রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঝালকাঠি ভোটের মাঠে প্রতীক আছে নেই প্রার্থী ও কর্মীদের তৎপরতা

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি : প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর ঝালকাঠির দুটি আসনে চুড়ান্ত প্রার্থী ১০ জনের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রার্থীরা হলেন, ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে আওয়ামীলীগের  হেভিওয়েট নেতা শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু (নৌকা), বিএনপির জীবা আমিনা খান (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এম এ কুদ্দুস খান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম (হাতপাখা) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জাহাঙ্গীর হোসেন খান (আম) এবং ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক (নৌকা), বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম ধানের (শীষ), জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এম এ কুদ্দুস খান (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রবীর কুমার মিত্র (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী (হাতপাখা)। নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা তাদের স্ব স্ব আসনের ভোটের মাঠে সরব ও সক্রিয় থাকলেও অন্যরা অনেকটাই নীরবে আছেন। তৃতীয় পর্যায়ের প্রচারণায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে থাকলেও জনবিচ্ছিন্ন রয়েছে জাতীয় পার্টি ও এনপিপি’র প্রার্থীর।
ঝালকাঠির দুটি আসনে মহাজোটের প্রার্থী থাকলেও প্রার্থী মনোনয়ন দেয় মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সাবেক এমপি রাজাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বজলুল হক হারুন এবং ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে মনোনয়ন দেয় মহাজোট। এ দুটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা মন্ত্রী ও সাবেক এমপি হওয়ায় তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ যাবতীয় কর্মকান্ডে অংশীদার থাকতেও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা এমএ কুদ্দুস খানকে মনোনয়ন দেয়। তিনি ঝালকাঠি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমাদান, বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের কোন পর্বেই উপস্থিত ছিলেন না। জেলা জাতীয় পার্টির কয়েক নেতা তার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মাইকে শহর কেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণা চালালেও নেই কোন পোস্টার এবং নেতাকর্মীদের গণসংযোগ। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন। অনেকে বলছেন, “এবার বিএনপি জোটের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকরা একটু নড়েচড়ে উঠেছেন। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানান তারা।” একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সাবেক এমপি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাজাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বজলুল হক হারুন। দুটি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান উপদেষ্টা এমএ কুদ্দুস খান কাগজ-কলমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠে নেই প্রার্থী এবং জাপা নেতাকর্মীরা। কোনো ধরনের তৎপরতা, সাংগঠনিক মিটিংও নেই জাতীয় পার্টির জেলা কমিটি বা উপজেলা সাংগঠনিক কমিটিরও। অপরদিকে দুটি আসনেই ন্যাশনাল পিপলস পার্টির পৃথক প্রার্থী থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে আদৌ নেই কোন প্রচারণা। জেলা উপজেলায় নেই কোন সাংগঠনিক তৎপরতাও। ঝালকাঠি জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাধারন সম্পাদক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন জানান, আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রত্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনী আরচরণ বিধি মেনে বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়েছে, মাইকেও প্রচার-প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর হওয়ায় তিনি বরিশাল ৫ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২০ তারিখে তিনি ঝালকাঠিতে গণসংযোগ করবেন। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের প্রার্থী  ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল হুদা ফয়েজীর পক্ষে নেতাকর্মীরা গণসংযোগ ও মাইকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে মাঠে প্রার্থীর তৎপরতা নেই বলে জানা গেছে।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের প্রার্থী প্রবির কুমার মিত্র জানান, নির্বাচনী ইশতেহার ১৩ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। সে কারণে ঢাকায় ছিলাম। আমরা নতুন দল বিধায় জনসাধারণের মাঝে আমাদের পরিচিতিটাই মূল উদ্দেশ্য। আমাদের পোস্টার এখনও এসে পৌঁছেনি। বিজয় দিবসের পরে পোস্টার এলে আমরা প্রচার-প্রচারণার কাজ করবো। রাজাপুর-কাঠালিয়ায় এখনো সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।  জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা ও ঝালকাঠির দুটি আসনে লাঙ্গল প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এমএ কুদ্দুস খান’র কাছে ভোটের মাঠে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা নির্বাচনের মাঠে কতটা সুস্থ অবস্থায় আছি? মহাজোটের মনোনয়ন, দলীয় মনোনয়ন, চেয়ারম্যানের অসুস্থতা সবমিলিয়ে অসুস্থ পরিবেশে আছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ