সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গুম নির্যাতন গ্রেপ্তার চালিয়ে জনগণের অধিকার হরণ করার চেষ্টা বুমেরাং হবে -ছাত্রশিবির

গতকাল রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মো. রেজাউল করিমকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটকের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষ প্রতিকের মনোনিত প্রার্থী ডা.শফিকুর রহমানের অন্যতম নির্বাচনী সমন্বয়ক, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিমের মুক্তির দাবীতে গতকাল রোববার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা। মহানগর উত্তর সভাপতি আজিজুল ইসলাম সজীব এর নেতৃত্বে মিছিলটি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে কুড়িল চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। এতে শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে জিততে বিরোধী প্রার্থীর কর্মীদের গ্রেপ্তার ও গুমের কৌশল নিয়েছে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। সারাদেশের মতো এই আসনেও বিরোধী প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের অব্যাহতভাবে গ্রেপ্তার ও গুম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মী আটক করা হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছেন নারীসহ ১১ জন। তারই অংশ হিসেবে গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ড. রেজাউল করিম ও তার ড্রাইভারকে গাড়ীসহ গুম করে রাখে পুলিশ। গতকাল ৩ দিন পর আদালতে হাজির করে তাকে গায়েবী মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজের দৈন্যদশার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বহীনতার আরেকটি ঘৃণ্য নজির স্থাপন করেছেন। আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই, গুম নির্যাতন গ্রেপ্তার চালিয়ে জনগণের অধিকার হরণ করার চেষ্টা বুমেরাং হবে। গুম নির্যাতনকারীরা জনগণের দৃষ্টির বাইরে নয়। অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকান্ডের জন্য সময়ের ব্যবধানে তাদেরকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অবিলম্বে ড. রেজাউল করিমসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। তার সামান্যতম ক্ষতি বা তাকে জড়িয়ে কোন ষড়যন্ত্র ছাত্রজনতা মেনে নিবে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
ড. রেজাউল করিমকে রিমান্ডে নেয়ার তীব্র নিন্দা : অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তারের পর বেআইনি ভাবে ৩দিন গুম রেখে আদালতে হাজিরের পর গায়েবী মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রেজাউল করিমকে ৫দিনের রিমান্ডে নেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল রোববার দেয়া যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, বেআইনি কর্মকান্ড ও জুলুম নির্যাতনের সকল স্তর অতিক্রম করেছে পুলিশ। গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নির্বাচনী বিভিন্ন প্রোগ্রাম শেষ করে ঢাকা মেট্রো গ-২৬-৬৯১৯ গাড়ী যোগে তিনি বাসায় ফেরার পথে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে পুলিশ তাকে ৩ দিন গুম করে রাখে। এসময় তার সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশের এই আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি অমানবিক ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু আরো অমানবিক বিষয় হলো তাকে গতকাল আদালতে হাজির করে তাকে গায়েবী মামলায় ৫দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রামপুরা থানা পুলিশ। একজন রাজনৈতিক নেতার উপর এমন অমানবিক আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। মূলত আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে সরকারের নির্দেশে ড. রেজাউল করিমকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতেই তার উপর জুলুম করা হচ্ছে। আইনের পবিত্র পোষাক পড়ে ধারাবাহিকভাবে পুলিশ এই বেআইনি কাজ করে যাচ্ছে। যা সম্পুর্ণ রুপে মানবাধিকার লঙ্ঘন। পুলিশের এই দায়িত্বহীন অপকর্ম অবৈধ সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।  পুলিশ কর্তৃক একের পর এক অমানবিক আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন তাদের প্রতি আস্থা যেমন নষ্ট করেছে তেমনি অপরাধিদের উৎসাহিত করছে। যা সারাদেশে প্রতিদিনই দেখতে পাচ্ছে জনগণ। 
নেতৃদ্বয় বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুলিশ তাদের পেশা ও পোষাকের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ববোধ দেখাতেও ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ ছাত্রজনতাকে বার বার গ্রেপ্তার ও তাদের নিয়ে নাটক সাজানো এবং ইচ্ছামত মামলায় জড়িয়ে দেয়ার এই বেআইনি কর্ম পুলিশ তাদের রুটিনে পরিণত করেছে। পুলিশ অনেকাংশে দলীয় কর্মীর চাইতেও নিকৃষ্ট আচরণ করছে। যা একটি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার বিষয়।
নেতৃদ্বয় অবিলম্বে নিরপরাধ সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রেজাউল করিমের রিমান্ড বাতিল করে মুক্তির দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন আইনের শাসনের পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ