বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নির্মাণাধীন খানজাহান আলী বিমান বন্দর অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ কম পাওয়ায় হতাশ গ্রামবাসী

খুলনা অফিস : বসতবাড়ির জমিটুকু ছাড়া আর কোন জমি নেই। কিন্তু সরকার তা বিমানবন্দরের জন্য নিয়ে নিয়েছে। এ বাবদ টাকা যা পেয়েছি তাতে নতুন করে জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন যাবত একসঙ্গে প্রতিবেশীদের আশ্রয়ে থাকতে হচ্ছে-কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মামুন মলঙ্গীর স্ত্রী মারিয়া বেগম (৩০)।

একই পাড়ার বাসিন্দা মো. বাকী বিল্লাহ মল্লিক (৪৫) বলেন, ১০ বছর আগে পাকা ইটের দেয়াল দিয়ে ও টিনের ছাউনির একটি ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলাম। সরকার জমি ছেড়ে দিতে বলেছে। অথচ ঘরের ক্ষতিপূরণ বাবদ কোন টাকা দিচ্ছে না। জমি বাবদ টাকা দেয়া হচ্ছে, তাহলে ঘর করার টাকা কোথায় পাবো? 

শুধুমাত্র মারিয়া বেগম আর বাকীবিল্লাহ নন, হোগলডাঙ্গা গ্রামের প্রায় সকল পরিবারের সদস্যদেরই কণ্ঠে এমন হাহাকার। খান জাহান আলী বিমানবন্দরের জন্য নতুনভাবে জমি অধিগ্রহণে এই গ্রামের প্রায় অধিকাংশ জমি চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণের টাকা নেওয়ার জন্যে অফিস আদেশ হয়েছে। কিন্তু ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে সন্তুষ্ট নন ওই সব পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ ভূমি অফিসের কর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনেককে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিয়েছে, আর যারা সুবিধা দেয়নি তারা এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। 

বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের দপ্তরের এলএ বিভাগ সূত্রে জানা যায় ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ’ প্রকল্পটির প্রথম প্রস্তাব দাখিল হয় ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। পরে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়া হয় ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর। ওই প্রস্তাবে ৯টি মৌজায় ৫৩৬ একর জমির কথা উল্লেখ করা হয়। ২০১৬ সালের ২২ নবেম্বর প্রাথমিক অবস্থায় আনুসঙ্গিক ব্যয়ের জন্য সরকার বরাদ্দ দেয় ৪৩ কোটি টাকা। সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি। এরপর জেলা প্রশাসক জমি অধিগ্রহণের জন্য এল এ কেস নং ০৫/২০১৬-১৭- এ ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৩ ধারার নোটিশ জারি করে। এরপর বিমান বন্দরের জমি অধিগ্রহণের সম্ভাব্য এলাকায় নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণের উপরেও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়। ২০১৭ সালের ৩ মে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় ৫২৯.৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য সিদ্বান্ত নেয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয় জমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদন দেয়। চলতি বছর ১১ জানুয়ারি ৬ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। জমি অধিগ্রহণের মূল্য বাবদ সরকারের কাছ থেকে ১৬৯ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৭ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৭ জুন ৭ ধারা নোটিশ জারি করে। ১৮ আগস্ট জেলা প্রশাসন ওই জমি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে। কিন্তু বিমান বন্দর নির্মাণে অন্তত ১ হাজার ৬২৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতোমধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ৪শ’টি চেকের মাধ্যমে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৬ কোটি ৭৬ লাখ ৪ হাজার ৩৬৩ টাকা, অবকাঠামো ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ বাবদ ২১ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও অনেকেই ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করেনি। কারণ, তাঁদের অভিযোগ তাঁদেরকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। তবে বাগেরহাট জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বলেন, সাত শতাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকেই ক্ষতিপূরণের অর্থ নেননি। আমরা তাদের কথা শুনছি, তাদের অভিযোগ গ্রহণ করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ