শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মীদের পুলিশী হয়রানি করে ধানের শীষের গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না---ধানের শীষের প্রার্থী হেলাল

খুলনা অফিস : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা জেলাব্যাপী শাসক দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাস, পুলিশের হয়রানি, মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির প্রতিবাদে খুলনা জেলা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল প্রেস ব্রিফিং নগরীর কেডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রেস ব্রিফিং-এ হেলাল বলেন, হাসিনা সরকারের অধীনে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারেনা বলে ঐক্যফ্রন্ট যে অভিযোগ করেছিল সারা দেশে ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, গণগ্রেফতার ও দমন-পীড়ন থেকে তার প্রমাণ মিলেছে। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমার নির্বাচনী এলাকায় একাধিক মামলা হামলা ও গণগ্রেফতারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে খুলনা-৪ আসনের রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ার ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারন ভোটার। চলছে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সরকার দলের ক্যাডারদের তান্ডব। একাধিক ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার মাইক ভাংচুর করে এবং সেই অফিস দখল করে নৌকা মার্কার প্রচার অফিস তৈরি করেছে। প্রতিদিন প্রচারে গেলে হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিইসি এবং খুলনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আমি একাধিক বার নির্বাচনের নিয়োজিত সিইসি এবং খুলনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাথে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ও ফোন করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার তো দুরের কথা আরো বেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদধারী শীর্ষ ৮৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের নামে সরকারের দেওয়া গায়েবী মামলায় জামিনে আছেন তারপরও গতরাতে বিনা ওয়ারেন্টে ৮৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রূপসা উপজেলার টিএবি ইউনিয়ন থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান টুকু, আসাবুর মোড়ল, ফিরজ মেম্বর সহ তিনজন, নৈহাটি ইউনিয়ন থেকে ইলিয়াস মেম্বর, সোহাগ শিকদার, মোমিনুর রহমান সাগর, আবু সাইদ, মোহিদ শেখ, মোমতাজুর রহমান, সাকিব রায়হান, মো. বাবু, মো. জিয়া, আজমল হোসেন, মো. রনি, ফয়সাল আহম্মদ, মো. তুহিন। আইচগাতি ইউনিয়ন থেকে কামাল হোসেন ও রনি জম্মাদারসহ দুইজন। দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়ন থেকে আসাদ মেম্বর, মো. তায়েজ, মো. হুমায়ন, মো. ইব্রাহিমসহ তিন জন। বারাকপুর ইউনিয়ন থেকে হেমায়েত চৌধুরী, হান্নান মল্লিকসহ সাত জন। বাদাল থেকে গতরাতে গ্রেফতার করে সোহেল রানা তুহিন, দীন ইসলাম দিপ্ত, ইমরান মোড়ল, সরিফ ইযারাদার, রাজু ইযারাদারসহ বিএনপির ১৪ জন। তেরখাদা উপজেলা থেকে তেরখাদা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হুমায়ন মোল্লা, নূর ইসলাম শেখ, সাইফুল শেখ, হাবিব শিকদার, সোহেল শিকদার, পারভেজ আলম, হানিফ ফকির, জামাল ভুইয়াসহ পাঁচজন। ২৫ ডিসেম্বর খুলনা কোর্টে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের খাবার দিতে গেলে সেখান থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সায়াবুদ্দিন ইজারাদার, মনির লষ্কর, কবির শেখ। উত্তর রূপসা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এস এম বোরহান উদ্দীন এবং সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান শোভন কে ২নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের মৈশাঘুনী বাজার থেকে আসার পথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মারধর করে আহত করেন এবং বোরহানের গাড়ি ভাংচুর করে। তাদেরকে খুলনা সদর হাসপাতালে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে হেলাল বলেন, আমার গনসংযোগের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে উষ্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে আমার নেতাকর্মীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে, আমি নিজে নেতাকর্মীদের শান্ত করেছি। তারপরও সরকার দলের ক্যাডারা বিভিন্ন জায়গায় হামলা করেছে। এবং নিজেদের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে বিনা ওয়ারেন্টে নেতাকর্মীদের গনগ্রেফতার করচ্ছে। মহিলা কর্মীদের লাঞ্ছিত করা, লিফলেট কেড়ে নেয়া, পোস্টার ছিড়ে ফেলা, নির্বাচনী টেন্টে আগুন দেয়া, কুপিয়ে কর্মীদের আহত করার অসংখ্য অভিযোগ তুলে ধরে হয়। পুলিশ প্রশাসন কিভাবে ভোট কেন্দ্রে ঢুকবে, কিভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করবে, কিভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হবে, কিভাবে ভোট ডাকাতি করবে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছক তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ার একাধিক গায়েবী মামলায় চার্জশিট দাখিল করে ধানের শীষের কর্মীদের গ্রেফতার করে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা করার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-খুলনা জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি খান জুলফিকার আলী জুলু, শেখ আব্দুর রশিদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম সম্পাদক মেজবাউল আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম কবির, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রুনু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, নাদিমুজ্জামান জনি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ