মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কয়রা-পাইকগাছায় নৌকা প্রতীকের নির্বাচন অফিসে বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ

* নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা নিজেরাই বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে
খুলনা অফিস : খুলনার কয়রার নারায়নপুর  গ্রামে নৌকা প্রতীকের কার্যালয় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ ও পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর মোড়ে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
তবে, এ ঘটনা দু’টি সম্পূর্ণ সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত বলে জানিয়েছে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট এডভোকেট লিয়াকত আলী। তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ধানের শীষের কর্মীদেরকে গ্রেফতার ও এলাকা ছাড়া করে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা নিজেদের কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ দিকে কয়রার নারায়নপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিনসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক এবং অজ্ঞাত ৮০/৯০ জনকে আসামী করে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ সরদার বাদি হয়ে পৃথক দু’টি মামলা এবং গদাইপুর মোড়ের বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গদাইপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ এ দু’টি ঘটনায় জামায়াত নেতা এডভোকেট আব্দুল মজিদ, সরদার আব্দুল মজিদ ও ডা. আব্দুস সাত্তারসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা গদাইপুর মোড়স্থ নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে কয়েকটি ককটেল জাতীয় বোমার বিস্ফোরন ঘটায় ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে তৈরীকৃত নৌকা, চেয়ার ও অফিসের বেড়া পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান বাবু। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফি উল্লাহ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজাহারুল ইসলাম, জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নব কুমার ও উপজেলা নির্বাহী ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জুলিয়া সুকায়না।
এ ঘটনায় প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গদাইপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা এডভোকেট আব্দুল মজিদ, সরদার আব্দুল মজিদ ও ডা. আব্দুস সাত্তারসহ ৮ জনকে আটক করেছে।
অপরদিকে কয়য়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক এবং অজ্ঞাত ৮০/৯০ জনকে আসামী করে কয়রা থানায় নারায়নপুর গ্রামের মোক্তার সরদারের ছেলে আবু সাঈদ সরদার বাদি পৃথক দু’টি মামলা করেছে। মামলা নং ৬/৭ তারিখ ১৭/১২/১৮। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে উপজেলার নারায়নপুর বাজারের খোদাবক্সের বিল্ডিংয়ে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনার অফিসে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। এ সময় টহলরত থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ৭ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো-গিলাবাড়ির মাহফুজুর রহমান, রেজাউল করিম, সরিষামুট গ্রামের নূরুল ইসলাম, একই গ্রামের আবুল সানা, শেখ সরদার পাড়ার অজিফুর রহমান, কালিকাপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, দেয়াড়া ফারুক সানা। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবিস্ফোরিত চারটি বোমা, একটি চাপাতি, একটি ছোরা, একটি রাম দা, প্লাস্টিকের চেয়ারের পোড়া অংশ, ২০টি লিফলেট, ১০টি ভাঙা চেয়ার ও বিস্ফোরিত ১৫টি বোমার আলামত উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে আট দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ব্যাপারে কয়রা থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কয়রা ও পাইকগাছায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, কয়রায় আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুরের অভিযোগ কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশেই এমন মিথ্যা ঘটনা ঘটিয়ে মামলা করে নেতাকর্মীদের হয়রানীর উদ্যোগ নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বুঝে গেছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় হবে। তাই নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গণগ্রেফতার শুরু করেছে। এসব বিষয় নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের ইশারায় নির্বাচন কমিশন চলছে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে পারেনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জনসমর্থন হারিয়ে এখন দিশেহারা। নেতৃবৃন্দ এসব কর্মকান্ড থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনে মতামত দানের সুযোগ দানের দাবি জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এডভোকেট লিয়াকত আলী, খুলনা দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, আওসাফুর রহমান প্রমুখ।
অপরদিকে পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যম কর্মীরা কেন্দ্রের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি পেলেও কেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে থেকে লাইফ সম্প্রচার করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ