শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বরিশালে বাড়ছে শীতের তীব্রতা থমকে যাচ্ছে জনজীবন

বরিশাল অফিস : বরিশালে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। টানা তিনদিন ধরে শীতের প্রচন্ড তীব্রতা অনুভব করা যাচ্ছে। এদিকে শীত জেঁকে বসায় সংকিত হয়ে পড়ছেন প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষ। মৌসুমের প্রথমে কিছুটা কম থাকলেও গত দু’দিনে সাগরে নি¤œ চাপের কারণে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে সাথে বইছে হিমেল বাতাস।  

এদিকে প্রচন্ড শীতের কারণে বরিশালের মানুষের জনজীবন থমকে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহ ও মৃদু বাতাসের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। তীব্র শীতের কারণে গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা ক্রেতার সাড়া পাচ্ছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় থাকা প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। তারা বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শীতের মধ্যেও চালাচ্ছেন গণসংযোগ।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’র প্রভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া কিছুটা বৈরী হয়েছে। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে আকাশ অনেকটাই গোমড়া ছিল। সেইসঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি গতকালও হয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করবে বলে জানাগেছে। গতকাল বুধবার বরিশালের আকাশে কিছুটা সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে উত্তরের বাতাসের সাথে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে।

এদিকে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে- প্রচন্ড শীতের কারণে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের লোকজন। প্রতিদিন তাদের সংখ্যাও বাড়ছে। শীতের তীব্রতা আরো কয়েকদিন একই অবস্থায় থাকলে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি ব্যাংকে কর্মরত রাজু খান বলেন, পৌষের প্রারম্ভের এমন বৃষ্টি জাঁকিয়ে বসায় সকালে অফিসে যেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, হাড় কাঁপানো শীত কিছুক্ষণের জন্য সূর্য উঁকি দিলেও তাতে তেমন তেজ নেই। দিনভর বাতাসে শীতের দাপট। বেলা গড়াতেই বাড়তে থাকে ঠান্ডা। ঘর থেকে বেরোলেই শরীরে কাঁপন ধরে, শীত ও ঘন কুয়াশায় কাবু জনজীবন।

অপরদিকে নগরী ঘুরে দেখা গেছে- শীতের আক্রমণে মানুষ রীতিমতো জবুথবু। গায়ে গরম কাপড় ও টুপি পরে তারা শীতের দাপট থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড ও বস্তিগুলোর সামনে ছিন্নমূল মানুষ কাগজ-খড়কুটো পুড়িয়ে একটু ঊষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খেটে খাওয়া মানুষ পাচ্ছেন না ঠিক মতো কাজ। হতদরিদ্র আলেয়া বেগম বলেন- গরিবের জন্য এ দুনিয়ায় কেউ নাই। প্রতিবারই কম্বল পাই। এবার তাও কেউ দেয়নি। আল্লাহ কপালে রাখলে বাঁচমু, আর না হইলে শীতের মধ্যেই একদিন মইরা যামু।

বরিশাল আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান গতকাল বুধবার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’র প্রভাব ও পুরোপুরি শীত মৌসুম চলে আসায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমছে। বুধবার বরিশালের তাপমাত্রা ১৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি জানান, শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়বে। সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসবে শৈত্যপ্রবাহ।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ