বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হুমকি ধমকি সন্ত্রাস অব্যাহত ॥ ভয়ভীতির মুখেই চলছে ধানের শীষের প্রচারণা

গতকাল রোববার রাজধানীর মুগদা এলাকায় ঢাকা-৯ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: একতরফা নির্বাচন করতেই সরকার বিভিন্ন আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে যে সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চায়। নানাভাবে একটা চক্রান্ত জ্বাল বিস্তার করে এখানে নির্বাচন কমিশন, এখানে প্রশাসন, তারপরে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অনেক স্থানে ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। সরকার চক্রান্ত জ্বাল তৈরি করে হানা দিয়ে, ধানের শীষের প্রার্থীদের আক্রমণ করে, গ্রেফতার করে ক্ষতবিক্ষত করে তাদের সমর্থকদের চোখ তুলে নিয়ে যে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন এই নির্বাচন হচ্ছে ক্ষমতার সিংহাসনে আজীবন থাকার যে স্বপ্ন-স্বাদ শেখ হাসিনার সেটাই পূরণ করার তিনি চেষ্টা করছেন। আমাদের বিশ্বাস জনগণের শক্তির কাছে কখনোই অপশক্তি টিকতে পারে না। জনগণের শক্তির কাছে অবৈধ অগণতান্ত্রিক শক্তি টিকতে পারে না।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের প্রার্থিতা বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন বললেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়ররা পদত্যাগ করলেই প্রার্থী হতে পারবেন। তারপরে এখন কোর্ট থেকে বলা হচ্ছে না প্রার্থী হতে পারবেন না। কেনো? উপজেলা চেয়ারম্যানরা পাবলিক সার্ভেন্ট হয় কি করে? ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত যারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন তারা তো জনপ্রতিনিধি তারা পাবলিক সার্ভেন্ট হন কীভাবে? বিভিন্ন আইনের ফ্যাঁকরা দিয়ে তারা (সরকার) এসব কাজ করছেন। উচ্চ আদালতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। তারা এসব পুনর্বিবেচনা করে একটা অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় তার ব্যবস্থা করবেন।
শনিবার সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীকে মনোনয়ন দেয় তারা দেশকে ধবংস করে দেয়। ধানের শীষে ভোট দেয়ার অর্থ দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া। সারাদেশে লুন্ঠন-দুর্নীতি, হত্যা-খুনের বন্যা, বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার হচ্ছে। বিরোধী দলের কর্মীদের চোখ তুলে নেয়া হয়েছে। তারপরেও আপনি মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি বাংলাদেশ ব্যাংক লুটের কথা বললেন না কেনো? এটা আপনার আমলেই হয়েছে। শেয়ার বাজার ও ব্যাংক লুটপাটকারীদের আপনি এবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আগে নিজের সরকারের ময়লা জামা পরিষ্কার করুন, তারপরে কথা বলুন। আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। আপনিই তো জামালপুরের নুরু রাজাকার নুরুল ইসলামের গাড়িতে প্রথম জাতীয় পতাকা দিয়েছেন। এখনো আপনার দলে স্বাধীনতা বিরোধীদের ভিড়। জনগণকে প্রতারিত করে আবারো প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে চলেছেন। এবার তাতে লাভ হবে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এমন অভিযোগে এক ডজন ব্যক্তির বিচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে এসব বিচার করলেও তাদের দলে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে একেবারে নীরব। এই দলটিতে রয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর, আল শামস, গণহত্যাকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নি সংযোগকারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি। যারা স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতা বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল। এই ব্যক্তিরাসহ তাদের সন্তান-সন্তুতি এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা বা তাদের টিকিটে নির্বাচন করছেন। কিন্তু এখন তারা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা, মানবতাবিরোধী কর্সমকান্ডসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এমন ২৩ জনের কথাও মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা ৫টি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তুলে ধরেন রিজভী।
রিজভী বলেন, বিএনপি, জিয়াউর রহমানের পরিবারের বিরুদ্ধে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এহেন নোংরা অপপ্রচার নেই চালানো হয়নি। এই পরিকল্পিত অপপ্রচার এখনো অব্যাগত রয়েছে। তিনি বলেন, আইএসআই নাকি বিএনপির মনোনয়নে ভূমিকা রেখেছে। এটি ডাহা মিথ্যাই নয়, নোংরা অপপ্রচার। সরকার আগ্রাসী প্রতিহিংসায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার জন্য কিছু মিডিয়া ও ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ ধরণের বুদ্ধিজীবীকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে মনগড়া তথ্য বানিয়ে নিজেদের কিছু মিডিয়ায় অপপ্রচার করছে যাতে সত্যের লেশমাত্রও নেই। জনগণের শ্রবনেন্দ্রীয় সর্বদা জাগ্রত। মিথ্যা অপপ্রচার এখন মানুষ বিশ্বাস করে না।
দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খানের বিরুদ্ধে কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানান রিজভী। সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, জয়পুরহাট, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন রিজভী।
তিনি বলেন, বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-১ কলমাকান্দা-দূর্গাপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপি নেত্রী জিবা খানের নামে সংগঠিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে। একটি ইলেকট্রনিকস গণমাধ্যমে বলা হয়েছে যে, আই এস আই নাকি বিএনপি’র মনোনয়নে সুপারিশ করেছে। তারা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও ত্যাগী জনপ্রিয় নেতা, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। জনপ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে এধরণের অপপ্রচার নোংরা মানসিকতারই বহি:প্রকাশ। আমি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও জিবা খানের বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ভিত্তিহীন সংবাদ উক্ত ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার করছে। আমি এটিরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নোয়াখালী-৪: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সদর আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান সুবর্ণচর এলাকায় গণসংযোগে গেলে ভূইয়ারহাট এলাকায় সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এতে ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে আকবর ও আব্দুর রহিমের অবস্থা আশংকাজনক। তারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পরবর্তীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের নিজেদের কার্যালয়ে নিজেরাই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে র‌্যাব ও পুলিশ ডেকে তাদের সহযোগীতায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাড. এবিএম জাকারিয়ার বাড়িতে পুনরায় হামলা চালিয়ে সেখান থেকে এ্যাড. এবিএম জাকারিয়া, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা নুরুন্নবী চৌধুরী, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাজিব, কাদির, হানিফ সহ অন্তত ১৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখানকার নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত ভয়াবহ। নির্বাচনী লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা কোন ফিল্ডই নেই। জনগণ এক ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে বাস করছে।
মাগুরা: জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল, জেলা ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রহিম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শামীম ইকবাল খাঁন’কে ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোজ মেলেনি।
সিলেট: সিলেট-১ কানাইঘাট এলাকা থেকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিলেট-৫ কানাইঘাটের চতুল বাজার থেকে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও চতুল ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুন নুর, জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বুরহান উদ্দিন, বারোহাল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক খান ও ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি সুজেল আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিলেট-৬ গোলাপগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, নোমান উদ্দিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ ও তিলপারা ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি জয়নাল আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৌলভীবাজার-১: উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মোস্তাক তপাদার কানন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস শুক্কুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২৩৮, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) এলাকায় ৩ জনকে গ্রেফতার, গত ২১/১২/২০১৮ইং শুক্রবার বিএনপি, ২০ দলীয় ঐক্যজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুলী (হাজী মুজিব)-এর ‘ধানের শীষের’ নির্বাচনী ওয়ার্ক করার সময় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ মোঃ আলমগীর সেলিম, সভাপতি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা তাঁতীদল -কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরতলী বিরাহিমপুর এলাকা থেকে মোঃ এরশাদ মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদল -কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ময়মনসিংহ-৯ আসন: আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নান্দাইল উপজেলা বিএনপি নেতা মো: রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, তিনি এখন মূমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া নান্দাইলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজেরা নিজেদের অফিস পুড়িয়ে দিয়ে ধানের শীষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৫০ জন নেতাকর্মীকে আসামী করেছে। বাড়িতে বাড়িতে পুলিশী তল্লাশীর নামে তান্ডব চলছে, গ্রেফতারের জন্য নেতাকর্মীদেরকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নেতাকর্মীদেরকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করছে।
সুনামগঞ্জ-২: দিরাই পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, শাল্লা উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ডালিম আহমেদ ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাট-৪ আসন: মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদল নেতা মো: জুলফিকার আলী জুয়েলকে গতরাতে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু এখনও পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা: জেলা স্বেচছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড ওয়াহেদুজ্জামান, আব্দুল জাব্বার মোল্লা , মজিবুল হক সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জ থানার ৫নং আউশকান্দি ইউপির সদরাবাদ গ্রামের রুহেল মিয়া ও আলমাছ মেম্বারকে গতরাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জ-২ আজমিরীগঞ্জ বিএনপি নেতা সাজ্জাদ সওদাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জ-৩ সদর উপজেলা বিএনপি নেতা মোঃ হিরা মিয়া, পৌর যুবদল সস্য জনাব আলী ভুলু, নিজামপুর ইউনিয়ন যুবদল সদস্য দুলাল মিয়া, লুকড়া ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য জাহির মিয়া ও ২৩ দলীয় জোট নেতা শহীদ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জ-৪ চুনারুঘাট আশরুট বাজারে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদেরের গণসংযোগ চলাকালে আওয়ামী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে প্রার্থী সহ ১৫/২০ জন নেতাকর্মীকে মারাত্মক আহত ও ৪/৫টি গাড়ী ভাংচুর করে।
নওগাঁ-২: ধামইরহাট সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী এবং পতœীতলা থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা সাদা মাইক্রোতে করে তুলে নিয়ে যায়।
পতœীতলা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ-৪: ধানের শীষের সমর্থন মোঃ সবুজ তালুকদার, মোঃ গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নাটোর-৩ : সিংড়া থানার ৮নং শেরফুল ইউনিয়নের ২০ দলীয় জোটের নেতা বেলালুজ্জামানকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে ২ পা ভেঙ্গে রাস্তায় ফেলে যায়। তাকে মুর্মূর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নং তাজপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মহসীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং ধানের শীষের প্রার্থী দাউদার মাহমুদ প্রচারণা চালানোর সময় তার উপর হামলা করে ১২/১৫ নেতাকর্মীকে আহত করে ও পোস্টার, মাইক ভাংচুর করে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
অন্যদিকে ইটালী ইউনিয়নের বিনগ্রাম বাজারে আরিফুল ইসলাম আরিফ চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও নির্দেশে সন্ত্রাসী আতাউর রহমান চান্দু, আলেফ মেম্বার, রাব্বানী, হাফিজ, মফিজ, শাহিন, আজমল, লিটন, জলিল সহ ১০/১৫ জন আগ্নেয়াস্ত্রধারী আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ইউনিয়ন বিএনপি শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান আনিছ কে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পিঠে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে সিংড়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৩: ময়মনসিংহ উত্তর যুবদল সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, গোড়িপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ঝুলন ও বিএনপি কর্মী মোঃ সবুজসহ ৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নেত্রকোনা-১ : কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপি সভাপতি এম এ খায়ের, উপজেলা মটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক দল নেতা মোঃ আল আমিন ও লেংগুরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জয়পুরহাট-২: ক্ষেতলাল এলাকার বটতলী বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। উল্টা ক্ষেতলাল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র প্রার্থী নবীউল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে ১৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার মাহমুদপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের কার্যালয় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে উল্টা বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর নাম ও ১৭ জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। সাবেক ইউপি সদস্য আফজাল মেম্বার সহ অন্তত ২ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জ-৬: ধানের শীষের প্রার্থীর একান্ত সহকারী জুনায়েদ আহমেদ, কুলিয়ারচর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম, সিনিয়র সহ সভাপতি আয়াত আলী, ইউপি সদস্য শফি, সদস্য আবু বকরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-৪ সদর থানা যুবদল নেতা মোঃ সাইফুল ইসলাম ও শ্রীপুর থানা বিএনপি নেতা নয়েস আলী’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইল-৭ ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল খালেক, আব্দুল কাদের, পৌর যুবদল নেতা রাজিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য রাজন আহমেদ, ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল সিকদার সহ ৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঢাকা: ঢাকা-৩ সুবিরডা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য রওশন আরা, ছাত্রদল নেতা মোঃ লিয়াকত, কুন্ডা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিন্টু, ছাত্রনেতা মাসুমকে নির্বাচনী প্রচারকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা-৪ ধানের শীষের প্রার্থীর ফুফাতো ভাই, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম মোল্লা নিয়মিত হাজিরা দিতে গেলে সিভিল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসএ টিভির সাংবাদিক মতিনকে তার বাসা হইতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার অপরাধ সে ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থীর সকল নিউজ কভার করে। ঢাকা-১২ ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি নবী সোলায়মান ও এফডিসি গেটে পোস্টার লাগানোর সময় ছাত্রদল নেতা মিজানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঢাকা-১৩ শেরেবাংলানগর থানা এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় ২ জন বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা-১৪ গাবতলীতে প্রচারণার সময় ২ জন বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা-১৫ ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ড. রেজাউল করিমকে নিখোঁজ করে রেখেছে পুলিশ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রদল মহানগর এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজউর রহমান তপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নরসিংদী: নরসিংদী-৩ ধানের শীষের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী শিবপুর থানার কলেজ গেইট এ পথসভা করার সময় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা পৌর মেয়র এর পিএস মাখন, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন ভূইয়া, কাওছার শেখ, শ্যামল মোল্লা, আরিফ মোল্লা, নিপুন খান, টিপু’র নেতৃত্বে হামলা ও পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে বহু নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। একটি এতিম বাচ্চা শিশুর মাথায় গুলি লাগলে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। নরসিংদী-৪ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বারিচা বাজারে ধানের শীষের প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণসংযোগকালে পুলিশের উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ অতর্কিতে হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে মারাত্মক আহত করে আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল আওয়াল ভূইয়া, চরউজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি হানিফ মেম্বার, আমলাবর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ঈসমাইল, শামীম, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জহুরুল, একদোয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোনা মিয়া, বিএনপি নেতা হযরত আলী মেম্বার, রফিকুল, যুবদল নেতা আসাদ, সুমন, চয়ন, মহসীন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওলী ও ছাত্রদল নেতা মারুফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গাজীপুর: গাজীপুর-১ ভাষান থানা বিএনপি সভাপতি বশির আহম্মেদ বাচ্চু, কোনাবাড়ী থানা মহিলা দল সভানেত্রী শিরীন চাকলাদার সহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাজীপুর-৩ শ্রীপুর থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান, সদর উপজেলা যুবনেতা সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাজীপুর-৫ বিএনপি নেতা নয়নকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই জেলায় গতকাল মোট ২৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জ-১ শ্রীনগর থানা বিএনপি নেতা হুমায়ুন শেখ ও তন্তর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জল এবং শ্রীনগর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ সহ ৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জ-৩
গজারিয়া থানা এবং সদর থানায় ২ জন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শরীয়তপুর: জেলার সখিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হামিদ সরদারকে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া কাছিপুর ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী সমর্থকদের সকল পরিবারকে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর থানা পুলিশ ৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অফিসে নিজেরা আগুন দিয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ২৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা-৩: আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, ইয়াকুব মেম্বারসহ ৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া প্রতিটি বাড়ীতে পুলিশ তল্লাসী চালাচ্ছে।
 মেহেরপুর-১: সদর থানা বিএনপির সহ সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম পিন্টু, ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী সহ ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাট: বাগেরহাট-১ জেলা যুবদলের সভাপতি হারুন আল রশিদ এবং সহ সভাপতি কাজী মঞ্জুর রহমানের বাড়িতে গত রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা ঘরে ঢুকে তল্লাসী করে বাড়ির লোকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি ধমকি দেয়। বাগেরহাট-৪ মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আলী জুয়েলকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়।
বরিশাল-৬: ধানের শীষের প্রচারকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এছাড়া বাকেরগঞ্জ থানার পাদ্রীশীবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির অন্যতম নেতা মোঃ সাজ্জাদ মোল্লা, নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ফোরকান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা জসিম খান, কবাই ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান শৈশব, কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর তালুকদার ও ২৩ দলীয় জোট নেতা মাওলানা মাহমুদুন্নবী অন্তত ৭/৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়াও এলাকায় পুলিশ সন্ত্রাসীদের আস্কারা দিয়ে মহড়া দিয়ে উস্কে দিচ্ছে।
ভোলা-৪ : ধানের শীষের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের নির্বাচনী এজেন্ট ও চরফ্যাশন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেনের বাসায় যৌথ বাহিনী নামীয় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তল্লাসীর নামে দফায় দফায় হামলা চালায়। কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী পারভেজ ও আল আমিনকে তুলে নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাকে মারধোর করে গুরুতর আহত করে। চরমানিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাম খলিফার বাসায় কর্মী সভা চলাকালে আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীরা হামলা করে গুরুতর আহত করেন বাবুল মোল্লা, সোহাগ, হাসান, আল আমিন সহ আরও ৭/৮ জনকে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করে তালা লাগিয়ে দেয়। এছাড়াও ৮নং ওয়ার্ডের সালামত মাস্টার বাজারে নজু, ৩নং ওয়ার্ডের বেড়ির উপর সিদ্দিকের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে মালামাল নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এতে আহত হয় বিএনপি কর্মী মাইনুদ্দিন ও সবুজ।
কুমিল্লা-৬: আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচনী অফিসে ছাত্রলীগ, যুবলীগের ক্যাডাররা হামলা চালায় এবং নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় ডিবি ও বিজিপি তল্লাশি গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা: জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আবু শামীম মোঃ আরিফ (ভিপি শামীম), নবীনগর উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নাইলা ইসলাম, যুবদল নেতা বিল্লাল মোল্লা, জালাল উদ্দিন, শাহীনুর রহমান, আব্দুর রউফ, মিলন, বিএনপি নেতা মোর্শেদ মেম্বার ও আব্দুল ওহাব সহ সমগ্র জেলা থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ নির্বাচনী এলাকার সদর পৌরসভার ২ নং এলাকায় নির্বাচনী সভার নির্ধারিত স্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে সভা পন্ড করে দেয়।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-৬ আসনের ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন চেয়ারমান সিরাজ উদ্দৌলার বাড়ি ভাংচুরে করে ব্যাপক লুটপাট করে ছাত্রলীগ নেতা বড়–য়ার নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী। চট্টগ্রাম-৮ মহানগর যুবদলের সদস্য ইমন, যুবদল নেতা মনসুর, মোঃ পেয়ারু, চাঁন্দগাঁও থানা যুবদল নেতা জীবন, মিজানুর রহমান সুমন, ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মুনসুর আলম, বায়জিদ থানা ছাত্রদল সদস্য আব্দুল্লাহ, জিতু, ৩নং পাচলাইশ ওয়ার্ড সহ সভাপতি ইসমাইল বালী, বিএনপি নেতা মোঃ ইয়াকুব, সাবেক ছাত্রনেতা সারোয়ার আলম খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান নগরীর চান্দগাও আবাসিক এলাকার বাসায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে কয়েকটি ১৫ টি মটর সাইকেল ও কয়েকটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে। এসময় সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা মোঃ ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। আবু সুফিয়ানের ২ জন ড্রাইভারকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
কক্সবাজার: সদর, পেকুয়া, চকোরিয়া, উখিয়ায় ৭৫০ জন আসামী করে ৫ টি গায়েবী মামলা দায়ের করে পুলিশ। জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সের মমতাজুল ইসলাম। যিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং সকল থানা বিএনপি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে আসামী করা হয়েছে এ মামলায়। যুবদল নেতা আব্দুল অদুদ, মোঃ মুছাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্ম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মোঃ হোসেন নামে একজন পাগলকেও হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় আসামী করে গ্রেফতার করেছে।
নোয়াখালী: নোয়াখালী-১ চাটখিল পৌর বিএনপির সহসভাপতি মোঃ হোসেন পিন্টু, প্রচার সম্পাদক কফিল উদ্দিন, ক্ষিলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সজীবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও যুবদল নেতা জহির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, ছাত্রদল নেতা ফরহাদ উদ্দিনের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। নোয়াখালী-২ আসনের ৫নং অম্বরনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শাহাদাত উল্যাহ আজাদকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ফেনী: ফেনী-১ ছাগলনাইয়া থানার মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার, পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর লকিয়ত উল্লাহ, শ্রমিক দল নেতা আনোয়ার হোসেন, মোঃ ইউসুফ সহ ৭ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফেনী-২ সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী জাফর আহমদ, কামাল উদ্দিন ও ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা মিয়া ড্রাইভারকে যুবলীগ, ছাত্রলীগের মজিবুল হক রিপন, নুরুল আফসার আপন, সবুজ, বেলাল, অপু, মিয়া, শাকিল, ইউসুফ মেম্বার, বাবর মেম্বার, শাহ আলম, সবুজ মেম্বার সহ প্রায় ২০/৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাত ১১টার দিকে ব্যাপক মারধোর করে মারাত্মক আহত করে। ফেনী-৩ দাগনভূইয়া উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ডা. মতিন, মাতুভূঞা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন জিয়া, চরদরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান ভুলি, চর চান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, চর দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল কালাম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ সাত্তার হোসেন ও মোঃ দিদার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া দাগনভূইয়া বাজারে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হৃদয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাদেরকে মারধোর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। উদরাজপুর বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও পরিবারের লোকদের সাথে খারাপ আচরণ করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা এবং ধানের শীষের প্রচারনার সময় মাইকম্যান হাসান গনি, চালক ও পোস্টার লাগানো কর্মীকে মারধোর করে যুবলীগের সন্ত্রাসী দিদার, এরশাদ, মহিন।
সিরাজগঞ্জ-৩: আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার ও উপজেলা চেয়ারম্যান আইনুল হকের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এবং মারাত্মকভাবে জখম করে পুলিশের উপস্থিতিতে।
সিরাজগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিছ মেম্বারকে ডিবি পুলিশ তুলে নেয়ার পর এখনও তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কালো মাইক্রোবাসে করে অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন মহল্লায় এবং গ্রামে গ্রামে টহল দিচ্ছে এবং বিএনপির নেতাদের যেখানেই পাচ্ছে সেখানেই মারধর করছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণঃ কদমতলী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হাজী মোস্তফা, কোতয়ালী থানা যুবদলের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হালিমকে গ্রেফতারের পর এখনও তাকে আদালতে হাজীর করে নাই।
ময়মনসিংহ-২: নির্বাচনী এলাকা ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমদাদ হোসেন খান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোঃ বায়েজিদ, তারাকান্দা উপজেলা ঢাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন, আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা মতি মেম্বার, যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন, ১৮ নং রামপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা পাভেল, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইয়ামিনসহ মোট ১৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতর করেছে পুলিশ। ফুলপুর উপজেলা বৌলাই ইউনিয়ন এর ২ টি ধানের শীষ অফিস ভাংচুর করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে বিজেপির উপস্থিতিতে।
হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, গোলাম মোস্তফা, আবদুল জলিলসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় রিজভী তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি এবং পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ