শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শেখ হাসিনা নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করেছেন ভোটের অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ দাবি

খুলনা অফিস : নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ি করে খুলনা-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা নির্বাচনের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভোট দেয়া নিয়ে ভোটারদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে। সকল জাতীয় দূর্যোগে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে দূর্যোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর যথাযথ ও দৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া জনগনের ভোটের অধিকার রক্ষার আর কোন পথ খোলা নেই।
বুধবার বিকেলে খুলনায় ধানের শীষ প্রতীকের শেষ নির্বাচনী মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৪ টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও শেষে মিছিল বের হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট এবং  বিএনপি ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সমগ্র এলাকায় ছিল পুলিশ-সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ ও আর্মর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অসংখ্য সদস্যের উপস্থিতি। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানের শীষ প্রতীক, প্যানা ও প্লাকার্ড নিয়ে নেতাকর্মীদের খ- খ- মিছিল সমাবেশস্থলে হাজির হয়। মিছিলে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরে পড়ার মতো। এক সময় সমগ্র এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমাবেশে ঢুকে ছবি তুললে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।  
সমাবেশে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন। তার নির্দেশ ধরো, মারো, গ্রেফতার করো। পুলিশ ও ডিবি লেলিয়ে দিয়ে প্রতিদিন আমাদের অসংখ্য কর্মীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ধানের শীষের কর্মীরা শুধু বাড়িঘর ছাড়া তাই নয়, তাদের বৃদ্ধ মা-বাবা-স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিকৃষ্টতম খারাপ ব্যবহার এমনকি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। বিএনপির মিছিল কর্মসূচি যাতে সফল হতে না পারে এজন্য গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত নগরীর ১৮, ২১, ২২, ২৫, ২৯, ৩০, ৩১ নং ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তারপরও মিছিলে জনতার ঢল।
তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গত ১৪ দিন আমরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি। আমাদের দায়িত্ব শেষ, এবার দায়িত্ব ভোটারদের। খুলনাবাসীকে আমি ৩০ ডিসেম্বর রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রশাসনকে সংযত ব্যবহার করার দাবি জানিয়ে বলতে চাই, এ সরকারই কিন্ত শেষ সরকার নয়। আপনারা যেমন ধানের শীষের কর্মীদের বাড়ি চেনেন, তেমনি আমরাও আপনাদের ঘরবাড়ি চিনি। ঘুরে দাড়ালে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুললে আপনাদের শষ রক্ষা হবেনা। 
বীর মুক্তিযোদ্ধা নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় সমাবেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মহানগর শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আ ফ ম মহসিন বলেন, আজকের এই সমাবেশ মঞ্চে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত আছেন। ১৯৭১’এ তরুণ বয়সে আমরা স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। জীবন সায়াহ্নে এসে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য শেষ একটি যুদ্ধের জন্য সমগ্র জাতিকে ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে এক করতে হয়েছে। 
সমাবেশ শেষে এক বিশাল মিছিল কে ডি ঘোষ রোড, থানার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, ফেরীঘাট, খানজাহান আলী রোড, সাত রাস্তা মোড়, রয়্যাল মোড়, পিটিআই মোড় হয়ে আহসান আহমেদ রোডে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ধানের শীষ ছাড়াও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পোট্রেট বহন করা হয়। ব্যান্ডের তালে তালে মিছিলটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় রাস্তার দুপাশে শত শত মানুষ করতালি দিয়ে ধানের শীষের মিছিলকে স্বাগত জানায়। 
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, লোকমান হাকিম, মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, এডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, সিরাজউদ্দিন সেন্টু, সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট বজলুর রহমান, এডভোকেট এস আর ফারুক, কাজী মো. রাশেদ, শাহজালাল বাবলু, সৈয়দা রেহানা ঈসা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, নজরুল ইসলাম বাবু, শফিকুল আলম তুহিন, মহিবুজ্জামান কচি, মুজিবর রহমান, এডভোকেট মোল্লা মাসুম রশিদ, এডভোকেট গোলাম মাওলা, এডভোকেট মশিউর রহমান নান্নু, সাংবাদিক এহতেশামুল হক শাওন, সাদিকুর রহমান সবুজ, ইকবাল হোসেন খোকন, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, ইউসুফ হারুন মজনু, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, একরামুল হক হেলাল, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, শরিফুল ইসলাম বাবু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, নাজিরউদ্দিন আহমেদ নান্নু, হাফিজুর রহমান মনি, হাসান মেহেদী রিজভী, শেখ জামিরুল ইসলাম, বদরুল আনাম, মুজিবর রহমান ফয়েজ, শেখ জামালউদ্দিন, ফারুক হোসেন, তরিকুল্লাহ খান, আফসারউদ্দিন মাস্টার, মীর কবির হোসেন, রবিউল ইসলাম, আবু সাঈদ শেখ, শাহাবুদ্দিন মন্টু, নাসির খান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মোস্তফা কামাল, জাহিদ কামাল টিটু, মেহেদী হাসান সোহাগ, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, আব্দুল মতিন, বাচ্চু মীর, শেখ আব্দুল জব্বার, ওয়াহিদুর রহমান দীপু প্রমুখ।
এদিকে মিছিলটি ফেরীঘাট মোড়ে পৌছালে ২২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ কামাল টিটুকে ডিবি গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ