রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানুষকে জিম্মি করে এই ধরনের নির্বাচন কেন?

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ১৭ ডিসেম্বর : চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী কারাবন্দী নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেনের বাসায় রবিবার গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশি ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এসময় বয়োবৃদ্ধ মা এবং বাসার দুই কাজের মেয়ের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। পুলিশী হামলার প্রতিবাদে গত সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে কারাবন্দী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মা শায়েস্তা খাতুন এ সব অভিযোগ করেছেন।
নগরীর বাদশা মিয়া চৌধুরী রোডস্থ ডা: শাহাদাতের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন তিনি অভিযোগ করেন, “গত রাত তিনটার দিকে বাসায় অনবরত কলিং বেল বাজতে থাকে।
অসুস্থতার কারণে আমি ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাই। এ অবস্থায় বাহিরে কে জিজ্ঞাসা করলে বলা হয় ‘আমরা পুলিশ’। আমি বললাম বাসায় দুই কাজের মেয়ে নিয়ে থাকি। ঘরে কোনো পুরুষ লোক নেই। ডা: শাহাদাতকে ধরে নিয়ে গেছেন। এরপরও কেন আসছেন। আমি দরজা খুলবো না। তারা বললো, আমরা প্রয়োজনে দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করবো। এরপর দরজা খুলে দিলে ৮-১০ জন পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি করতে থাকে।
এক পর্যায়ে তারা আমার বাসার দক্ষিণ পাশের বাথরুমে ভাংচুর চালায়। আমার কাজের মেয়েদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে পুলিশরা আমি এবং আমার কাজের মেয়েদের থেকে সাদা কাগজে সই ও টিপ সই নেয়।”
 তিনি সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে জেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কোন ধরনের প্রচারণা আমরা চালাতে পারছি না। প্রতিনিয়ত দলের কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচরণার কাজে ব্যবহৃত সিএনজি ভাংচুর ও ৫ জন কর্মীকে এ পর্যন্ত ছুরিকাঘাত করেছে। কোথাও একটি পোস্টারও লাগাতে দিচ্ছেনা। রাতের বেলায় পুলিশ নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বাসায় গিয়ে তল্লাশি করছে।”
শায়েস্তা খাতুন প্রশ্ন রেখে বলেন এই ধরনের নির্বাচন আমার এই বার্ধক্য জীবনে দেখিনি। মানুষকে জিম্মি করে এই ধরনের নির্বাচন কেন? তিনি ডা: শাহাদাতের মুক্তি ও তার নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম, সাবেক সহসভাপতি বদরুল আনোয়ার, নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এড. নাজিম উদ্দিন, নগর বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: সারওয়ার আলমসহ তাঁর স্বজনরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ