মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যেনতেনভাবে নয় জনগণের ভোটে আবারও ক্ষমতায় আসতে চাই -শেখ হাসিনা

* বিএনপি ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, সতর্ক থাকতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেনতেনভাবে নয়, জনগণের ভোটে আবারও ক্ষমতায় আসতে চাই। আবার ক্ষমতায় এলে আমরা প্রতিটি সেক্টরে কীভাবে উন্নয়ন করব এবং দেশের অর্থনীতি কীভাবে শক্তিশালী করব এজন্য আওয়ামী লীগের একটি নীতিমালা আছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য।’
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বুধবার দুপুরে ব্যবসায়ীদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহ-সভাপতি সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে গত ১০ বছরে দেশের বিভন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- আনিসুর রহমান সিনহা, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, একে আজাদ, আতিকুল ইসলাম, টিপু মুন্সি, প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুবানা হক, আহমেদ আকবর সোবহান, সাইফুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আবদুল মুক্তাদির, মাইকেল পলি, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি কী পেলাম না পেলাম সেটা নিয়ে চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কী করে গেলাম, কী রেখে গেলাম। কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হয় সেদিকেই আমার লক্ষ্য। দুর্নীতি করে নিজের জীবনমান উন্নয়ন করায় আমি বিশ্বাসী নই।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘গ্রামীণ জনগণের স্বচ্ছলতা বাড়াতে চায় আওয়ামী লীগ সরকার। এ জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার তা করবে। আমরা চাই, বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। আমরা চাই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।’ নির্বাচনে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সে জন্য সবার সাহায্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাংক, বীমা, টেলিকমিউনিকেশন কীভাবে ব্যবসা করতে পারে সে জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছি।’
 শেখ হাসিনা বলেন  ‘আমার এমন কোনো আকাক্সক্ষা নেই যে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে হবে। জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ। যদি না পারি কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু দেশে শান্তি বজায় থাকুক।’
এখন সুন্দর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। শান্তিপূর্ণভাবে যেন নির্বাচনটা হয়, সেই পরিবেশটা যেন থাকে। এখানে জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে।
শেখ হাসিনা বলেন ‘তার পরও আমি বলব, আজকে এতগুলো কাজ হাতে নিয়েছি। আমরা কোনো দিক বাদ রাখিনি। অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়েছি। সেটা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি।’
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করব, এই সুযোগ আমি দেশবাসীদের কাছে চাই।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার আরেকবার সুযোগ দিন, আমরা উন্নয়নের কাজগুলো যেন শেষ করতে পারি। যদিও এর কোনো শেষ নেই। উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, তবুও যে কাজগুলো হাতে নিয়েছি, তা যেন শেষ করতে পারি, এটাই আমি চাই।’
বাংলাদেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড।’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানটা যদি দেখেন তাহলে দেখবেন ইউরোপের একদিক থেকে আরেকদিকে যেতে গেলে সুইাজারল্যান্ডকে ব্যবহার করতে হয়। একটা শান্তিপূর্ণ দেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকেই সেভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।’
বঙ্গবন্ধু প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ রচনা করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সে উন্নয়নের কাজও আমরা হাতে নিয়েছি।’
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস থাকলে দেশে কোনো উন্নতি হয় না। কাজেই আমরা চাই দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক।’
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই সরকারের ধারাবাহিকতা। যে নেতৃত্ব আমাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দিতে পারবে, ব্যবসায়িক পরিবেশ দিতে পারবে আমরা সেই নেতৃত্ব চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২৬তম অর্থনৈতিক সদস্য দেশে পরিণত হবে। যে নেতৃত্ব ডেল্টা প্লান দিতে পারে, বিদ্যুৎ জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারে আমরা সে নেতৃত্ব চাই।’
 এদিকে পিরোজপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌকা ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোট চেয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির সময় বাংলা ভাইয়ের উত্থান হয়েছিল। জঙ্গি, আগুন-সন্ত্রাস তাদের সঙ্গী। তারা ক্ষমতায় এলে আবার এগুলো প্রতিষ্ঠা পাবে। বিকেলে পিরোজপুর শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে এ ভিডিও কনফারেন্স হয়। রাজধানী ঢাকার সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্স করেন।
এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, পিরোজপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী, পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা মার্কা ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে আমরা উন্নয়ন করেছি। প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পিরোজপুরে বিসিক শিল্পনগরী ও শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আমরা বিনা মূল্যে বই ও প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনা মূল্য ওষুধ দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছি। মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস আলবদরদের বাংলার মাটিতে জায়গা হবে না। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে পিরোজপুরের মাটিকে অভিশাপমুক্ত করেছি। বিএনপি ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তারা সন্ত্রাস করবে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার চেতনা নস্যাৎ করে ধ্বংস করে দেবে। বিএনপির সময় বাংলা ভাইয়ের উত্থান হয়েছিল। জঙ্গি, আগুন-সন্ত্রাস তাদের (বিএনপি) সঙ্গী। তারা ক্ষমতায় এলে আবার এগুলো প্রতিষ্ঠা পাবে।
বক্তারা পিরোজপুরে ট্রেন লাইন সম্প্রসারণ, গ্যাস-সংযোগ, বলেশ্বর নদ খনন ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, বলেশ্বর নদও খনন করে দেওয়া হবে।
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার বলেন, একসময় বাংলাদেশে ছয় কোটি মানুষ ছিল। তখন মানুষ ঠিকমতো খেতে পেত না। দুটি কাপড় কিনতে পরত না। এখন দেশে ১৭ কোটি মানুষ খেয়ে-পরে ভালো আছে। স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছে।
পিরোজপুর-১ আসনের শ ম রেজাউল করিম নৌকা, পিরোজপুর-২ আসনের মহাজোট প্রার্থী পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বাইসাইকেল এবং পিরোজপুর-৩ আসনের জাপা প্রার্থী সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পিরোজপুরে সবাইকে নৌকা নিতে বলেছিলাম। কিন্তু একজন বাইসাইকেলে চড়েছেন। সবাই নৌকার প্রার্থী হলে ভালো হতো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ