বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নিতো। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচনে কোনও অনিয়ম হলে ইসি নির্বাচন বন্ধ করে দিতো। তিনি বলেন এ বিজয় আমার একার নয়, সবার।
গতকাল সোমবার গণভবনে বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিবায়াত, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল নিজামউদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পুুলিশের পক্ষ থেকে আইজিপি মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, এ বিজয় তাঁর ব্যক্তিগত কোন লাভের জন্য নয়, বরং এই বিজয় দেশ ও জনগণের প্রতি আরো বড় ধরনের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, আমি মনে করি পুনঃনির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কাজ করার বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হলো এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো।
 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও অনিয়মের অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নিতো বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচনে কোনও অনিয়ম হলে ইসি নির্বাচন বন্ধ করে দিতো।
এ সময় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা জটিলতা, সক্রিয় বিরোধী দলের অভাব ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদক বলেন, এবার বিদেশী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। ভিসা জটিলতায় অনেকেই আসতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই তাদের আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়নি। এ ছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
আল-জাজিরার ওই সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্যে সহিংসতা হয়ে আসছে। আপনি কি সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনবেন? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি অতীতের নির্বাচনগুলোর ইতিহাস দেখলে জানতে পারবেন, ২০০১ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট বিএনপি-জামায়াত কীভাবে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছিল। আমাদের এই বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু আমরা তেমনটা করি না।
 ক্ষমতাসীন দল কিংবা বিরোধী দল স্বাধীন। বিরোধী দল নির্বাচনে জিততেই পারে। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের কোনও রকম হয়রানি করেননি। বরং বিরোধী দলের হামলায় আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আমি তাদের নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছি, সংলাপ করেছি। আমি অনেক সময় ব্যয় করেছি, যেন তারা নির্বাচনে অংশ নেয়। আমরা তাদের ওপর চড়াও হতে চাই না। আমরা দেশের উন্নতি চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। সবাই রাজনৈতিক চর্চা করবে। কিন্তু আমরা সহিংসতা ও পেট্রোলবোমার রাজনীতি সমর্থন করবো না।
আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সংসদে সক্রিয় বিরোধীদল না থাকায় কি আপনি চিন্তিত? আপনি কি শঙ্কিত যে, আরও সহিংসতা হতে পারে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সহিংসতা ঠেকাতে যেকোনও পদক্ষেপ নেবো।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে ইন্টারনেট গতি কেন কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ইন্টারনেট অনেক প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের সময় আমরা প্রযুক্তিগত সেই সুবিধা পাইনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেট বেশি ব্যবহারের কারণে গতি কমে গিয়েছিল।
রয়টার্সের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, অনেক স্থানেই ভোট বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা কি আশা করতে পারি, নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকার এই ঘটনার তদন্ত করবে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই তারা করতে পারে। অতীতেও এমন তদন্ত করেছে তারা। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে যেন তারা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা অনুরোধ করবো, তারা যেন এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ