শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

কূলে এসে তরী ডুবাল টাইগাররা

রফিকুল ইসলাম মিঞা : বিদায়ী বছরের শেষটা রাঙ্গাতে পারলোনা টাইগাররা। কূলে এসেই তরী ডুবাল বাংলাদেশ। অথচ শেষ ম্যাচে একটি জয় বাংলাদেশকে অনেক উপরে নিতে পারত। নিজেদের সেরা সাফল্যের রেকর্ড গড়েই বছরটা শেষ করতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হলোনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে। ফলে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এক সাথে তিন সিরিজ জয়ের রের্কডটা গড়া হলোনা বাংলাদেশের। গতকাল আগে ব্যাট করে ১৯০ রানে অলআউট হয়েছিল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য ১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৭ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ৫০ রানে। শেষ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতায় শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে পারলনা টাইগাররা।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৯১ রানের টার্গেটটা মোটেও বড় ছিলনা। কারণ আগের ম্যাচে ২১১ রান করে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে হঠাৎ ছন্দপতন টাইগারদের ব্যাটিংয়ে। ওপেনার লিটন দাস ছাড়া কোন ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দিকে নিতে পারেননি। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় টাইগাররা। ওপেনার তামিম ইকবাল ৮ রান করে রান আউট হলে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেছেন লিটন কুমার। ফলে এই জুটির উপর নির্ভর করে ৬৫ রানে পৌছাতে পারে টাইগাররা। কিন্তু দলীয় ৬৫ রানে সৌম্য সরকার ৯ রান করে আউট হলে অন্য কোন ব্যাটসম্যান লিটন দাসের সাথে বড় কোন জুটি গড়তে পারেননি। আসা-যাওয়ার মধ্যেই ব্যস্ত ছিল ব্যাটসম্যানরা। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন সাকিব। ফলে ক্রমেই ম্যাচ থেকে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শুধু সাকিবই নয়, ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১ রানে আউট হন মুশফিকও। একদিকে লিটন টিকে থাকার টেস্টা করলেও অন্যরা কেউ তাকে সার্পোট দিতে পানেননি। মাহমুদুল্লা ১১ রানে আউট হওয়ার পর দলীয় ৮৯ রানে মাঠ ছাড়েন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা লিটন দাস। আউট হওয়ার আগে লিটন দাস ২৫ বলে তিন চার আর তিন ছক্কায় সাজান তার ৪৩ রানের ইনিংসটি। সাইফুদ্দিন আর আরিফুল হক নেমে পর পর আউট হলে ৯৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের আশা শেষ করে ফেলে টাইগাররা। তবে শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ আর আবু হায়দার রনি মিলে ৩৩ রানে জুটি করে দলকে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান। কারণ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৭ ওভারে সব কটি উইবেটে হারিযে করতে পারে ১৪০ রান। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ৫০ রানে। মিরাজ ১৯ রান করে আউট হলেও আর আবু হায়দার রনি ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। কেমো পল একাই নেন ৫ উইকেট। এরআগে, টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ঝড়ো গতিতেই ব্যাটিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে টাইগার বোলিং আক্রমণে শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেলতে পারেনি দলটি। ১৯.১ ওভারেই গুটিয়ে গেছে। বোলারদের বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ঝড় তুলেছিলেন ওপেনার এভিন লুইস। তবে এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার জোড়া আঘাতেই বড় স্কোর গড়তে পারেনি দলটি। শেষ দিকে মোস্তাফিজ, সাকিব আঘাত হানলে ২০০ রানের আগেই ফিলতে হয় দলটিকে। আবু হায়দার রনির তৃতীয় ওভারেই ঝড় তোলেন এভিন লুইস। ৪ ছয়ে এক ওভারে তোলেন ২৭ রান। ফলে পাওয়ার প্লের পুরো ফায়দাই তুলে নেয় সফরকারীরা। ঝড় তুলে ১৮ বলে ফিফটি তুলে নেন লুইস। পঞ্চম ওভারে অবশ্য ঝড়ো সূচনায় আঘাত হানেন সাকিব। শেষ বলে বোল্ড হন শাই হোপ। তিনি ফেরেন ১২ বলে ২৩ রান করে। ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি কেমো পলও। মেরে খেললেও আরিফুলের হাতে ধরা পড়েন। দশম ওভারে মাহমুদউল্লাহ ইনিংসের প্রথম ওভারে বল করতে আসলেই সফলতার দেখা পান। ক্যারিবীয়দের ঝড়ো গতির এই ব্যাটিংয়ে জোড়া আঘাত হানেন। শুরুতে বোল্ড করেন লুইসকে। ঝড়ো শুরু এনে দেয়া লুইস ফিরে যান ৩৬ বলে ৮৯ রান করে। তার ইনিংসে ছিলো ৮টি ছয় ও ৬টি চার। পরের ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন শিমরন হেটমায়ারকে। হেটমায়ার রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে বিদায় নেন তিনি। আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যান ফেরেন রানের খেলার আগে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের তৃতীয় উইবেটে শিকার হন রোভম্যান পাওয়েল। ১৯ রানে ব্যাট করতে থাকা পাওয়েলকে ডিপ মিড উইকেটে তালুবন্দী করেন লিটন। এর পরেই ধীরে ধীরে ঝড়ো ব্যাটিং থেকে দূরে সরে যেতে থাকে তারা। তাদের চাপে রাখার কৌশলে সফলতা দেখান মোস্তাফিজুর রহমান। ১৭তম ওভারে বিদায় দেন নিকোলাস পুরান ও ব্র্যাথওয়েটকে। আর শুরুতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা পুরানকে বিদায় দেন মোস্তাফিজ। মেরে খেলতে গিয়ে আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৪ বলে তিনি বিদায় নেন ২৯ রান করে। মোস্তাফিজের এই ওভারের পঞ্চম বলে তার কাটারে পরাস্ত হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। গালিতে ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বিদায় নেন ৮ রানে। রান তখন ১৮৮। শেষ দিকে ৮ রানে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে ফিরান সাকিব। তাকে স্টাম্পড করেন মুশফিক। অভিষেক হওয়া রাদারফোর্ডকেও বিদায় দেন সাকিব। ২ রান করা এই ব্যাটসম্যানের ক্যাচ তুলে নেন মুশফিক। শেষ ওভারে থমাস রান আউট হলে ১৯০ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন।
 সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ----১৯০/১০ (১৯.২ ওভার)
বাংলাদেশ-------- ১৪০/১০ (১৭ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ রানে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ