বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চা বিক্রেতা লাইফ মিয়ার সাফল্য

টিএইচ জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) থেকে: স্বপ্ন পুরণে বড় বাধা অভাব নামক দানবের শত বাধা পেরিয়ে অদম্য মেধাবী লাইফ মিয়া এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ সাফল্য অর্জন করেছে। লাইফ মিয়া গাইবান্ধা সাদুল্যাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মুজাহিদ পুর এলাকার নওশা মিয়ার ছেলে।
জীবিকার তাগিদে স্থানীয় কিশামত ঝাউলার বাজারস্থ একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে চা বিক্রি কারার পাশাপশি লেখা-পড়া চালিয়ে আসছিল লাইফ মিয়া। গত ২০১৫ সালে পিইসি-তে খোর্দ্দমুজাহিদ পুর সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। সংসারে দৈন্যদশা ও লেখাপড়ার খরচ বহন একমাত্র উপায় চা বিক্রি। বিদ্যালয় ছুটির পর থেকে রাত অবধি চা বিক্রি শেষে লেখা পড়ায় মগ্ন হয় রাজু। অনেক সময় দোকানেও বই পড়ত সে। জীবনের বড় ইচ্ছা নিজেকে ডাক্তার করে গড়ে তুলতে সকল সিঁড়ি অতিক্রম করা। এ ইচ্ছা শক্তি সকল বাধাকে অতিক্রম করে চলতি বছর জেএসসি  পরীক্ষায় খোর্দ্দকোমর পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে রীতিমত পুরো এলাকায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছে লাইফ মিয়া। ক্লাশ শুরুর ৩০ মিনিট  আগে দোকানে বৃদ্ধ বাবার উপর ছেড়ে দিয়ে শ্রেণীকক্ষে যেত লাইফ মিয়া। এক সময় উচ্চতর  ভর্তি হলে তো বাহিরে থাকতে হবে। তবে কি করে চলবে তার সংসারের চাকা আর কি করেই চলবে পড়াশুনার খরচ- এসব প্রশ্নই তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
লাইফ মিয়া বলেন, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়- এ বাক্যটিকে মেনে নিয়ে এতদুর এগিয়েছি। জীবন মানেই সংগ্রাম। লেখাপড়ার সাথে আমাকে দারিদ্র্যতা মোকাবেলায় বাড়তি সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং হচ্ছে। "চা বিক্রেতা নরেন্দ্র মোদি যদি ভারতের মত এতবড় দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে আমি চা বিক্রেতা লাইফ ডাক্তার হতে পারব না কেন? এ প্রশ্ন তুলেন লাইফ। কথা হয় লাইফের এর বাবা নওশা মিয়ার  সাথে। তিনি বলেন ছেলের এ ফলাফলে অত্যন্ত খুশি হয়েছি কিন্তু ছেলের স্বপ্ন পুরণ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে বেশ চিনিতত। লাইফ মিয়া'র মা নারগিস বেগম বলেন, অনেক বার কইছি হামরা গরিব মানুষ। লেখাপড়া করে হামার লাভ কি? আর এত টাকা কোনটে পামো। লাইফ শুধু মায়ের দোয়া নিয়ে ডাক্তার  হবার জন্যেই চা দোকান করে ফির পড়াও পড়ে।
খোর্দ্দকোমর পুর বহুমুখী উচ্চ  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, লাইফ মিয়া খুবই মেধাবী ছাত্র। খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করে লেখাপড়া করে সে আজ সার্থক জেএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তাকে স্কুলে সকল  সহযোগিতা করেছি। এমনকি মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের উচ্চতর লেখাপড়া করতে গিয়ে অর্থনৈতিক কোন সমস্যা হলে স্কুল থেকে সহযোগিতা করেন বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ