বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আমতলীতে জমি নিয়ে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদী ও তার পরিবার

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে জমিজমা নিয়ে মামলা করে বিপাকে পড়েছে বাদী ওতার পরিবার। প্রতিনিয়ত মামলার বিবাদীদের হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন বাদী ও পরিবারের সদস্যরা। বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৮ নভেম্বর  জোর করে ধান কেটে নেওয়ায় মো. মাসুম চৌকিদার(৩৫)  মো. সবুজ হাং (৩০) জাকির হোসেন(৪৩) জাহাঙ্গির আলম (৪০) শাহজাহান (৫৭)সহ ৫জনকে  কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন জমির মালিক সেলিম চৌকিদার। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে উপজেলা সাবরেজিষ্টারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য  আদেশ প্রদান করেন।
 মামলা সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার জে এল নং ২৩ সোনাখালী মৌজার এস এ ৬০২ ও ১৮২ নং খতিয়ানের ৮০ শতাংশ জমির পাকা ইরি ধান জোর করে মামলার আসামীরা কেটে নিয়ে যায়। মামলার বাদী জানান, বরগুনা যুগ্ম জেলা জজ আদালতের  দেওয়ানী  ৫৫ /২০১৭ নং মোকদ্দমার সোলে সূত্রে রায়প্রাপ্ত ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। ২৮ নভেম্বর মামলার আসামীরা   ভাড়াকরা সন্ত্রাসীদের নিয়ে জোর করে পাকা ধান কাটতে যায়। তখন  সেলিম চৌকিদার বাধা দিতে গেলে  তাকে মারধোর করে  ফেলে রেখে  ধান  নিয়ে যায়। মামলাসূত্রে আরো জানা যায়, আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের  আ. আজিজ মিয়া জাল জালিয়াতী করে কাগজ  তৈরি  করে জমির মালিকানা দাবী করছেন। কিন্তু  ১৯৫৭ সালের ৩৮১ নং সোলে সূত্রে মালিক নুর হোসেন চৌকিদার ও সতীশ চন্দ্র। ১৯৭২-৭৩ সালে সরকার উক্ত জমি ভিপি সম্পত্তি ঘোষণা করেন।  সরকারের এই আদেশের বিরুদ্ধে নুর হোসেন চৌকিদার গংরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বরগুনা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন।  মোকদ্দমাটি  ২০-০৫-১৪ ইং তারিখ  মোকাম অর্পিত সম্পত্তি প্রর্ত্যপণ ট্রাইবুন্যাল, বরগুনা  মোকদ্দমা নং ৭০৪/১৩ এ (দ্বিতয়ি সংশোধন) আইন ২০১৩ এ আলোকে ২৮ ক (১)(২) ধারা মতে  এবেট করা হয়েছে বলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক  মো. আব্দুল মোক্তাদির আদেশ প্রদান করেন। অত্র আদেশের পর নুর হোসেন চৌকিদার গংরা নাম জারীর জন্য আমতলী সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে  আবেদন করেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে   ৯৪১ আম নং নামজারী কেসের মাধ্যমে নুর হোসেন গংদের নামে নাম জারি হয়। এর পর সহকারী কমিশনার ৪১ আম ২০১৪/১৫ নং নাম জারী কেসের মাধ্যমে উক্ত নাম জারি বাতিল করেন। তারপর সহকারী কমিশনার কর্তৃক নাম জারি বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে নুর হোসেন চৌকিদার গংরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্বর আদালতে   আপিল দায়ের করেন  যার নং ০২/২০১৫।
 উক্ত বিচারক সহকারী কমিশনার কর্র্তৃক  নামজারী বাতিল আদেশ বাতিল করে নুর হোসেন গংদের নামজারী বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর যুগ্ম জেলা জজ আদালত বরগুনা দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৫৫/১৭ তে রায় প্রাপ্ত হন নুর হোসেন গংরা। রায় প্রদানের পর বাদী পক্ষের আবেদনের  কারণে আদালত এ্যাডভোকেট কমিশন গঠনের নির্দেশন দেন। এ্যাডভোকেট কমিশন বাদী ও বিবাদীকে দখল বুঝাইয়া দিয়ে আসেন। নুর হোসেন গংদের পক্ষে মো. সেলিম চৌকিদার  জানান, মামলার  প্রতিপক্ষরা  প্রতিদিন হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আমরা  নুর হোসেন গংরা এক প্রকার পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এ ব্যাপারে  প্রতিপ্ক্ষ গ্রুপের  জাকির হোসেন জানান আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী উপজেলা সাবরেজিষ্টার মো. মাসুম মিয়া বলেন আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এ  ঘটনায় জালজালিয়াতী কারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নুর হোসেন গংরা প্রশাসনের উচ্চ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ