রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকার দলীয় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মুড়াপাড়া নগড় এলাকায় ঘটে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা। নিহত সুমন মিয়া মুড়াপাড়া নগড় এলাকার মৃত তারা মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, মুড়াপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধের কারনে সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। গত দুই বছর আগে সুমন মিয়া মাদক ব্যবসাসহ অপরাধ ছেড়ে দিয়ে নিজ এলাকায় হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারের ব্যবসা শুরু করে। এর আগে, বেশ কয়েক বছর ধরেই মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুড়াপাড়া নগড় এলাকার সজল, তুষার, সাদ্দাম, রবিন, কবিরের সঙ্গে সুমন মিয়ার বিরোধ চলে আসছিলো।
আর ওই বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সজল, তুষার, সাদ্দাম, রবিন, কবির, বাসুসহ তাদের লোকজন হাঁস-মুরগী ও মাছের খামারের সামনে রামদাসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুমনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় সুমনকে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে হামলাকারীরা সুমনের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর চালায়।
নিহত সুমনের ফুফু আছমা বেগম জানান, সুমনের উপর অতর্কিত হামলা করার সময় তার ছেলে ফালান মিয়া বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ফালানের উপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এসময় ফালান দৌড়ে পালিয়ে প্রানে বেঁচে যায়।
এ ঘটনার পর মুড়াপাড়াসহ আশ-পাশের এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, সুমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জহিরুল ইসলাম মুড়াপাড়া এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে।
নিহত সুমন মিয়ার মা নার্গিস বেগম জানান, তার ছেলে সুমন বর্তমানে সৎ পথে উপার্জন  করে সংসার চালাচ্ছিল। সন্ত্রাসীরা সুমনকে হত্যা করে মা নার্গিস বেগম, স্ত্রী সোহানা ও ছেলে আজমির হীলাকে এতিম করে দিয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের পর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হক জানান, আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ