বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভোটের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী মানুষের আস্থা ও নিরপত্তার প্রতীক

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: সৌদি আরব প্রবাসী ইমাম হোসেন (৩০)। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরস্থ কাপাসিয়াধীন আঞ্জাবো গ্রামে। কিছুদিন হলো দেশে এসেছেন। গত শনিবার দুপুরে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে বেধড়ক পিঠিয়েছে তাঁকে। দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। মাথা থেতলে দিয়েছে। তার অপরাধ, তিনি বিএনপি সমর্থন করেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। এ অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করেছে ইমাম হোসেনকে। মুরাদনগরে ধানের শীষের সমর্থকদের আটকে রেখে পুলিশে দিল। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে শুক্রবার রাতে ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণার সময় ১১ জন বিএনপি’র সমর্থককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। বিএনপির এসব প্রচার কর্মীকে হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে দীর্ঘ সময় পর মুরাদনগর থানায় খবর পাঠানো হয়। পরে ওসি ফোর্স পাঠালে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা মিলে ওই ১১ জনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ছাড়া এ আসনে আরও বিভিন্ন স্থান থেকে ধানের শীষের বহু সংখ্যক নেতাকর্মীদের আটক করে চালান করে দেয়া হয়েছে। আটককৃত বিএনপির সমর্থকরা হচ্ছেন- জালাল (৪০) পিতা আব্বাস আলী, শ্রী শংকর (২০) পিতা-বলাই চন্দ্র, শাহজাহান (৬০) পিতামৃত-আবদুর রহমান, বিল্লাল (২৫) পিতা-মকবুল হোসেন, মনির হোসেন (৩৫) পিতা-মিলন মিয়া, আবুল খায়ের (৩০) পিতা-চরু মিয়া, সোহেল (৩০) পিতা-জয়নাল, জনা মিয়া (২৮) পিতামৃত-ফজলু মিয়া, হুমায়ুন (৩০) পিতামৃত-আবদুল করিম, ইব্রাহীম (২৫) পিতা-করম আলী ও রোমান (৩৯) পিতা-বাচ্চু মিয়া।
জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে বিএনপি সমর্থিতদের ধর-পাকড় করছে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও পুলিশ। যাকে পাচ্ছে তাকেই হতাহত করে আটক করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি দলের সমর্থকদের সহায়তায় পুলিশ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাসীনরা যেভাবে দেশব্যাপী ধানের শীষের সমর্থকদের ওপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ আতংকিত। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন। ভোটের দিন তারা বাড়তি নিরাপত্তা চান। অনেকেই বলছেন, ২৪ তারিখে সেনা মোতায়নের পর হয়ত জনমনে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসতে পারে। তবে সেটিও নির্ভর করছে সরকার সেনাবাহিনীকে কতটুকু কাজের স্বাধীনতা দেবেন তার উপর।
সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। রাজনীতিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবার গায়ে নির্বাচনী হাওয়া দোল খাচ্ছে। চায়ের আড্ডায় মানুষ নির্বাচনী প্রসঙ্গে মেতে উঠছে। মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণায় সরব হয়ে উঠছে অলিগলি। মাইকের উচ্চ শব্দ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে- অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, তমুক মার্কায় ভোট দিন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। গত ১০ বছরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্ম মোট ভোটারের ২২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় এক-চতুর্থাংশ তরুণ ভোটারের দিকে তাকিয়ে আছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনী প্রচারণায়, ইশতেহার ঘোষণায় সব দলই তরুণদের প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণরা রাজনীতি নয়, বরং অপরাজনীতি বিমুখ। তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় একবিংশ শতকের অধিকাংশ তরুণ রাজনীতির চেয়ে প্রযুক্তির দিকে বেশি ঝুঁকছে। তারপরও তাদের পাশে গিয়ে তাদের চাহিদা পূরণের যৌক্তিক আশ্বাস দিয়ে যে দল তাদের ভোটমুখী করতে পারবে, তারাই নির্বাচনে এগিয়ে থাকবে।
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলেও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বিলুপ্ত করা হয়। ফলে সংবিধানের বিধি অনুসারে একাদশ সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হতে চলেছে। কিন্তু সবকিছুর আড়ালে অনেকের মনে একটা ভীতি উঁকি দিচ্ছে- দলীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তো? ভোট কেন্দ্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে তো? অতীতের দলীয় নির্বাচনের ইতিহাস মানুষকে একটু হলেও ভাবিয়ে তোলে। দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ভরসায় তারাও নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে দেশের সর্বত্র বিরোধী প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনে নিরাপত্তাহীনতা থেকে ভোটারদের মুক্ত করতে হলে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করতে হবে। শুধু তাদের মোতায়েন করলেই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তারা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক। জনগণের তাদের প্রতি একটি ভরসা আছে। তাদের মোতায়েন করা হলে সন্ত্রাসী জ্বাল ভোট দিতে পারবে না এবং রাতে অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভর্তি করতে পারবেন না- এটা জনগণের বিশ্বাস। এই বিশ্বাসটুকু সেনা বাহিনীর সদস্যরা রক্ষা করতে পারবেন এটা জেনেই দলমত নির্বিশেষ বিরোধী দল বার বার সোচ্চার কন্ঠে বলে আসছিলো। সবার বিশ্বাস যদি সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাতে।
ভোটের পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সত্যিকার অর্থে নির্বাচন বলতে যা বোঝায় সেটি দেশে হবে বলে ধারণা করাটা খুবই কঠিন। বাস্তবে নির্বাচন হবে না কি অন্যকিছু হবে বোঝা যাচ্ছে না। তিনি বলেছেন, বিরোধীদের ওপর হামলার প্রবণতা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। এ থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, সবসময় যেটা বলে আসছি যে, এতে করে মোটামুটিভাবে একটি পক্ষ বিশেষ করে যারা ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা অনেক বেশি শক্তি প্রয়োগ করে। যেটা নির্বাচনে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করে। এক্ষেত্রে একদিক থেকে যেমন সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃবৃন্দকে সরে থাকা উচিত এবং তেমনি নির্বাচন কমিশনের আরো সক্রিয় হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক হবে এই ধারণা করাটা অন্তত এখন পর্যন্ত যা দেখছি তার ওপর ভিত্তি করে কোনো অবস্থায় মনে করা যায় না। এর কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। বরং উল্টো একপাক্ষিকভাবে নির্বাচন এবং বিশেষ করে শুধুমাত্র এখন বিরোধী নেতাকর্মীরা নয় দেশের যারা ভোটার তাদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তারা ভোটের দিনে ভোটের সেই রূপটা পাবে কিনা?
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সত্যিকার অর্থে নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেটা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশবাসী এখনো সেটাই আশা করে আছে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা তো দূরে থাকুক গণতান্ত্রিক বিবেচনায় তা পেছনে হটছে বলে মনে করছি। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক না হয় এবং সবার সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র না থাকে তাহলে সেটা অশনি সংকেত।
এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন যে কেমন হবে সেটি খোদ নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোটেই লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গত সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মোটেই মনে করিনা নির্বাচন লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। লেভেলেপ্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন একটা অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সোমবার সকালে তার কাছে সাংবাদিকরা লিখিত প্রশ্ন রাখেন। পরে বিকেলে লিখিত উত্তর দেন তিনি। সিইসি বলেছেন নির্বাচনে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড আছে। আপনি কী তার বিরোধিতা করছেন? এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি কখনো তার বক্তব্যের বিরোধিতা করি না। তিনি তার কথা বলেন। আমি প্রয়োজনে আমার ভিন্নমত প্রকাশ করি। আপনারা তো সাংবাদিক। আপনারা দেশের সব খবর রাখেন। সবকিছু দেখেন। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে এখন লেভেলেপ্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না, তাহলে উত্তর পেয়ে যাবেন। সারাদেশ থেকে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেয়ার নানা অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কী সম্ভব?- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী মানুষ। এখনও যে সময়টুকু আছে তাতে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। আমি মনে করি, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জকভাবে পাল্টে যাবে। সিইসি বলেছেন, সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?- এমন প্রশ্নে মাহবুব তালুকদার বলেন, সবদল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটি প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর যেমন সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের অগ্নিপরীক্ষা, তেমনি জনগণের জন্যও পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে বাংলাদেশ এক মহাবিপর্যয়ে পতিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রবল সংশয় ও দ্বিধা কাজ করছে। নির্বাচন নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে প্রবল সংশয় এবং অবিশ্বাস। উৎসবের বদলে আতঙ্ক আর উদ্বেগ ঘিরে রেখেছে মানুষকে। তবে তারা সরকারসহ সব মহলকে সর্তক করেন।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, দেশের সংবিধান আমাকে যে অধিকার দেয় তা আদায় করে নেয়ার ব্যাপার রয়েছে। তার সঙ্গে আরেকটি জিনিস সেটা হচ্ছে, সাহস জোগানো। এখন দেশে ভয়ের পরিস্থিতি রয়েছে এটা আমরা সবাই জানি। এই পরিস্থিতিতে আমরা জনগণ যে একা না, তা সবাইকে বোঝানোর প্রয়োজন আছে।
এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আনু মুহম্মদ বলেন, বিগত আমলে দলীয় সরকারের যতগুলো নির্বাচন বাংলাদেশে হয়েছে, তাতে সবগুলোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অভিযোগ আছে। বর্তমান সরকারের দাবি, তাদের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এটা এই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে যেভাবে সরকারের ভূমিকা পালন করা উচিত তা সরকার করছে না, সরকার তার উল্টোটা করছে। সরকারদলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য দল বা জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছে না-এমন অভিযোগ করে আনু মুহম্মদ বলেন, গত কয়েক দিনের সংবাদে দেখা গেছে, সরকার দলীয় প্রার্থী ছাড়া আর কোনো দল, জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় যে প্রচার তা তারা চালাতে পারছে না। অনলাইনেও বিরোধী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানাভাবে হামলার শিকার হচ্ছেন। একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার তৈরি হয়েছে। যে কোনো মানুষ গুম হতে পারে, ক্রসফায়ারে দেয়া হতে পারে, হামলা-মামলা হতে পারে, নারী-শিশু-ধর্মীয়-নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু একের পর এক নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে ভয়ের বাংলাদেশ হয়েছে, নিরাপত্তাহীনতার শাসন কায়েম হয়েছে। নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না করা হলে, একটা দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ছদ্মবেশে রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলে যাবে। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই না।
নির্বাচনে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আমরা কয়েক দিন ধরে জেনেছি, বিরোধী দলের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, সহিংসতা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ একটু দূরেই দাঁড়িয়ে দেখছে। অন্যদিকে এও দেখা যাচ্ছে, সরকারি সমর্থক প্রার্থীরা প্রচারে গেলে শত শত পুলিশ থাকছে, সরকারি গাড়িসহ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটা করা হচ্ছে। এ রকম একটা অশ্রদ্ধা যদি না থাকত, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতো। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে। ইসি কেন এগুলো দেখে না?
আইনজীবী শাহদিন মালিক বলেন, আইনের শাসনের এবং নীতি নৈতিকতার প্রতি চরম অশ্রদ্ধা বোধ থেকেই বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলার মতো কাজ হচ্ছে। আমরা আহ্বান জানাই এবং চাপ প্রয়োগ করি যাতে প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করে।
বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ‘দমনমূলক পরিবেশ’ বিরাজ করছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। সংগঠনটি বলছে, ব্যাপক মাত্রায় নজরদারি, মুক্তভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বাধার মতো কর্তৃত্বপরায়ণ পদক্ষেপ চলছে। এর ফলে একধরনের ভয়ের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষ সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ওপর সহিংস হামলা চলছে। সরকার এসব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। পুলিশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের আটক ও গ্রেফতার করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ