মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার ষড়যন্ত্র করছে -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ করে রিজভী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীকে ৬৩ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, আনসার বাহিনীকে ১৬৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, কোস্টগার্ডকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিজিবিকে ৩৩ কোটি ২ লাখ এবং র‌্যাবকে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গুঞ্জন আছে সেনাবাহিনীর নামে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তাদেরকে ব্যারাকেই রাখার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটি নির্বাচন নিয়ে অশুভ মহাপরিকল্পনার পূর্বলক্ষণ।
রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে পুলিশকে দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির নীল-নকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে সরকার । পুলিশের সদরদপ্তরে দিনে রাতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। নৌকার বিজয় ছিনিয়ে দিতে পারলে পুলিশের এসি, এডিসি, ওসিদের পদোন্নতি এবং নগদ অর্থের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নির্দেশনা কার্যকরে তদারকি করার জন্য পুলিশ সদরদপ্তরে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেওয়া ও ভোট কারচুপি করার বিষয়ে নীল নকশার উদ্ভাবন করে তা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রলীগের বাছাই করা দশ হাজারের বেশি ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা ভোটের সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে পারে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত প্রলোভনে পড়ে দেশ ও গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দেবেন না। শুধু নিজেদের স্বার্থের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিহ্ন করবেন না। মানুষের পাশে দাঁড়ান। নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে এখনই মাঠে নামানোর আহ্বানও জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে রিজভী বলেন, সরকারের কারসাজিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশে সর্বগ্রাসী স্বৈরতন্ত্রে কোন প্রতিষ্ঠানই তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারছে না। সরকারী সন্ত্রাসের প্রকোপে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলি স্বাচ্ছন্দে তাদের কর্তব্য পালন করতে পারছে না। মানুষের বেঁচে থাকার সকল অবলম্বনকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এক ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডুবে যাচ্ছে।
জনবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার সারাদেশে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে পুলিশকে দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির নীল-নকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। পুলিশের সদর দপ্তরে দিনে রাতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। আমাদের কাছে বিশ^স্ত সূত্রের মাধ্যমে খবর আছে, নৌকার বিজয় ছিনিয়ে দিতে পারলে পুলিশের এসি, এডিসি, ওসিদের প্রোমোশন এবং নগদ অর্র্থের প্রলোভন দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্দেশনা কার্যকরের তদারকী করার জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। নির্বাচনকে কিভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেওয়া যায়, কীভাবে কারচুপি করা যাবে-সে বিষয়ে নীল নকশার সাধারণ সূত্র উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রলীগের বাছাই করা দশ হাজারের বেশী ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে-ভোটের সময় ডিবি পুলিশের সাথে কাজ করার জন্য।
রিজভী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ডিএমপি ডিবির জয়েন্ট কমিশনার, এডিসি ও তার অধিনস্থ এসি’দের বলেছেন যে, যদি তারা তাদের দায়িত্বাধীন কেন্দ্রে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারে, তবে প্রত্যেকে পাঁচ লাখ করে টাকা দেয়া হবে। -এটা ভয়াবহ উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার বিষয়। অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের দল অনুগত কর্মকর্তাদের ভুমিকায় সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ - ব্যক্তিগত লাভ ও প্রলোভনে পড়ে দেশ ও গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিবেন না। শুধু নিজেদের স্বার্থের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিহ্ন করবেন না। মানুষের পাশে দাঁড়ান। অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর কথা শুনে মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে গলাটিপে ধরার যন্ত্র হিসেবে কাজ করবেন না। নাগরিক স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করুন। আপনার দেশপ্রেম প্রমানের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে ৩০ ডিসেম্বর।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ন্যুনতম নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চাইলে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে আজই মাঠে নামাতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো দাবী পুলিশের সদর দপ্তরে বসে যারা কুপরিকল্পনা করছে, তাদেরকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে।  আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীকে ৬৩ কোটি ২২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, আনসার বাহিনীকে ১৬৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, কোষ্টগার্ডকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিজিবি’কে ৩৩ কোট ২ লাখ এবং র‌্যাব-কে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গুঞ্জন আছে-সেনাবাহিনীর নামে কোন বরাদ্দ না দিয়ে তাদেরকে ব্যারাকেই রাখা হবে। এটি একটি অশুভ মহাপরিকল্পনার নির্বাচন করারই পূর্বলক্ষণ।
সারাদেশে হামলা মামলার চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, কক্সবাজার জেলা ঃ ভয়ানক নিরাপত্তাহীনতায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে পারছেন না কক্সবাজার-১ (চকোরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাসিনা আহমেদ। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাফর প্রকাশ (বাইট্টা জাফর) তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পথে পথে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাসিনা আহমেদ এর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলা করছে। বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ঢাকার বাসভবন ঘিরে রেখে তাকে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল পুলিশ। বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর সরফত আলী সুপুকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আবারও দু’দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।  কোন মামলা কিংবা দলের সঙ্গে জড়িত না হয়েও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. শাহিদা রফিকের প্রতিষ্ঠান আই এস টি’র প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আ স ম রাশেদুল হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং সিরাজগঞ্জ সদর আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী’র নির্দেশে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে সারা সিরাজগঞ্জ শহরে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে প্রতিনিয়ত আওয়ামী ক্যাডারদের হামলা, ভাংচুর ও নির্যাতন চলছে। আর এক্ষেত্রে আওয়ামী ক্যাডারদের সহযোগিতা করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা দুরের কথা, বিএনপি’র প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না তারা।
শেরপুর জেলায় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নালিতাবাড়ি থানাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রুশোর খোঁজে তাদের বাড়ি ও কাউন্সিলর কার্যালয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ