শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে -মির্জা ফখরুল

কুমিল্লা অফিস : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জেল জুলুম গুলী করে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না, ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। ইসি মাহবুব বলছেন লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নেই অথচ সিইসি বলছে মাহবুবের কথা মিথ্যা। মির্জা ফখরুল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বলেছে দেশের এতো উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে তাদের এতো ভয় কেন। প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়নের চেয়ে আ’লীগের নেতাকর্মীদের উন্নয়ন বেশি হয়েছে, মেগা প্রকল্পের নামে এবং শেয়ারবাজার, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে, বার বার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম, কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, এই ইসি দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তিনি আরো বলেন জনগন যদি জেগে উঠে অস্ত্র দিয়ে আমাদেরকে পরাজিত করা যাবেনা, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা প্রদান করা হবে, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং সারের দাম কমানো হবে। বুধবার কুমিল্লার সুয়াগাজিতে এক পথসভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। সভায় ঐক্যফ্রন্টের অপর নেতা বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকী বলেন, পাকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধে জয়ী হয়েছি, এবার হাসিনা সরকারের সাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ, পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতনের সমালোচনা করে বঙ্গবীর বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর এদেশের মানুষের মুক্তির দিন। শেখ হাসিনা একটি ভোটের জন্য মানুষ মারে। একাত্তরে পাকিস্তানীদের পরাজিত করে আমরা জয়ী হয়েছিলাম, ৩০ ডিসেম্বরও আমাদের গণতন্ত্রের জয় হবে। পুলিশের গ্রেফতার নির্যাতনের কথা বলে তিনি বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। সরকার ভয় পেয়ে গেছে, তাই রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি এ ধরণের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে দলের কারাবন্দী প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, একাত্তর দেখিনি, ২০১৮ দেখেছি। গণতন্ত্র মানে কি হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া, রাতের অন্ধকারে মায়ের বুক থেকে সন্তানকে কেড়ে নেয়া? আমরা আজ গণতন্ত্র আর মানবতার মুক্তির সংগ্রাম করছি। ৩০ তারিখে আমরা বুলেটকে ভয় পাবো না, ধানের শীষের জন্য কেন্দ্র পাহাড়া দেব। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র, বেগম খালেদা জিয়া ও আমার বাবাসহ কারাবন্দী নেতাদের মুক্তির জন্য সকল প্রকার ভয়কে জয় করে কেন্দ্রে যাবেন, আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। ৩০ তারিখের নির্বাচনে আপনারা আমার বাবাকে একটি ভোট দিয়ে মুক্ত করবেন, আমরা বাবাকে পাঁচ বছরের জন্য আপনাদের নিকট ফিরিয়ে দেব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, কুমিল্লা-১০ আসনের কারাবন্দী বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর কন্যা ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খাঁন, মোস্তাক মিয়া, সামসুদ্দিন দিদার, মোস্তফা খান সফুরী, আবুল বাশার প্রমুখ। এর আগে জেলার চান্দিনায় এক পথ সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের জন্যে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের নামে একটা প্রহসনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সকল অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে, গণমাধ্যমের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, খালেজা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সারা জিবন কস্ট করেছেন কিন্তু সরকার অন্যায়ভাবে তাকে জেলে বন্দী করে রেখেছেন।
লাঠি আর মামলা করে জনগণকে ঠেকানো যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা নির্বাচনকে ভয় পায়। অপনারা খালেদা জিয়ার মনোনীত প্রার্থী রেদওয়ান আহমদকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এ নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন বানাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। জনগণকে বোকা ভাববেন না। জনগণের ঐক্যে সবকিছু ছারখার হয়ে যাবে। জনগণের কাছে কোনো চক্রান্তই কাজ হবে না। ৩০ ডিসেম্বর সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এখন টাকা আর আওয়ামী লীগ ছাড়া চাকরি পায় না। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত বেকার ভাতা চালু করবো। বিনা পয়সায় নাগরিকদের চিকিৎসা দেয়া হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। দাড়ি-টুপি পরলেই নাকি জঙ্গি, এটা তার ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিশদলীয় ঐকজোটের চান্দিনা উপজেলা শাখার সমন্বয়ক ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মফিজ উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এলডিপির মহাসচিব ও ঐক্য ফ্রন্টের কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনের প্রার্থী ড. রেদওয়ান আহমেদ। কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজি এম মুজিবুল হক প্রমুখ। এর আগে তিনি দাউদকান্দিতে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পথসভায় বক্তৃতাকালে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, কুমিল্লা -১ ও ২ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। শত প্রতিকুলতার মাঝেও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচারনা চালানো এবং গণজোয়ার সৃষ্টির জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান। দাউদকান্দি বিশ্বরোডে এসে পৌঁছলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ড. মোশাররফের ছেলে বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। এই সময় ড. মারুফের নেতৃত্ব্ কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, বিএনপি নেতা একেএম শামছুল হক, দাউদকান্দি বিশ্বরোডের পথসভাটি লোকে লোকারণ্য হয়ে বিশাল জনসভায় রূপ নেয়।
এদিকে মির্জা ফখরুলের আগমন ও নির্বাচনকে ঘিরে এ জনসভা উৎসবে পরিণত হয়। নানা স্লোগানের মুখরিত হয় সভাস্থল। সবার জন্য সমান সুযোগ করে দিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা। তারা আশা করেন অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচনে সুষ্টু পরিবেশ বজায় রাখতে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আর ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ