সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে জাতীয় নির্বাচন

এইচ এম আব্দুর রহিম : আজ রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে জাতীয় নির্বাচন শুরু হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, ভাংচুর, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়াসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের ওপর হামলা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বহরে হামলা হয়েছে, নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতা নিহতসহ প্রতিদিন সারা দেশে ৫০/৬০টি সহিংস ঘটনা ঘটছে। তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশ থেকে পুলিশ ১০ হাজার ৩২৯ জনকে আটক করেছে। ডজনখানেক ধানের শীষ প্রার্থী আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আহত হয়েছে। গাইবান্ধা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী গুম হয়েছে। এরপরও গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, আগের চেয়ে ভোটের মাঠের পরিবেশ অনেক ভালো আছে। সিইসির এই বক্তব্যে দেশবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দেশের বিশাল এলাকা এখন নির্বাচনী সহিংসতার কবলে। আর এটি করা হচ্ছে মূলত ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে। কাজেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা কতো বিশাল এবং ভীতিকর তার সামান্য হলেও কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছে।
গত ১৫ দিনে ১০ সহস্রাধিক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেয়া হয়েছে। ১৩ ডিসেন্বর প্রথম আলো পত্রিকা স্পষ্ট করে বলেছে, বিএনপিকে চাপে রাখতে গ্রেফতার, মামলা, হামলা, বাধার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আসলে সরকার বিরোধীদলের উপর হত্যা, গুম, মামলা, হামলা নির্যাতন করে এলাকা ছাড়া করে ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে যাচ্ছে। হয়তো বা তাদের এ আশা পূরণ নাও হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এসব ঘটনার জন্য পুলিশকে সতর্ক না করে তাদের প্রশংসা করছে। নির্বাচন কমিশন মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিন্ড তৈরি হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন, তিনি অসত্য কথা বলেছেন। তাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য সাধারণ জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমেনি বরং আরো বাড়ছে। এ কারণে সর্বত্র একটি প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে আমরা আমাদের ভোট সহি-সালামতে দিতে পারব তো? এই ভীতি উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, শংকা দূর না করার ব্যর্থতা পুরোটাই নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে যে, সিইসি যতই পক্ষপাতমূলক হবেন, জনমনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সংশয় সন্দেহ ততই বাড়তে থাকবে। আসলে পুরো পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং কর্মকাণ্ডে সাধারণ ভোটাররা সত্যিকার অর্থে মর্মাহত। আসল বিষয় হল, কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনোদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে না। অতীতে কখনও হয়নি। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ের মুখে আওয়ামী লীগ খন্দকার মোশতাকসহ কয়েকজন নেতাকে জেতাতেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে, যা ছিল সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া। একাদশ জাতীয় সংসদের মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত খুন হয়েছে অনধিক ১০ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশ বিরোধী দলের। মৃত ব্যক্তিরা তারা সবাই আদম সন্তান, কারো বাবা, কারো স্বামী। এই হানাহানির অন্যতম কারণ হলো, নির্বাচনী মাঠটি সমতল নয়। ক্ষমতাসীন দলের জন্য মসৃন বিরোধী দলের জন্য এবড়ো-থেবড়ো। এজন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিপক্ষ কর্তৃক। আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ বহাল রেখে, এমপি পদে থেকে নির্বাচন করছে। যে কারণে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা তাদের কাছে অসহায়। বিগত ইউপি নির্বাচন দেখেছি, কিভাবে ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করেছিল তারা। তার আগে দেখেছি উপজেলা নির্বাচন। সিটি নির্বাচনেও একই অবস্থা দেখেছি। এ সরকার যারা সমর্থন করবে না তাদেরকে জঙ্গি, দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা বিরোধী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে, মামলায় জড়িয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে, যেন তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারে।্ ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করতে পারে। তবে তাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। অতীতে যারা এভাবে গায়ের জোরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে তারা তিনটি অবস্থার স্বীকার হয়েছে এক. অপমান অপদস্ত অবস্থায় পদত্যাগ, দুই.  দেশত্যাগ, তিন. দেহত্যাগ। দৃষ্টান্ত হিসেবে কর্নেল গাদ্দাফী, জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, দেশী পর্যবেক্ষক বিষয়ে আস্থাহীনতা এবং কমিশনের প্রতি ধোঁয়াশা অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। জনগণের কোন আস্থা নেই এই সরকারে প্রতি। তারা স্পষ্টভাবে বলছে এই সরকারের অধীনে কোন দিন নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। দেশের মানুষের একটি আস্থা তৈরি হয়েছিল সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে আর পর্যবেক্ষকরা থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সেনাবাহিনী নামার পর সহিংস ঘটনা আরো বেড়েছে। সিইসি বলেছিল ১৫ ডিসেন্বরের পরে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে কিন্তু তা করা হয়নি ২৪  ডিসেন্বরের সেনাবাহিনী নামানোর পর কোনো কাজ হলো না। এদিকে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, অতীতে জনগণ ভোট দিয়েছিল বলে ক্ষমতায় এসেছি। আর এবার জনগণ ভোট না দেয় ক্ষতায় আসব না এবং তাতে কোন দুঃখ নেই। কিন্তু সরকার দমন নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিগন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, একদিনে সারা দেশে ৪০০ গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হবার অবারিত সুযোগ হয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকারের একগুয়েমিতা সেই সুন্দর পরিবেশ ভ-ুল হয়ে যেতে বসেছে। সরকার বিরোধী দলের ওপর যে আচরণ করছে তাতে তাদের দুর্নাম এখন সবার মুখে মুখে এবং এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলেও এ নির্বাচন সারা বিশ্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। আজ আওয়ামী লীগ যদিও ক্ষমতায় থেকে বিরোধী দলের প্রতি মারমুখী আচরণ না করে সহানুভূতিশীল হতো তাহলে নির্বাচনে হেরে গেলেও তাদের সুনাম অক্ষুণœ থাকতো। আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অন্যন্য। রাজনৈতিক দলের পথপ্রদর্শক হিসেবে যে সুযোগ পেয়েছে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ না করতে পারায় তারা সব হারিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সুযোগে যা করতে চাইছে তার ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন প্রশাসন, পুলিশ ইত্যাদিকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে একনায়কতন্ত্রের বীভৎস চেহারা দেশাবাসীর কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাদের সাথে যারা থাকবে তারা হবে সঙ্গী আর সাথে না থাকলে তারা হবে জঙ্গি, দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার। তারা চিন্তা করে দেখেছে এ নির্বাচনে হয়তোবা ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। পুলিশ প্রশাসন বিরোধী দলের ওপর খড়গহস্ত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক মাঠ থেকে শূন্য করে দিতে চাচ্ছে। তাদের একগুয়েমিতার কারণে জনগণের কাছে তারা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে যেসব ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে, তাতে বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট দুর্নাম হয়েছে। এরপর যদি তারা এই প্রশ্নে অটল থাকেন, তাদের সংশ্লিষ্ট কেউ বিশ্বাস করবে না। সরকার ও দেশ সম্পর্কে বাইরের দুনিয়ার বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। নির্বাচনে সরকারি দলের বাড়াবাড়ি আচরণের ফলে একটি নতুন প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, বিরোধী দল রাত জেগে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। মানুষ যদি কোনো কাজ করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয় তাহলে তাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। বরং তা ইতিহাস হয়ে প্রেরণা জোগায়। মোটকথা সরকারের পক্ষে অন্যায় অনৈতিক কাজ যত বেড়ে যাবে, ততই বিরোধী দল নতুন কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হবে। তাতে ক্ষতি হবে সরকারি পক্ষের। সুতারাং সময় থাকতে সরকারি দলকে সাবধান ও সংযত হয়ে তাদের কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এট বাংলাদেশ সরকারের জন্য এটা সুখবর নয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকারি দলের প্রার্থীরা। যারা চান নির্বাচন সফল হোক তারা দেখতে চান সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক এবং সেসব নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হোক। ভোটারদের বেশি বেশি সংখ্যায় নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের আগমন ঘটুক। কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যেন না হয়। নির্বাচন কতটা জমে উঠে, তার একটা লক্ষণ নির্বাচনে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক যদি বাড়ে যথেষ্ট সংখ্যায়। এবার দেশী পর্যবেক্ষক কম হবে তা আগে থেকে জানা গেছে। এখন জানা যাচ্ছে বিদেশী দলটি আসছে না। এসবের নিশ্চয়তা সরকারের হাতে থাকার কথা। সরকার এবার নির্বাচনে প্রধানবিরোধী দল কে নিরুৎসাহিত করতে চান, তার লক্ষণ গত দশম সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বয়কট করায় কতটা খুশি হয়ে ছিল। এবার প্রধান বিরোধী দল সহ সকল বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় সরকার ততটা ভীত শংকিত। অথচ এবার সরকারের উচিত হবে স্বতপ্রণোদিত হয়ে বিরোধী দলের প্রতি উদার মনোভাবপোষণ করা। তাদের অধিক সংখ্যক কে নির্বাচনে আনয়ন করার চেষ্টা করা। এ সরকার যে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধী সে অভিযোগ ভিত্তিহীন পরিনত হবে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দেশের পরিবেশ আরো ভাল হবে বলে আশা করছে। এর আগে পরিবেশ নির্বাচনের ব্যাপারে বিরোধী দলের কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যে বাধার সৃষ্টি করে যে দুর্নাম অর্জন করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরিশেষে এই র্দুনাম ঘুচবে বলে অনেকে আশাবাদী। আসন্ন নিবাচন কে সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে হলে সরকার, ইসি, পুলিশ প্রভৃতিকে যে কোন মূল্যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ আরো সুন্দর করা যায়। তবে সরকার যে মনোভাব নিয়ে সেনাবাহিসী মোতায়েন করেছে তার চূড়ান্ত স্বার্থকতা নির্ভর করবে সরকার যদি এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের পরিবেশ বজায় না রাখে। সরকারের এই নিরপেক্ষ মনোভাবের ফলে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ফলে শাসক দল যদি নির্বাচনে পরাজয় বরণ করে তবুও সরকারি দলের লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। এই পরাজয়ের ফলে জনগণের প্রতি যে আস্থা সৃষ্টি হবে তার সুফল শাসক দল পাবে পরবর্তীকালে। অন্যথায় জনগণের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে যে অনাস্থা বিরাজমান তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তারা আত্মসংশোধনের অযোগ্য এ ধারণা পাকাপোক্ত হয়ে যাবে, তা হবে তাদের জন্য আত্মঘাতী। আমরা সরকারি দলের নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলতে চাই এ কারনে যে, এর ফলে জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হবে, যার সুফল হবে সুদূরপ্রসারী। এ দিকে সরকার এমন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করেছেন সরকারি দলের বাইরে কোন স্বাধীন অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ ইসি যদি মেরুদ-হীন হয় ও তার স্বাধীন অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে, তার উপর জনগণের আস্থা থাকবে না। আর জনগণ ইসির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেললে তার পক্ষে আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তার দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেখানে একদা সকল জাতীয় নির্বাচন একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতো। এ দেশে এমন একটা ব্যবস্থা ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু ছিল। এ দেশে কয়েকটি নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীকালে এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা হয়। যুক্তি হিসাবে দেখোন যে, পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দলীয় সরকারের ধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তারা নির্বাচনকালীন সময়ে দলীয় সরকারের মত আচরণ করে না। সরকারের স্বরূপ থাকে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত।
লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ