প্রাথী নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে শনিবার রাত থেকে ফটিকছড়ির প্রায় ১২০টি ভোটকেন্দ্রে ৬০/৬৫ শতাংশ ব্যালটে নৌকা মার্কায় সীল মারা, পোলিং এজেন্টদের মারধর ও জোরপূর্বকভাবে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। রোববার দুপুর ২টায় মাইজভান্ডারস্থ তার নিজ বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, মহাজোটের প্রার্থীর প্রতি জনসমর্থন ও ভোটারদের আস্থা না থাকাতে বিষয়টি তিনি পূর্ব থেকে আঁচ করতে পেরেছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকা তার জন্য অসম্ভব ভেবে তিনি এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এই রকম ঘৃন্যতম কাজটি সম্পন্ন করেছেন। যা নিবাচর্নী আইনে সম্পূর্ণ বেআইনী ও শাস্তিমূলক অপরাধ। সকালে উপজেলার নারায়নহাট হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার নিয়োজিত পোলিং এজেন্ট নাইম উদ্দিনকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। এই কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার প্রতিবাদ করে চ্যালেঞ্জ করলে প্রিসাইডিং অফিসার অভিযোগটি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর সন্ত্রাসীরা তাঁকে জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকী প্রদর্শন করলে তিনি তার নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এছাড়া তিনি উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভা, বাগানবাজার, দাতমারা, নারায়ণহাট, কাঞ্চননগর, পাইন্দং, সুন্দরপুর নাজিরহাট পৌরসভা, নানুপুর, বক্তপুর, সমিতিরহাট, জাফত নগর, রোসাংগীরি, আবদুল¬াপুর ভোট কেন্দ্রসহ ১২০টিরও অধিক কেন্দ্রে সরকার দলীয় লোকজন প্রশাসনের সহায়তায় নিজ হাতে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কায় সীল মেরে ব্যালট বক্সে ঢুকিয়ে দেয়।
সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে তিনি কর্মীদের অভিযোগ সত্যতাপান বলে দাবি করে বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় সরকারি দলের সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে সাধারন ভোটাররা কেন্দ্রের বাইরে নিরীহ ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে এ দৃশ্য অবলোকন করা ছাড়া তাদের করার কিছুই ছিলনা। যেসব ভোটার ভোট কেন্দ্রে গেছেন তাঁদের হাতের আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দিয়ে তোমাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি নিজেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধের স্ব-পক্ষের লোক দাবী করে আরো বলেন, আজকের ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে আমি একজন গণতন্ত্রকামী মানুষ হিসেবে খুবই মর্মাহত, লজ্জিত এবং ক্ষুদ্ধ। নির্বাচন কমিশন বার বার অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে আসলেও আজকে তার উল্টো প্রমাণ করেছে। ক্ষতি করেছে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা, জনগণের জান মাল ও সম্মান। গণতন্ত্র রক্ষায় এসব পন্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে আহবান জানান। সংবাদিক সম্মেলনে তারপুত্র শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-ই-মঈনুদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহসিন মোহন, শাহ মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ