শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঐক্যফ্রন্টকে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান আওয়ামী লীগের

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্টকে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
নানক বলেন, ‘‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিদ্যমান ছিল না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরাচার মেজর জিয়া বলেছিলেন, ‘আমি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে তুলবো।’ উনি সেদিন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির ধারা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছিলেন। তার অনুসারী বিএনপি আজও  সেই অপরাধের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। এই আদর্শিক সংকট থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৈতিক উত্তরণ না ঘটলে বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতির লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ফিরিয়ে আনা কি এত সহজ? বিএনপি-জামায়াতের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্টের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে, নির্বাচনের পরিবেশ ও ভোটারদের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আমরা বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টকে আহ্বান জানাই, আপনারা সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসুন। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও কল্যাণকর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল্যবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই।’’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে বিএনপি, জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব, সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংস রূপ ততই উন্মোচিত হচ্ছে দাবি করে নানক বলেন, ‘ন্যায়নীতি ও সততার মুখোশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে তাদের বীভৎস চেহারা। আপনারা দেখেছেন গতকাল (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে নগদ ৮ কোটি টাকা, ১০ কোটি টাকার চেক এবং তারেক জিয়ার ছবি সম্বলিত বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার, টাকার সঙ্গে ঢাকার একটি আসনের সব ভোটারের নাম- ঠিকানা সম্বলিত একটি তালিকাসহ হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের উঠে এসেছে, এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। যেসব অর্থ দুর্নীতিবাজ দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামী তারেক রহমানের মাধ্যমে দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যার পেছনে রয়েছে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী চক্রান্ত এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের অপতৎপরতা। নির্বাচন প্রভাবিত, প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেই এ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।’
ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাস্তানি করেছেন এমন অভিযোগ করে নানক বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন কীভাবে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে রীতিমতো এক ধরনের মাস্তানি করেছেন। এমনকি আমাদের দেশের পেশাদার পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে অত্যন্ত অসম্মানজনক শব্দ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা আমরা মুখেও আনতে চাই না। এর আগে তারা আমাদের গৌরব ও মর্যাদার স্মারক সেনাবাহিনীকে নিয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন গিয়ে অনেক অনভিপ্রেত আচরণ করেছেন, তা কোনও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কাছে দেশবাসী প্রত্যাশা করে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বতন্ত্রভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই তারা খেলতে মাঠে না নেমে, প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড় ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছিল। আর তফসিল ঘোষণার পর থেকে একের পর এক ফাউল করে যাচ্ছেন। কিন্তু রেফারি এই ব্যাপারে কিছু বলতে গেলেই তারা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছেন।’
নানক আরও  বলেন, ‘কামাল হোসেনরা নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানারকম উসকানি দিলেও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ড. কামাল হোসেনরা লাল কার্ড পাওয়ার মতো একাধিক ফাউল করলেও নির্বাচন কমিশন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে অত্যন্ত নমনীয় ভূমিকা পালন করছেন। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব দলকে গণতান্ত্রিক ও আইনসিদ্ধ আচরণ করতে হবে। গত কয়েকদিনে আপনারা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ফাঁস হওয়া ফোন আলাপ শুনেছেন, সেখানে তারা তাদের কর্মীদের কীভাবে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনারা দেখেছেন, মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছি।’
বিএনপির আবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নানক বলেন, ‘শুরু থেকেই তাদের একটি কৌশল ছিল নির্বাচনকে ভণ্ডুল করে দেওয়ার জন্য। নির্বাচনের তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাওয়া মানে, তাদের অপকৌশলকে সফল করার চেষ্টা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ