সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হামলা-মামলা হয়ারনির মধ্যেও ঢাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা

ইবরাহীম খলিল : হামলা-মামলা ও পুলিশী হয়রানির মধ্যেও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল রোববার ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের জনসংযোগের সময় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে ফের হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে কর্মী- সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগে গেলে মানিকনগর পুকুরপাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর ১২টায় শাহজাহানপুরের নিজ বাসা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল নিয়ে মহিলা দল সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস গণসংযোগে বের হন। মিছিলটি মুগদা এবং মান্ডা হয়ে মানিকনগর মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা টুন্ডা বাবুর নেতৃত্বে পেছন থেকে হামলা চালায়।
আফরোজা আব্বাসের দাবি, হামলায় নারীসহ শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনার পর গণসংযোগ বন্ধ করে বাসায় ফিরে যান। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগে নিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন আফরোজা আব্বাস।
আফরোজা আব্বাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে, মান্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল, মুগদা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাম্পু, মুগদা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামীম হোসেন, শাহাজাদা বাবু, আওলাদ, রুবেল, জীবন, মানিকনগর যুবলীগ নেতা জীবন, মান্ডা যুবলীগ নেতা হাজী বিপ্লব, বিচ্ছু রনি, চাঁনতারা ফারুক, পিচ্ছি রাসেল, শাহিন, প্লাবন, মান্ডা আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আনোয়ার, মুগদা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া রাজা, হিরু মেম্বার, সোলেমান মেম্বার, শ্রমিক লীগের তোতলা কালাম প্রমুখ।
আহতরা হলেন- মহিলাদল নেত্রী নূরজাহান আক্তার ইভা, শোভা, মনোয়ারা রহমান, জয়া, শারমিন আক্তার, মিজানুর রহমান, সোনিয়া আহমেদ, পারভিন, মর্জিনা আক্তার, ফরিদা পারভিন, সুলতানা রাজিয়া, আসিফ, সোহেল, ইসমাইল, কাজী আকবর প্রমুখ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেছেন,  গতকাল রোববার সকাল ১১ টায় নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলির সময় শেরেবাংলানগর মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে সাইফুল আলম ও সরওয়ার হোসেন নামে ২ নির্বাচনী কর্মীকে গ্রেফতার করেছে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ। মিরপুর ১৪ নং ভোটারদের কাছে স্লিপ বিতরণের সময় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা এক পত্রিকা হকারকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। গত ২১ ডিসেম্বর কাফরুল থানা যুবদলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম লিটন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তপু, ১৪ নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসন ও মো. রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাচনী ময়দানে বিরোধী দলের পক্ষে টিকে থাকায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভোটের দিন ভোটারদের দ্রুত ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে কেন্দ্র না ছাড়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ্উদ্দিন আহমেদ। রোববার নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ভোটারদের কাছে এই কথা বলেন তিনি। এর আগে সকালে নিজের শ্যামপুরের বাসা থেকে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল আকারে গণসংযোগে নামেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই প্রার্থী।
প্রচার-প্রচারণা চালানোর সময়ে হ্যান্ডমাইকে ভোটারদের উদ্দেশ্য করে সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা ৩০ তারিখ সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে যাবেন। আপনার ভোট সুরক্ষিত রাখতে আমরা ভোট কেন্দ্রে থাকবো। যে কোনো মুল্যে কেন্দ্র ছাড়বো না। ফল নিইে তবেই ঘরে ফিরবো। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি অভিযোগ তোলেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। বলেন, যখন থেকে আমরা প্রচারনা শুরু করেছি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দিনে যারা আমার সঙ্গে প্রচারণায় নামেন, রাতে তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ হয়রানি করে, গ্রেপ্তার করে। এভাবে তো সুষ্ঠু ভোট হবে না। প্রার্থী যদি প্রচারই না চালাতে যারে তাহলে ভোট কি হবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শত বাধা দিয়েও আজ মানুষকে আটকানো যাচ্ছে না। তরুন থেকে বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে গেছে। তারা স্বতস্ফুর্তভাবে তাদের ভোট দিতে চায়। তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। কোনো বাধাই ৩০ তারিখ তাদের আটকে রাখতে পারবে না। দিনভর ঢাকা সংসদীয় আসনের শ্যামপুর সরকারি মডেল কলেজ, বড় মসজিদ, শহীধ মোক্তার হোসেন রোড, লাল মিয়া সরদার রোড, দারোগা বাড়ি রোড, হাজী খোরশেদ আলী রোড, জুরাইন কমিশনার রোড, মুরাদপুর হাইস্কুল রোড, মাদ্রাসা রোডমহ বিভিন্ন অলিগলিতে গলিতে ভোটরদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চান সালাহ্উদ্দিন আহমেদ। এলাকায় ৭৫ ভাগ এলাকায় গনসংযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাকি দু’একদিনের মধ্যে পুরো এলাকায় প্রচারণার কাজ শেষ করতে পারবেন তিনি।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব অভিযোগ করেছেন, সরকারি দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও প্রশাসনের বাধার কারণে তিনি প্রচারে নামতে পারছেন না। অজ্ঞাত স্থান থেকে  বার্তা পাঠিয়ে যুবদল নেতা বলেন, হামলা-মামলা- গ্রেপ্তার করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরানো যাবে না। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে থাকবে। মগবাজার, তেজগাঁও, মহাখালী, মালিবাগ ও শেরেবাংলানগরের একাংশ নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসনে এখনো বিএনপির পক্ষে কোনো প্রচার নেই। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তার আসনে বিএনপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও প্রচারে মন্ত্রীর পাশাপাশি আলোচনায় আছেন বামপন্থী নেতা জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। নীরব বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা  গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারি দলের সবকিছু আছে, কিন্তু তাদের মাঠে-ময়দানে কোনো ভোট নেই। এই বাস্তবতাকে বুঝেই তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকে বেছে নিয়েছে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই নৈরাজ্যজনক আচরণ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা-১৪ মিরপুর, শাহআলী, দারুস সালাম, রূপনগর থানা ও কাউন্দিয়া ইউঃ  আসনের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য ফ্র্ন্ট মনোনীত প্রার্থী  সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু বলেন-মিরপুরে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানেই যাচ্ছি জনগনের স্বতস্ফুর্ত সাড়া পাচ্ছি।  জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হলে মিরপুরকে একটি বাস্তব সম্মত আবাস যোগ্য বাসস্থল বিনির্মান করাই হবে আমার প্রধান ও অন্যতম লক্ষ্য।
গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনী অফিসে মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এ সময় তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেক সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে ও বিকালে দু দফার সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক সাজু তার নির্বাচনী এলাকার দারুস সালাম থানার বিভিন্ন পয়েন্টে গণ সংযোগ করে ধানের শীষের ভোট দেওয়ার আহবান জানান। এস এ সিদ্দিক সাজুর পক্ষে সারাদিন ব্যাপি বিএনপির অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছোট ছোট দল ও উপদল ভাগ হয়ে লিফলেট ও ভোটার স্লিপ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পৌছে দিচ্ছে। এবং গণ সংগোগের আর একটি টিম বিভিন্ন দোকান পাট ও শপিং মলে গিয়ে এস এ সিদ্দিক সাজুকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানানো হয়।
এদিকে, ঢাকা-১ আসনের (দোহার-নবাবগঞ্জ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে নারী শিল্পীসহ সাত বাউল শিল্পী আহত হয়েছেন। তাদেরকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- বাউল দুলাল সরকার, বাউল ইউনুস আলী, বাউল রফিক, বাউল সায়েদুর রহমান, বাউল সাদ্দাম হোসেন, বাঁশি বাদক সাইদুল ও নারী বাউল বকুল আকতার। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার নারিসা বাজার এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে নারিসা বাজার এলাকায় বাউল শিল্পীরা প্রচার চালাচ্ছিলেন। ওই সময় সাত থেকে আট দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্বাচনী ভ্যানগাড়িতে হামলা করে। এসময় ভ্যানের মধ্যে থাকা মাইক ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করেন তারা। একইসঙ্গে ভ্যানে থাকা সাত বাউল শিল্পীকে মারধর করা হয়। এতে সাতজন বাউল আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আহত বাউলরা জানান, মোটরগাড়ি মার্কার প্রচারণাকালে নারিসা বাজার এলাকায় তাদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। সালমা ইসলামের পক্ষে আর কোনো প্রচারণা না চালানোর হুমিকও দেন তারা। একইসঙ্গে হামলাকারীরা এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালমান এফ রহমানের নাম বলে বলে স্লোগান দিতে থাকেন বলে জানান বাউল শিল্পীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ